কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে আজ (সোমবার) শিক্ষক সমিতির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এতে নিরস্কুশ জয়লাভ করেছে বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী শিক্ষকদের প্যানেল নীল দল। জয়লাভের পর কমিটির নবনির্বাচিত শিক্ষকরা উপাচার্য অধ্যাপক ড. এএফএম আবদুল মঈনের সঙ্গে দেখা করতে তার কার্যালয়ে যান। এ সময় উপাচার্যপন্থী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে শিক্ষকদের হট্টগোল হয়। এক পর্যায়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা শিক্ষকদের মারধরের হুমকি দেন। এমনকি তাদের বিরুদ্ধে শিক্ষকদের শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে।
এদিকে উপাচার্য, কোষাধ্যক্ষ ও প্রক্টরের উপস্থিতিতে কর্মকর্তা সমিতির সভাপতি জাকির হোসেন শিক্ষকদের বলেন, চিল্লাইতেছে কেন, আমরা মানুষ না। থাপড়াইয়া দাঁত ফালাইয়া দিমু’। এ ঘটনায় পর প্রক্টরের পদত্যাগ দাবিতে উপাচার্যের কার্যালয়ে অবস্থান নিয়েছে শিক্ষকরা।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, সোমবার বিকেলে উপাচার্যের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে তার কার্যালয়ে যায় নবনির্বাচিত শিক্ষক সমিতির নেতারা। উপাচার্য তাদের সঙ্গে কথা বলতে এসে উত্তেজিত হয়ে যান। এসময় তাকে তিনবার চেয়ার ছেড়ে নিজের ডেস্কে বসতে দেখা গেছে। পরে উপাচার্য তার কার্যালয়ে প্রক্টরকে ডেকে আনেন। তিনি আসার সঙ্গেই কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী দরজা ভেঙে ভিসি দপ্তরে প্রবেশ করে। এসময় তারা শিক্ষকদের ধাক্কা দিতে থাকে। ধাক্কাধাক্কির এক পর্যায়ে শিক্ষকদের গালিগালাজ ও মারধর করার হুমকি দেন তারা। এ সময় তারা শিক্ষকদের প্রশ্ন করে, 'হু আর ইউ'।
এছাড়াও শিক্ষকদের উদ্দেশ্য করে কয়েকজন কর্মকর্তা বলেন, ‘চিল্লাইতেছেন কেন আপনারা, চিল্লাইতেছেন কেন? আপনারা গুন্ডামি করেন। আমাদের আইন শিখান, কোথায় লিখা আছে এখানে আসা যাবে না।’
এ ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর কাজী ওমর সিদ্দিকীর পদত্যাগের দাবিতে উপাচার্যের কার্যালয়ে অবস্থান নিয়েছে শিক্ষকরা। এখন পর্যন্ত আন্দোলন চলছে।
এ বিষয়ে শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান বলেন, আমরা উপাচার্যের দপ্তরে সাক্ষাৎ করতে আসলে প্রক্টরের উপস্থিতিতে কর্মকর্তা এবং অছাত্ররা দফায় দফায় আমাদের উপর হামলা করে। উপাচার্যের কাছে আমরা নিরাপত্তার দাবী জানালে তিনি জানান, আপনারা যতক্ষণ থাকবেন তারা এভাবে হামলা করবে। পরবর্তীতে উপাচার্য আমাদের রেখে চলে যান। এখন বিষয়টি পরিস্কার যে, প্রশাসনের কাছে শিক্ষক শিক্ষার্থীদের কেউই নিরাপদ নয়। আমরা এই অথর্ব প্রক্টরের পদত্যাগ দাবী করছি। তবে প্রশাসনের কাছে যদি সমাধান না পাই তাহলে আমরা রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা বাহিনীর কাছে সাধারণ ডায়েরি করে নিরাপত্তা দাবী করব।
তিনি আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল অনিয়ম, স্বেচ্ছাচারিতা এবং আজকের এই ঘটনার পিছনে প্রক্টর দায়ী। তাই আমরা প্রক্টরের পদত্যাগের দাবিতে ও আজকের এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচারের দাবিতে উপাচার্যের কক্ষে অবস্থান করছি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর (ভারপ্রাপ্ত) ড. কাজী ওমর সিদ্দিকী বলেন, ‘ভিসি দপ্তরে হট্টগোল হয়ে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে আমরা প্রক্টরিয়াল বডি সেটা সমাধানের চেষ্টা করেছি।’ অছাত্ররা ভিসি দপ্তরে এসে ঝামেলা করতে পারে কিনা এ প্রশ্নের জবাবে বলেন, এখানে কেউ অছাত্র আছে বলে আমাদের জানা নেই। আমরা যদি কারো বিরুদ্ধে অছাত্রের অভিযোগ পাই ব্যবস্থা নিবো। আর এখানে যারা আছে তারা অনেকে সান্ধ্যকালীন কোর্সের ছাত্র। এখানে যে পরিস্থিতি তাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র হিসেবে তারা আসতে পারে।
এবিষয়ে উপাচার্যের সঙ্গে যোগাযোগ করেও তার মন্তব্য পাওয়া যায়নি।