গাজা যুদ্ধ বন্ধের প্রস্তাবে যুক্তরাষ্ট্রের ভেটোর ইঙ্গিত

গাজায় বেসামরিক প্রাণহানি ২৯ হাজার ছুঁইছুঁই। ওদিকে জার্মানিতে চলছে ‘মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলন’, যেখানে অন্যতম আলোচ্য গাজা যুদ্ধ। অব্যাহত প্রাণহানির মধ্যে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার আলোচনায় নতুন করে আলো পড়েছে। এ অবস্থায় জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে গাজার যুদ্ধ বন্ধ করতে যখন একটি নতুন প্রস্তাব আসতে চলেছে, ঠিক তার আগে যুক্তরাষ্ট্র ইঙ্গিত দিয়েছে, তারা এ ধরনের যেকোনো প্রস্তাব মানবে না। তবে মিউনিখে সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা ছাড়া মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি অর্জন সম্ভব নয়।

গাজায় যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠার দাবিতে ১৫ সদস্যের জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে আগামীকাল মঙ্গলবার প্রস্তাব তুলতে পারে আলজেরিয়া। এতে উপত্যকায় অবিলম্বে মানবিক যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠার কথা থাকতে পারে। ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে চলতে থাকা লড়াই বন্ধ করতে গত দুই সপ্তাহ ধরে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবের খসড়া প্রস্তুত করছে। যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, তারা ওই প্রস্তাবে ‘ভেটো (আমি ইহা মানি না)’ ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে।

এ নিয়ে জাতিসংঘে নিযুক্ত মার্কিন দূত লিন্ডা থমাস-গ্রিনফিল্ড বলেন, এ প্রস্তাবের ভাষা যুদ্ধের মধ্যে বিরতি প্রতিষ্ঠার ‘স্পর্শকাতর আলোচনা’ বিপদাপন্ন করে তুলতে পারে।

আলজেরিয়ার পক্ষ থেকে নিরাপত্তা পরিষদকে অনুরোধ করা হয়েছে, আগামীকালই যেন ভোটাভুটি আয়োজন করা হয়। সাধারণত প্রস্তাবটি পাস হতে নয়টি সদস্যের ভোট দরকার এবং এখানে কোনো ভেটোও পড়া যাবে না। উল্লেখ্য, নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, চীন ও রাশিয়া।

গত শনিবার লিন্ডা থমাস-গ্রিনফিল্ড বলেন, ‘খসড়া প্রস্তাবনার পদক্ষেপকে সমর্থন করে না যুক্তরাষ্ট্র। ভোটাভুটির জন্য এ প্রস্তাব পরিষদে তোলা হলে তা গ্রহণযোগ্যতা পাবে না।’

ওয়াশিংটনের প্রধানতম আঞ্চলিক মিত্র হচ্ছে ইসরায়েল। তাদের পক্ষে সবসময়ই জাতিসংঘে ভেটো প্রয়োগ করে যুক্তরাষ্ট্র। গত ৭ অক্টোবরের পর গাজা যুদ্ধ শুরু হলে এখন পর্যন্ত ইসরায়েলের পক্ষ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র দুবার ভেটো প্রয়োগ করে।

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র, মিসর, ইসরায়েল ও কাতার যুদ্ধ বন্ধ করতে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো ফলপ্রসূ বক্তব্য পাওয়া যাচ্ছে না। আবার ওয়শিংটন পোস্টের একটি প্রতিবেদন থেকে সম্প্রতি জানা যায়, স্বাধীন ফিলিস্তিন প্রতিষ্ঠা এবং ইসরায়েলি জিম্মিদের মুক্তি নিয়ে একটি বিস্তৃত পরিকল্পনা প্রণয়নে কাজ করছে যুক্তরাষ্ট্র ও তার কয়েকটি আরব মিত্র। কিন্তু এ প্রতিবেদন প্রকাশের পর ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেন, ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার কোনো চাপের কাছে তিনি মাথানত করবেন না।

এদিকে মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলনে হাজির হয়ে গত শনিবার সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার জন্য ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠাই একমাত্র পথ। ইসরায়েল রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতাও নির্ভর করছে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ওপর।’

গতকাল আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় গাজায় ইসরায়েলি বাহিনী কমপক্ষে ১২৪ জন ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে। এখন পর্যন্ত ইসরায়েলি বাহিনী গাজায় ২৮ হাজার ৯৮৫ জন ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে। ইসরায়েলি হামলায় আহত হয়েছে ৬৮ হাজার ৮৮৩ জন।

গাজায় অব্যাহত প্রাণহানি বন্ধ এবং যুদ্ধ বন্ধের দাবিতে গত শনিবার বিশ্বের অনেক শহরে বিক্ষোভ হয়েছে। রাফাহ শহরে ইসরায়েলের সম্ভাব্য স্থল অভিযানের আগে ক্ষোভে ফেটে পড়ে মানুষ। এর মধ্যে যুক্তরাজ্যের লন্ডন শহরে প্রায় আড়াই লক্ষাধিক মানুষ সমবেত হয় ফিলিস্তিনপন্থি বিক্ষোভ কর্মসূচিতে। স্পেনের মাদ্রিদে ফিলিস্তিনিদের পতাকা ও ব্যানার হাতে জড়ো হয় মানুষ। তারা অবিলম্বে ইসরায়েলি বাহিনীকে যুদ্ধ থামাতে বলে। এ ছাড়া সুইডেন এবং আরও কয়েকটি জায়গায় বিক্ষোভ হয়েছে।