নেতৃত্ব

আন্দোলনের নেতা

আপডেট : ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০২:৩৯ এএম

বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনীতে আছে, ১৯৩৮ সালের ঘটনা। শেরেবাংলা ও সোহরাওয়ার্দী গোপালগঞ্জে আসবেন। সংবর্ধনার জন্য স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী করার ভার পড়ল বঙ্গবন্ধুর ওপরে। সবাইকে নিয়ে বাহিনী গড়লেও হিন্দু ছাত্ররা সরে গেল। মূলত হক সাহেব মুসলিম লীগের সঙ্গে মন্ত্রিসভা গঠন করেছেন বলে হিন্দুরা ক্ষেপেছিল। বঙ্গবন্ধুর ভাষ্যমতে, ‘এতে আমার মনে বেশ একটা রেখাপাত করল’। এখান থেকেই টুঙ্গিপাড়ার খোকার রাজনীতির দীক্ষা গ্রহণ শুরু। ক্রমেই তিনি খোকা থেকে শেখ মুজিব, শ্যাখের ব্যাটা, শেখ সাহেব, বঙ্গশার্দূল, বঙ্গবন্ধু এবং জাতির পিতা হিসেবে কোটি মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছেন। বিশ শতকের চল্লিশের দশক থেকে শুরু করে পাকিস্তান আন্দোলন, ভাষা আন্দোলন, যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, ছয়দফা আন্দোলন, ঊনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থান ও মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে তিনি হয়ে উঠেছিলেন বাঙালির মুক্তিসংগ্রামের প্রতিভূ ও অনন্যসাধারণ মুক্তিনায়ক (নূহ-উল-আলম লেনিন; ‘রাজনীতিতে হাতেখড়ি ও কলকাতায় শেখ মুজিব’, প্রসঙ্গ কথা)।

কিশোর বয়সেই বঙ্গবন্ধুর মধ্যে মানুষের জন্য ভালোবাসা, এক ধরনের প্রতিবাদী মনোভাব এবং দেশপ্রেমের স্ফুরণ দেখতে পাওয়া যায়। ১৯৩৮ সালে তিনি মাত্র ১৮ বছরের কিশোর। তখনকার প্রধানমন্ত্রী (মুখ্যমন্ত্রী) ফজলুল হক ও শ্রমমন্ত্রী সোহরাওয়ার্দী গোপালগঞ্জ মিশন স্কুল পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি স্কুলের ছাদ থেকে পানি পড়া এবং ছাত্রাবাসের সমস্যা তাদের কাছে তুলে ধরে কিশোর শেখ মুজিব সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সক্ষম হন। ফজলুল হক ও সোহরাওয়ার্দীর সংবর্ধনা উপলক্ষে গঠিত স্বেচ্ছাসেবক বাহিনীর নেতৃত্বের দায়িত্ব পড়ল বঙ্গবন্ধুর ওপর। এ নিয়ে স্থানীয় কংগ্রেসীদের সঙ্গে বিরোধ এবং তাদের ইন্ধন ও মিথ্যা অভিযোগের ভিত্তিতে কিশোর বয়সেই জীবনের প্রথম কারাবরণ করেন (শেখ মুজিবুর রহমান, আমার দেখা নয়া চীন, পৃষ্ঠা-১২৬, বাংলা একাডেমি, ২০২০)। তারপর থেকে বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনে বঙ্গবন্ধুকে অসংখ্যবার কারাগারে যেতে হয়েছে। কারাগার, রাজনীতি ও সংসারজীবন ছিল বঙ্গবন্ধুর গায়ে গায়ে লাগানো (আতিউর রহমান, সিক্রেট ডকুমেন্টস : সংক্ষিপ্ত ও সরল পাঠ, পৃষ্ঠা-১৫১, অন্যপ্রকাশ, ২০২১)।   

যে সংগঠনেই হাত দিয়েছেন, যে দায়িত্বই পালন করেছেন, দায়িত্ব, কর্তব্য ও নিষ্ঠায় অন্যদের তো বটেই, নিজেই নিজেকে অতিক্রম করেছেন, ছাড়িয়ে গিয়েছেন সময়কেও। বঙ্গীয় প্রাদেশিক মুসলিম লীগের সেক্রেটারি আবুল হাশিম, তার ‘আমার জীবন ও বিভাগপূর্ব বাংলাদেশের রাজনীতি’ বইয়ের ৫৯ পৃষ্ঠায় লিখেছেন, ‘ইউসুফ আলী চৌধুরী মোহন মিয়া ও এডভোকেট আব্দুস সালাম খান ফরিদপুর মুসলিম লীগের প্রেসিডেন্ট ও সেক্রেটারি ছিলেন এবং দুজনেই ঢাকার খাজাদের প্রতিক্রিয়াশীল দলের প্রতিনিধি ছিলেন। ফরিদপুর মুসলিম লীগের মধ্যে একটি শক্তিশালী বামপন্থী গ্রুপ সংগঠিত করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল শেখ মুজিবুর রহমানের ওপরে। শেখ মুজিবুর রহমানকে খুবই কঠিন দায়িত্ব পালন করতে হয়েছিল। প্রতিক্রিয়াশীলরা অনিয়মতান্ত্রিক এবং চরমপন্থা অবলম্বন করত। শেখ মুজিবুর রহমানকে প্রয়োজন বোধে আক্রমণ মোকাবিলা করতে গিয়ে প্রতি-আক্রমণ করতে হতো।’ এটা ১৯৪৪ সালের ঘটনার প্রেক্ষিতে লেখা।

