ভারতের চলতি কৃষক আন্দোলন যেন ক্রমেই সহিংস হয়ে উঠছে। গতকাল শুক্রবারও কৃষকদের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর সংঘর্ষ হয়। পাঞ্জাব-হরিয়ানা সীমান্তে লাগাতার সংঘর্ষ চলছে। এখন পর্যন্ত এই আন্দোলনে এসে হৃদরোগ ও নিরাপত্তা বাহিনীর আক্রমণে নিহত হয়েছেন পাঁচ কৃষক। আবার কৃষকদের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে এরইমধ্যে দুই পুলিশও নিহত হয়েছেন। কৃষিপণ্যে ন্যূনতম সহায়ক মূল্য (এমএসপি), পেনসন বীমা, কৃষকদের বিরুদ্ধে হওয়া মামলা প্রত্যাহারসহ নানা দাবিতে ‘দিল্লি চলো’ কর্মসূচি শুরু করে আন্দোলনকারীরা। ট্রাক্টরসহ পাঞ্জাব, হরিয়ানা ও উত্তরপ্রদেশের কৃষকরা রাজধানী দিল্লিতে প্রবেশ করতে মরিয়া চেষ্ট চালাচ্ছেন।
হরিয়ানা-পাঞ্জাব সীমান্তে পুলিশ টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ এবং লাঠিচার্জ শুরু করলে গতকাল কৃষকরাও পাথর ছুড়ে পাল্টা জবাব দেন। কৃষকরা বারবার ব্যরিকেড ভাঙার কৌশল নিচ্ছে। গতকাল দিনের শুরুতে ৬২ বছর বয়সী এক কৃষক হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। তার নাম দর্শন সিং। তার বাড়ি পাঞ্জাবের বাথিন্ডা অঞ্চলে। এ নিয়ে বাথিন্ডার দুই কৃষক মারা গেলেন। গত বুধবার ২১ বছর বয়সী শুভকরণ সিং মারা যান। কৃষকদের অভিযোগ, পুলিশের হামলায় পড়ে নিহত হয় শুভকরণ। কৃষক নেতারা দাবি করেছেন, শুভকরণের মাথায় আঘাত লেগেছিল।
পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী আম আদমি পার্টির (আপ) নেতা ভগবন্ত মান বলেছেন, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে শুভকরণকে হত্যার অভিযোগে মামলা দায়ের হবে। এ সময় তিনি শুভকরণের পরিবারের জন্য এক কোটি রুপি ক্ষতিপূরণ এবং তার বোনের চাকরির ব্যবস্থা করার আশ্বাস দেন। কিন্তু শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত, পরিবার ক্ষতিপূরণ ফিরিয়ে দিয়ে বিচার দাবি করেছেন।
দর্শন সিং ও শুভকরণ সিং ছাড়াও ৬০ বছর বয়সী দ্ইুজন হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে আন্দোলন স্থলে মারা গেছেন। এর আগে আরও একজনের মৃত্যু হয়েছিল।
এই আন্দোলনের মূল নেতৃত্বে রয়েছে সংযুক্ত কিষাণ মোর্চ এবং কিষাণ মজদুর মোর্চা। তাদের অধীনে প্রায় ৩৫০টি সংগঠন এতে যোগ দিয়েছে। এ পর্যন্ত কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে চার দফা আলোচনার পরও কোনো সমাধান পাওয়া যায়নি। কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে তারা সময়ক্ষেপণ, হয়রানিসহ নানা অভিযোগে সরব। কৃষকরা আগামী সোমবার ট্রাক্টর র্যালির ডাক দিয়েছেন। আবার আগামী ১৪ মার্চ কৃষকরা ট্রাক্টর ছাড়াই দিল্লি যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। রাজধানীতে তারা রামলীলা ময়দানে জমায়েত হবেন। কৃষকরা বলছেন, সরকার বলছে, তারা ট্রাক্টর ছাড়া আমাদের ঢুকতে দেবে; দেখা যাক এবার তারা কী করে।
ওদিকে হরিয়ানার অম্বালায় গত বৃহস্পতিবার রাতে কৃষকদের সঙ্গে সংঘর্ষে দুজন পুলিশকর্মীর মৃত্যু হয়েছে। আহত পুলিশকর্মীর সংখ্যা তিরিশেরও বেশি। গতকাল শুক্রবার হরিয়ানা সরকার এই তথ্য দিয়েছে। আন্দোলনকারীরা জোর করে দিল্লিতে ঢোকার চেষ্টা করার সময় সংঘর্ষ ছড়ায়।
গত বৃহস্পতিবার রাতে বিজেপি-শাসিত হরিয়ানার পুলিশ জাতীয় নিরাপত্তা আইনে কৃষকদের বিরুদ্ধে মামলা করার কথা জানিয়েছে। হরিয়ানা পুলিশের দাবি, কৃষক নেতারা ধারাবাহিকভাবে আইনশৃঙ্খলা ভেঙে চলেছেন এবং অশান্তি সৃষ্টির চেষ্টা চালাচ্ছেন।