বৈশি্বক তেলের বাজারের সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) অন্যতম বড় অংশীদার। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো তেল-নির্ভর অর্থনীতি থেকে বের হওয়ার চেষ্টার কথা জানালেও তা নিয়ে অনেক দেশই এগিয়ে যেতে পারেনি। তবে ইউএই গত রবিবার জানিয়েছে, তারা তেল-বহির্ভূত বাণিজ্যের রেকর্ড স্পর্শ করেছে।
ইউএইর প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন রশিদ আল মাকতুম তেল-নির্ভর অর্থনৈতিক ব্যবস্থা থেকে বের হয়ে আসার অগ্রগতি তুলে ধরে গত রবিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, তার দেশে ২০২৩ সালে তেল-বহির্ভূত বাণিজ্য হয়েছে ৯৫ হাজার ২৯৩ কোটি ডলার।
আমিরাতের বৈদেশিক বাণিজ্য মন্ত্রী থানি আল জেয়োদি জানান, ২০২২ সালের তুলনায় গত বছর দেশে তেল-বহির্ভূত বাণিজ্য বেড়েছে ১২.৬ শতাংশ। মালামাল ও সেবা পণ্যের বাণিজ্য প্রথমবারের মতো এক ট্রিলিয়ন দিরহাম (স্থানীয় মুদ্রা) অঙ্ক স্পর্শ করেছে যা রেকর্ড।
ইউএই দীর্ঘদিন থেকেই তার বাণিজ্যকে বিস্তৃত করতে কাজ করে যাচ্ছে। দেশটির রাজপরিবার তেল-নির্ভরতা কাটিয়ে উঠতে ‘বিস্তৃত অর্থনৈতিক অংশীদারি সমঝোতার (সিইপিএ)’ আলোকে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য চুক্তির পাশাপাশি বিনিয়োগ ও সহযোগিতা চুক্তির পরিসর বাড়াতে কাজ করছে। ২০২১ সালের পর তারা এতে ব্যাপক গতি সঞ্চারের চেষ্টা করছে। মূলত আয়ের উৎসের বৈচিত্র্য বাড়ানো এবং অর্থনৈতিক খাত সম্প্রসারণের লক্ষ্যে তারা কাজ করছে।
সম্প্রতি লোহিত সাগরের ইয়েমেনভিত্তিক হুতি বিদ্রোহীদের আক্রমণের কারণে আবুধাবির বাণিজ্য ব্যাহত হচ্ছে না বলে দাবি করেছেন জেয়োদি। তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি, ওই সমস্যার কারণে আমাদের কোনো সংকট তৈরি হচ্ছে না। আমরা ভালো অবস্থানেই রয়েছি এবং এটি আমাদের দৃঢ়তা এবং এ অঞ্চল ও বিশে^র নতুন নতুন চ্যালেঞ্জের সঙ্গে আমাদের খাপ খাওয়ার দক্ষতার সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত।’
গত বছরের প্রথমমার্ধে তেল-বহির্ভূত বাণিজ্য বেড়েছে ৬ শতাংশের মতো যেখানে সামগ্রিকভাবে মোট দেশজ উৎপাদনের প্রবৃদ্ধি ছিল ৩.৭ শতাংশ। ওই মন্ত্রী জানান, ‘সিইপিএ আমাদের বৈদেশিক বাণিজ্যের গতিকে এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।’
এই মুহূর্তে ইউএইর তেল-বহির্ভূত বিকাশমান খাত হচ্ছে পর্যটন, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, আর্থিক খাত এবং পেশাগত নানা ক্ষেত্র। আর এরই মধ্যে অর্থনীতিতে তেল-বহির্ভূত খাতে ব্যাপক অবদান রাখছে স্বর্ণ, অ্যালুমিনিয়াম, জুয়েলারি, কপার তার ও ইথিলিন পলিমার প্রভৃতি।