১৯৪৩ সালে নিখিল ভারত মুসলিম লীগ সিদ্ধান্ত নিল যে, যারা মন্ত্রী বা এ জাতীয় পদে অধিষ্ঠিত তারা পার্টির কোনো সাংগঠনিক পদে থাকতে পারবেন না। হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী তখন বঙ্গীয় প্রাদেশিক মুসলিম লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সিভিল সাপ্লাই মন্ত্রী। তাকে যে কোনো একটা বেছে নিতে হবে। তিনি মন্ত্রী পদে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। ১৯৫৬ সালে আওয়ামী লীগের অনুরূপ সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে বঙ্গবন্ধু মন্ত্রিত্ব ছেড়েছিলেন, দলের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছিলেন। নেতা হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর সঙ্গে শিষ্য শেখ মুজিবের এখানেই ফারাক। অনেকেই মহাত্মা গান্ধীর সঙ্গে তুলনা করেন। গান্ধীজির জীবন ও রাজনীতির অনেকখানিই ধর্মাশ্রয়ী। বঙ্গবন্ধু সাতচল্লিশেই এই ধর্মভিত্তিক রাজনীতিকে বিদায় জানিয়েছিলেন।

জাতীয়তাবাদী ও আন্তর্জাতিকতাবাদী প্রশ্নে ভিয়েতনামের আংকেল হো বা হো চি মিনের সঙ্গেই বঙ্গবন্ধুর মিল বেশি। ফিদেল ক্যাস্ত্রোর সঙ্গেও মিল এখানেই। আন্তর্জাতিক রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ড. জিল্লুর রহমান খান, তার ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের সম্মোহনী নেতৃত্ব ও স্বাধীনতা সংগ্রাম’ বইতে লিখেছেন, ‘শেখ মুজিবের বৈশিষ্ট্য, কাজের স্টাইল, দূরদৃষ্টি ও সাহস একটি পিছিয়ে-পড়া জাতির ভাগ্য গড়ে দিতে পেরেছিল। তিনি জাতীয় লক্ষ্য অর্জনের জন্য রাজনৈতিক সহিংস কৌশলের সঙ্গে শান্তিপূর্ণ অসহযোগিতা ও আইন অমান্য আন্দোলনের সফল সমন্বয়সাধন করায় সফল হন, যা দ্বি-জাতি তত্ত্বকে খণ্ডন করে এই উপমহাদেশে একটি নতুন জাতি-রাষ্ট্রের জন্ম দেয়।’

ভাষা আন্দোলনের সময়টি ছিল বঙ্গবন্ধুর জন্য জাতীয় রাজনীতিতে উত্তরণকাল। এ সময় তিনি ক্রমান্বয়ে জাতীয় রাজনীতির কর্মকাণ্ডে মনোনিবেশ করেন এবং সম্পৃক্ত হয়ে জাতীয় রাজনীতিকের ভূমিকা গ্রহণ করতে থাকেন। ভাষা আন্দোলনকে বেগবান করার ক্ষেত্রে ছাত্রনেতা শেখ মুজিবুর রহমানের বলিষ্ঠ ভূমিকার কথা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে অলি আহাদ বলেন, ‘সেদিন (১০ মার্চ, ১৯৪৮) সন্ধ্যায় যদি মুজিব ভাই ঢাকায় না পৌঁছাতেন তা হলে ১১ মার্চের হরতাল পিকেটিং কিছুই হতো না’। বঙ্গবন্ধু তরুণদের সবসময় কাছে পেতেন কারণ তিনি তরুণদের মধ্যে আশার সঞ্চার করতে পারতেন। ভবিষ্যৎ যে তার হাতের মুঠোয় আসতে বাধ্য কর্মীদের মধ্যে সে বিশ্বাস তৈরি করার ক্ষমতা বঙ্গবন্ধুর ছিল। এর ভিত্তি ছিল বঙ্গবন্ধুর বাস্তববাদী রাজনৈতিক দর্শন। তৎকালীন জাতীয় রাজনীতিতে বঙ্গবন্ধুর অবস্থান ক্রমান্বয়ে এত দৃঢ় হতে থাকে যে, তার শারীরিক অনুপস্থিতি সত্ত্বেও তাকে দলের যুগ্ম সম্পাদক নির্বাচিত করা হয়।

