গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কর্মসূচি দেবে বিএনপি। দলটির একাধিক নেতা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জনগণ ভোট দেয়নি। এ কারণে তাদের ওপর প্রতিশোধ নিতে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।’
তারা বলেন, ‘এর প্রতিবাদে বিএনপি কর্মসূচি দেবে। সারা দেশে বিক্ষোভ-সমাবেশের মতো কর্মসূচি ঘোষিত হতে পারে। শুধু বিএনপি নয়, রাজপথে সরকারবিরোধী আন্দোলনের শরিক রাজনৈতিক দলগুলোও যুগপৎ কিংবা আলাদা কর্মসূচি দিতে পারে।’
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য বেগম সেলিমা রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সরকারের পদত্যাগের এক দফার দাবি আদায়ে আমরা রাজপথে আছি। পাশাপাশি সরকার বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে তার প্রতিবাদে কর্মসূচি দেওয়ার চিন্তাভাবনাও রয়েছে। আমাদের রাজনীতি জনগণের জন্য। জনগণের ভোগান্তি বাড়ে সরকারের এমন যে কোনো সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ আমরা জানাব। প্রয়োজনে রাজপথে কর্মসূচি দেব।’
তিনি বলেন, ‘বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রতিবাদে কী কর্মসূচি দেওয়া যায় সে বিষয়ে আমরা দলের জাতীয় স্থায়ী কমিটির ভার্চুয়াল সভায় আলাপ-আলোচনা করে ঠিক করব।’
গতকাল মঙ্গলবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেছেন, ‘গ্রাহক পর্যায়ে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম ৩৪ থেকে ৭০ পয়সা বাড়তে পারে। মার্চ থেকেই নতুন দর কার্যকর হবে। ঘাটতি মেটাতে দামে সমন্বয় করা হচ্ছে। আগামী তিন বছর ধাপে ধাপে দাম সমন্বয় করা হবে।’
বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমি বলেছিলাম, রমজানের আগে গ্যাস-বিদ্যুতের দাম বাড়ালে রাজপথে কর্মসূচি দেব। সরকার দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং ১ মার্চ থেকে তা কার্যকর করা হবে। এখন দলীয় ফোরামে আলোচনা করে কর্মসূচি চূড়ান্ত করা হবে।’
গণতন্ত্র মঞ্চের শরিক একটি রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে আমরা বিবৃতি দিয়েছি। কর্মসূচির ঘোষণা আসবে। বিএনপির সঙ্গে যুগপৎ কর্মসূচি হতে পারে। অথবা আমরা পৃথক কর্মসূচি পালন করতে পারি।’
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির এক ভাইস চেয়ারম্যান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘দুর্নীতি, লুটপাট, টাকা পাচারের কারণে দেশ চরম আর্থিক সংকটে পড়েছে। সরকার অর্থের সংস্থান করতে জনগণের ওপর চাপ প্রয়োগ করছে। বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রভাব বিভিন্ন সেক্টরে পড়বে। বিদ্যুতের সঙ্গে সম্পর্কিত বিভিন্ন পণ্যের দাম বাড়বে, যার খেসারত দিতে হবে জনগণকে।’
গত বৃহস্পতিবার নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী ঘোষণা দিয়েছিলেন, রমজানের আগে বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দাম বাড়ালে কর্মসূচি দেবে বিএনপি।’