রমজানের আগে বেড়েছে নিত্যপণ্যের সরবরাহ

পবিত্র রমজান সামনে রেখে সয়াবিন, ছোলা, খেজুর, পাম অয়েল ও মসুর ডালের আমদানি বেড়েছে। গত মঙ্গলবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে পাওয়া বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের (বিটিটিসি) প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। গত রমজানের তুলনায় আসন্ন রমজান সামনে রেখে এলসি খোলার প্রবণতা বিশ্লেষণ করে প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, চিনি ছাড়া অন্যসব পণ্যের সরবরাহ বেড়েছে।

প্রতিবেদনে দেখা যাচ্ছে, ২০২২ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৩ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত ২ লাখ ৪ হাজার ৮৬৫ টন চিনি আমদানি হয়েছে। আর ২০২৩ সালের ডিসেম্বর থেকে গত জানুয়ারি পর্যন্ত চিনি আমদানি কমে হয়েছে ১ লাখ ৩০ হাজার ২৬৬ টন।

অন্যদিকে, একই সময়ে সয়াবিন তেল আমদানি শূন্য থেকে বেড়ে হয়েছে ১২ হাজার ৪২০ টন।

একই সময়ে ছোলা আমদানি ২৯ হাজার ৪৫৮ থেকে বেড়ে হয়েছে ৪২ হাজার ৯১৩ টন। খেজুর আমদানি ৫ হাজার ৮৯৫ থেকে বেড়ে হয়েছে ৯ হাজার ১৪৮ টন।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, গত বছরের তুলনায় আন্তর্জাতিক বাজারে ছোলা, মসুর ডাল ও চিনির দাম বেড়েছে। এতে আরও বলা হয়, গত বছর আন্তর্জাতিক বাজারে চালের দাম বাড়লেও দেশের বাজারে এর দাম কমেছে।

নিরবচ্ছিন্ন আমদানি নিশ্চিত করতে এলসির জটিলতা দূর করার উদ্যোগ নিতে হবে। পণ্য উৎপাদনে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে।

গত মঙ্গলবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে বসেছিল নিত্যপণ্য আমদানি ও প্রক্রিয়াকরণ প্রতিষ্ঠানগুলো।

বৈঠকে ভোজ্য তেল পরিশোধনকারীরা জানান, শুল্ক ও ভ্যাট কমানোর সুবিধা যাতে ক্রেতারা পান, তাই আগামী ১ মার্চ থেকে প্রতি লিটারে সয়াবিনের দাম ১০ টাকা কমানো হবে। পণ্য আমদানিকারক ও পণ্য প্রক্রিয়াকরণের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ১৭৩ থেকে কমে ক্রেতারা ১৬৩ টাকায় এক লিটার সয়াবিন কিনতে পারবেন।

বৈঠকে বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী আহসানুল ইসলাম টিটু পণ্য প্রতিষ্ঠানের মালিকদের দাম কমানোর নির্দেশ দেন। গত ফেব্রুয়ারিতে ভোজ্য তেল আমদানির ওপর ভ্যাট তুলে নেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড। এরপর চাল, চিনি ও খেজুরের ওপর শুল্ক কমানো হয়। এই উদ্যোগের লক্ষ্য ছিল চারটি পণ্যের দাম কমানোর মধ্য দিয়ে ক্রেতাদের ওপর মূল্যস্ফীতির চাপ কমানো।

গত বছরের মার্চ থেকে দেশে মূল্যস্ফীতি ৯ শতাংশের বেশি। এটি কম আয়ের মানুষদের ক্রয়ক্ষমতা কমিয়ে দিয়েছে।