চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে রুবেল দে নামে এক হাজতির মৃত্যুর ঘটনায় সিনিয়র জেল সুপার মুহাম্মদ মঞ্জুর হোসেন ও চট্টগ্রামের বোয়ালখালী থানার ওসি মো. আছহাব উদ্দিনসহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলার আবেদন করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২০ ফেব্রুয়ারি) সকালে চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ ড. বেগম জেবুননেছার আদালতে মামলার আবেদন করেন নিহত রুবেলের স্ত্রী পুরবী পালিত। মামলার আবেদনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাদিপক্ষের আইনজীবী অজয় ধর।
তিনি বলেন, ‘মামলায় নির্যাতন এবং হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ) আইন ২০১৩ এর ১৫(২) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। আদালত মামলার আবেদন জমা নিয়ে যাচাই-বাছাই করে পরবর্তী শুনানির জন্য তারিখ দেবেন বলেছেন।’
মামলার আবেদনে অভিযোগ করা হয়, গত ২৭ জানুয়ারি বিকেল ৩টার দিকে বোয়ালখালী উপজেলার দক্ষিণ জৈষ্ঠ্যপুরার নিজ বাড়ি থেকে বিনা কারণে থানার ওসির নির্দেশে এবং অন্যান্য আসামিদের সহযোগিতায় রুবেল দে (৩৮) কে আটক করে। রাত ৯টার দিকে পুলিশ কল করে রুবেল দে’কে ছাড়িয়ে নেওয়ার জন্য তার পরিবারের কাছে ২ লাখ টাকা ঘুষ দাবি করে। টাকা না দিলে মাদকের মামলায় চালান দেয়া হবে বলেও হুমকি দেওয়া হয়।
টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ২০০ লিটার চোলাই মদ উদ্ধারের মিথ্যা এজাহার প্রস্তুত করে বোয়ালখালী থানায় রুবেলের নামে মিথ্যা মামলা দায়ের করে পুলিশ। থানায় শারীরিক নির্যাতনের কথা গোপন রেখে পরদিন সকালে রুবেলকে আদালতে সোপর্দ করে পুলিশ। পরে অসুস্থ অবস্থায় তাকে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়।
গত ২ জানুয়ারি সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রুবেলের পরিবার সাক্ষাৎ করতে কারাগারে গেলে একটি হুইল চেয়ারে রুবেলকে মুমূর্ষু অবস্থায় এবং তার কপালে, ডান চোখের ভ্রু’র উপর রক্তাক্ত কাটা জখম দেখতে পান। আসামিরা রুবেলকে তাদের হেফাজতে নির্যাতন করেন। ৪ জানুয়ারি রুবেলের আইনজীবী উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা গ্রহণে করতে জেল সুপারকে আদেশ প্রদানের জন্য আদালতে আবেদন করেন। পরদিন সকাল ৮টায় স্ত্রী জানতে পারেন তার স্বামী রুবেল মারা গেছেন। লাশ চমেক হাসপাতালের মর্গে পড়ে আছে।