প্রসঙ্গক্রমে উল্লেখ্য, প্রকৃত অর্থেই ১৯৬৪ সালের মার্চ মাসের সম্মেলন দল হিসেবে আওয়ামী লীগ এবং নেতা হিসেবে শেখ মুজিবুর রহমানকে এক স্বতন্ত্র মর্যাদায় উন্নীত করে। ১৯৬৩ সালের ৫ ডিসেম্বর হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর মৃত্যুর পরে আওয়ামী লীগকে পুনরুজ্জীবিত করা রাজনীতিতে জরুরি বিষয় হয়ে পড়ে। তাই অবধারিতভাবে আওয়ামী লীগের পুনরুজ্জীবনের জন্য বঙ্গবন্ধু বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। এই পুনরুজ্জীবন ছিল মূলত বাঙালির পুনরুজ্জীবন, যার ধারাবাহিকতায় অর্জিত হয় স্বাধীন বাংলাদেশ।

১৯৬৬ সালে ৬-দফা দাবি উত্থাপন ও পরবর্তী ঘটনা প্রবাহের মধ্য দিয়ে বঙ্গবন্ধু বাঙালি জাতীয়তাবাদের মহান নেতা হিসেবে আবির্ভূত হন। ৬-দফার প্রশ্নে বঙ্গবন্ধু এতটাই অনড় ছিলেন যে, তিনি এই বিষয়ে কোনো জোট বা দলের সঙ্গে আপস করার পক্ষপাতি ছিলেন না। ৬-দফা আওয়ামী লীগের দলীয় ইশতেহারে পরিণত হয়। এবং বঙ্গবন্ধুর বলিষ্ঠ নেতৃত্বে এ সময় (’৬৬) পূর্ব বাংলার রাজনীতিতে আওয়ামী লীগের একচ্ছত্র আধিপত্য প্রতিষ্ঠিত হয়। তৎকালীন সরকারের দমননীতি, মওলানা ভাসানীর ৬-দফার বিরুদ্ধে বক্তব্য প্রদান সত্ত্বেও আওয়ামী লীগ এ বিষয়ে জোরকদম এগিয়ে যায়। জনমত সৃষ্টির লক্ষ্যে বঙ্গবন্ধু দেশের এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্তে উল্কার মতো ছুটে গেছেন।

এই পরিপ্রেক্ষিতে আবারও কারাবন্দি শেখ মুজিব। বাঙালির মুক্তি ও স্বাধিকার প্রতিষ্ঠায় অবিচল বঙ্গবন্ধুকে তথাকথিত আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার প্রধান আসামি করা হয়। অন্যতম আসামি কর্নেল (অব) শওকত আলীর ভাষায়, সত্য মামলা আগরতলা। সরকারের রোষানলের বিপরীতে আগরতলা মামলার মাধ্যমে বাঙালি জাতির জাগরণ এবং শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্ব ও জনপ্রিয়তা শীর্ষে পৌঁছে যায়। উল্লেখ্য, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী প্রায়ই বলতেন, আমি ভবিষ্যদ্বাণী করছি যে, একদিন শেখ মুজিব ইতিহাস সৃষ্টি করবে (সিরাজ উদদীন আহমেদ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, পৃষ্ঠা-২১৭, ভাস্কর প্রকাশনী, ২০০১)। শেখ মুজিব ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন।  

