চিকিৎসকদের ধর্মঘট, সাত হাসপাতাল ঘুরে নারীর মৃত্যু

দক্ষিণ কোরিয়ায় বেশ কয়েকদিন ধরেই চলছে ডাক্তারদের ধর্মঘট। এবার এই ধর্মঘটের কারণে চিকিৎসা না পেয়ে চল্লিশোর্ধ্ব একজন নারীর মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। এটিকে দেশটিতে ডাক্তার ধর্মঘটের সঙ্গে যুক্ত প্রথম মৃত্যু বলে ধারণা করা হচ্ছে।

কার্ডিয়াক অ্যারেস্টে আক্রান্ত হয়ে অ্যাম্বুলেন্সেই রোগীর মৃত্যু হয় বলে এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে ব্রিটিশ গনমাধ্যম বিবিসি।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ডাক্তারদের চলমান ধর্মঘটের কারণে ওই নারীকে বহন করা অ্যাম্বুল্যান্সটি বেশ কয়েকটি হাসপাতালে জায়গা পায়নি। ধর্মঘটের কারণে জরুরি বিভাগে চিকিৎসক কম থাকায় চাপের মধ্যে রয়েছে হাসপাতালগুলো।

গত শুক্রবার ডেজন শহরের প্যারামেডিকরা অসুস্থ নারীকে নিয়ে সাতটি হাসপাতাল ঘুরেছিল, কিন্তু কর্মী ও শয্যার অভাবের কারণে তাকে সবগুলো হাসপাতালই ফিরিয়ে দেয়। অবশেষে তাঁকে একটি পাবলিক ইউনিভার্সিটি হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও ৬৭ মিনিট পরেই তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।

মঙ্গলবার ঘটনাটি দেশটির গণমাধ্যমে প্রকাশ হওয়ার পর ব্যাপকভাবে আলোচিত হলে বিষয়টি তদন্ত করার কথা জানিয়েছেন সরকারি কর্মকর্তারা।

দক্ষিণ কোরিয়ার স্থানীয় গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে যে চিকিৎসকদের ধর্মঘটের কারণে হাসপাতালের জরুরি বিভাগগুলো কর্মী সংকটে রয়েছে এবং রোগীদের সার্জারি স্থগিত করা হয়েছে। যার কারণে রোগীদের অন্য হাসপাতালে স্থানান্তর করতে হচ্ছে।

সম্প্রতি দক্ষিণ কোরিয়ার সরকার মেডিক্যাল স্কুলগুলোতে শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়ানোর ঘোষণার প্রতিবাদে দুই-তৃতীয়াংশ আবাসিক ও ইন্টার্ন চিকিৎসক প্রতিবাদে পথে নামে। সরকার বলছে, ইন্টার্ন ও আবাসিক ডাক্তারদের কর্মবিরতির ফলে চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছে।

বিক্ষোভরত তরুণ ডাক্তারদের ফেব্রুয়ারির মধ্যে কাজে ফেরার আলটিমেটাম দিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ার সরকার। অন্যথায় এর গুরুতর ফল ভোগ করতে হবে তাদের।

মেডিক্যাল স্কুলগুলোতে শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়ানোর সিদ্ধান্তের পেছনে যুক্তি ছিল- দেশে বয়স্ক লোকের সংখ্যা বাড়ছে, এ কারণে বেশি ডাক্তারের প্রয়োজন পড়বে। যদিও বিষয়টি মানতে নারাজ বিক্ষোভরতরা।