অনেকেই মিষ্টি খাওয়া ছেড়ে দেন। কিন্তু মনের মধ্যে সারাক্ষণই মিষ্টি খাওয়ার ইচ্ছা প্রবল হতে থাকে। এই অবস্থাকে বলে সুগার ক্রেভিং। চিনি নিয়ন্ত্রণে আনতে না পারলেই দ্রুত ওজন বাড়ে। সঙ্গে সঙ্গে আশঙ্কা বাড়ায় ওবেসিটি, কোলেস্টেরল, ডায়াবেটিস, পিসিওডির মতো সমস্যা। পুষ্টিবিদদের মতে, শরীরে বিশেষ কিছু পরিবর্তন এলে মিষ্টি খাওয়ার প্রবণতা বাড়ে। তাই প্রতিদিনকার খাবারে প্রোটিন, কার্বহাইড্রেট ও ফ্যাটের ভারসাম্য বজায় রাখা জরুরি। বেশি মাত্রায় কার্বহাইড্রেট শরীরে প্রবেশ করলে ইনসুলিনের ক্ষরণ বাড়ে। কার্বোহাইড্রেট খাওয়ার ইচ্ছা হয়। আর যতক্ষণ না পর্যন্ত মিষ্টি খাচ্ছেন স্বস্তি পাবেন না। কম ঘুমেও কারও কারও সুগার ক্রেভিং বাড়ে। তখন শরীরে লেপটিন হরমোনের ভারসাম্য বিগড়ে ভাজাভুজি, মিষ্টি খাওয়ার ঝোঁক মানসিক উদ্বেগ ও চাপ বেড়ে গেলে কর্টিসল হরমোনের ক্ষরণ বাড়ে, যা ইনসুলিনের ভারসাম্য নষ্ট করে। তখন মিষ্টি খেতে মন চায়।
কমানোর উপায়
যখন মিষ্টি খেতে ইচ্ছা করবে তখনই এক গ্লাস পানি পান করুন। বেশি মিষ্টি খেলে শরীরে পানির পরিমাণ কমে যায়, সুস্থ থাকতে তাই প্রতিদিন ৮-১০ গ্লাস পানি পান জরুরি। সবুজ শাকসবজি রাখুন খাবারের তালিকায়। এতে শরীরে প্রয়োজনীয় পুষ্টি, খনিজ-ভিটামিনের ঘাটতি পূরণ হবে। ফলে মিষ্টি খাওয়ার ইচ্ছাও আস্তে আস্তে কমবে। মাল্টিভিটামিন খেলে শরীরে জরুরি পুষ্টিগুণের ঘাটতি হবে না। মিষ্টি খাওয়ার প্রবণতাও কমে যাবে। প্রোটিন বেশি করে খেতে পারেন। অনেকক্ষণ পেট ভরা থাকে। ক্ষুধাও কম পায়। ক্ষুধা পেলে ডিম সিদ্ধ খেতে পারেন। মিষ্টি খাওয়ার ইচ্ছা চলে যাবে। স্ট্রবেরি, কমলা লেবু, আঙুর বা মোসাম্বির মতো মিষ্টি ফল খেলে আর মিষ্টি বা চিনি খেতে ইচ্ছা করবে না। সরল চিনি সহজে রক্তে মিশে যায়। সেগুলো যতটা সম্ভব, একটু একটু করে বাদ দিন। এতে আপনার মস্তিষ্ক ধীরে ধীরে প্রস্তুত হয়ে উঠবে। দুধ, টক দই বা দুগ্ধজাত খাবারগুলো বেশি বেশি খান। এতে আপনার মস্তিষ্কের তৃপ্তিকেন্দ্র উজ্জীবিত হবে। খিদে বা বেশি খাওয়ার ইচ্ছে দূর হবে। হঠাৎ মিষ্টি খেতে ইচ্ছা করলে একটু বাদাম, ফল বা শুকনো ফল, চুইংগাম ইত্যাদি চিবোতে শুরু করবেন। অথবা পরিশ্রমের কাজ করুন। মানসিক চাপ থাকলে মিষ্টি খাওয়ার ইচ্ছা বাড়ে। তাই চাপমুক্ত থাকার চেষ্টা করুন। প্রয়োজনে ব্যায়াম বা যোগাসন করুন। খিদে পেলে শরীর শর্করা বা চিনির জন্য ছটফট করে। তাই বেশি খিদে লাগতে দেবেন না। দুটো মূল খাবারের মাঝখানে হালকা নাশতা করবেন। খাবারে বড় ব্যবধান নেবেন না। পুষ্টিবিদের পরামর্শ নিয়ে মাসে একবার মিষ্টি খেতে পারেন। তবে সেটা যেন ১৫০ ক্যালরির বেশি না হয়।