১৯৬৯ সাল, গণ-অভ্যুত্থানের বছর। নেতৃত্বের শিখরে শেখ মুজিবুর রহমান। এই গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়েই বাঙালি জাতীয়তাবাদের পূর্ণ আত্মপ্রকাশ ঘটে। বাঙালি জাতির মুক্তি ও স্বাধীনতা অর্জনের জন্য বঙ্গবন্ধু প্রদত্ত ৬-দফা এবং ছাত্রলীগ ও ছাত্রসংগ্রাম পরিষদের ১১-দফার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ১৯৭০-এর নির্বাচনে তিনি আওয়ামী লীগকে একক রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। এই নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নিরঙ্কুশ বিজয় প্রমাণ করেছিল, পূর্ব বাংলার জনগণ তাদের স্বাধিকার আদায় ও মুক্তির জন্য কতটা উন্মুখ। তাই ১৯৭০ সালের ৮ জুন রেসকোর্স ময়দানের জনসভায় তিনি আহ্বান জানান মুক্তিকামী জনগণ যেন সংগ্রামের জন্য প্রস্তুত থাকে।  আওয়ামী লীগের নিরঙ্কুশ বিজয়ের পরও পূর্ব বাংলার জনগণের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর না করায় এই ভূখণ্ডের জনগণের কাছে সশস্ত্র মুক্তিসংগ্রামের কোনো বিকল্প ছিল না। ১৯৭১ সালে ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণে বঙ্গবন্ধু মুক্তিকামী জনগণকে স্বাধীনতার মন্ত্রে উজ্জীবিত ও অনুপ্রাণিত করেন। তিনি একই সঙ্গে জনগণের মুক্তি ও স্বাধীনতা চেয়েছেন। এ জন্যই তিনি বলেছেন, ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম’। এই ভাষণটি ছিল মহান মুক্তিযুদ্ধের জন্য একজন দক্ষ কৌশলীর সুস্পষ্ট নির্দেশনা। এই ভাষণ ছিল বস্তুত বাংলাদেশের স্বাধীনতারই ঘোষণা। মহান মুক্তিযুদ্ধে বঙ্গবন্ধুর একক ও সম্মোহনী নেতৃত্ব তাকে বাঙালির অবিসংবাদিত নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

বাঙালির এই আন্দোলন-সংগ্রামের ধারাবাহিকতাকে ইতিহাসবিদ ড. আবুল কাশেম যথার্থই বলেছেন, ‘বাংলাদেশের মুক্তিসংগ্রামের প্রেক্ষাপট ও প্রস্তুতিপর্ব বা মুক্তির পরম্পরা’। প্রখ্যাত কমিউনিস্ট নেতা মোহাম্মদ নবী, তার জীবনস্মৃতি : আমার কিছু কথা বইয়ের ৯৩ পৃষ্ঠায় লিখেছেন, ‘সীমাহীন বৈষম্যের বিরুদ্ধে সর্বস্তরের বাঙালি ক্ষুব্ধ ও প্রতিবাদমুখী হয়ে উঠছিল। গোড়াতে মুসলিম লীগ ছিল অত্যন্ত শক্তিশালী এবং দুর্দান্ত প্রতাপশালী। বিরোধী দল হিসেবে গঠিত হলো আওয়ামী লীগ। এই দলের প্রধান নেতা হলেন হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী এবং মওলানা ভাসানী। কালক্রমে বাঙালিদের অধিকার আদায়ের প্রধান নেতৃত্বের ভূমিকায় এলেন শেখ মুজিবুর রহমান।’

বঙ্গবন্ধুর জীবন ও রাজনীতির ব্যাপ্তি এত বিশাল যে, এই ক্ষুদ্র পরিসরে তা তুলে ধরা অসম্ভব। টুঙ্গিপাড়া থেকে গোপালগঞ্জ, মাদারীপুর, কলকাতা। কলকাতা থেকে ঢাকা এবং সমগ্র বাংলাদেশ। মাত্র ৫৫ বছর ৪ মাস ২৯ দিনের জীবদ্দশায় ৪৬৮২ দিনের জেলজীবন। মানুষ তার চার পাশ থেকে যেমন অভিজ্ঞতা গ্রহণ করে, তিনিও তাই করেছেন। তিনি তাত্ত্বিক ছিলেন না বটে, কিন্তু আপসহীন জীবনের যে বিশাল অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন সব শ্রেণিপেশার নানারকম এবং বহুজনের কাছ থেকে তা ছিল তার তীক্ষèমেধা ও যোগ্যতার পরিচয় দেয়। এই জীবনাভিজ্ঞতা সম্ভবত রুশ বিপ্লবের মহান নেতা লেনিনের (ভ্লাদিমির ইলিচ লেনিন) সঙ্গেই কিছুটা মিলে। রুশ বিপ্লবের প্রাক্কালেই যে শেখ মুজিবের জন্মগ্রহণ, জন্মযোগ বটে! বঙ্গবন্ধুর জীবন ও রাজনীতির বহুমাত্রিকতা নিয়ে লেখা হচ্ছে, গবেষণা হচ্ছে। নতুন নতুন দ্বার উন্মোচিত হচ্ছে। এই লেখাটি মূলত একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে আমার দৃষ্টিতে বঙ্গবন্ধুর অসাধারণ রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কার্যপরিধির ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্রাংশের বয়ান মাত্র। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠাতা, বাঙালি জাতির পিতা। এটা অপরিবর্তনশীল। পৃথিবীর সব কিছুর পরিবর্তন হলেও তিনি থাকবেন, যেমনটা ছিলেন এবং আছেন।

লেখক : সদস্য, সংস্কৃতিবিষয়ক উপকমিটি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এবং সদস্য ডাটাবেজ টিম, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত