লিমন হত্যাচেষ্টা মামলা

১৩ বছর পর ৬ র‌্যাব সদস্যের বিরুদ্ধে পুনঃতদন্তের আদেশ

ঝালকাঠিতে তৎকালীন কলেজছাত্র লিমন হত্যাচেষ্টা মামলায় ছয় র‌্যাব সদস্যের বিরুদ্ধে পুনঃতদন্তের জন্য পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি) নির্দেশ দিয়েছে আদালত। গতকাল বুধবার ঝালকাঠির জ্যেষ্ঠ বিচারিক আদালতের বিচারক এএইচএম ইমরানুর রহমান এ আদেশ দেন। আদালতে পুলিশের সাধারণ নিবন্ধন শাখার পরিদর্শক মো. কামরুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে ছয় র‌্যাব সদস্যকে অব্যাহতির সুপারিশ করে আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দিয়েছিল পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। ওই প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে ২০২২ সালের ৫ ডিসেম্বর ঝালকাঠির জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম আদালতে লিমনের মা হেনোয়ারা বেগম নারাজি আবেদন জানান। গতকাল দুপুরে সেই নারাজি আবেদনের শুনানি হয়। লিমনের মায়ের পক্ষে আদালতে শুনানি করেন আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) নিয়োজিত আইনজীবী আক্কাস সিকদার। মামলার নথি অনুযায়ী, ২০১১ সালের ২৩ মার্চ ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার সাতুরিয়া গ্রামে বরিশাল র‌্যাব-৮-এর সদস্যরা সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে অভিযান চালানোর সময় তৎকালীন কলেজছাত্র লিমন হোসেন গুলিবিদ্ধ হন। পরে তার বাম পা হাঁটু থেকে কেটে ফেলতে হয়। এ ঘটনায় লিমনের মা বাদী হয়ে ২০১১ সালের ১০ এপ্রিল র‌্যাব-৮-এর তৎকালীন ডিএডি লুৎফর রহমান, করপোরাল মাজহারুল ইসলাম, কং মো. আবদুল আজিজ, নায়েক মুক্তাদির হোসেন, সৈনিক প্রহল্লাদ চন্দ ও সৈনিক কার্তিক কুমার বিশ্বাসসহ অজ্ঞাতপরিচয় আরও ছয় র‌্যাব সদস্যের বিরুদ্ধে ঝালকাঠির আদালতে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলা করেন। রাজাপুর থানার এসআই আবদুল হালিম তালুকদার মামলাটির তদন্ত শেষে ২০১২ সালের ১৪ আগস্ট আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দিয়ে র‌্যাব সদস্যদের অব্যাহতির সুপারিশ করেন। লিমনের মা  হেনোয়ারা বেগম ওই প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে ২০১২ সালের ৩০ আগস্ট ঝালকাঠির জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম আদালতে নারাজি আবেদন জমা দেন। আদালত ২০১৩ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি তার নারাজি আবেদন খারিজ করে দেয়। এ আদেশের বিরুদ্ধে জেলা ও দায়রা জজ আদালতে একই বছরের ১৮ মার্চ রিভিশন করেন হেনোয়ারা বেগম। পরে ২০১৮ সালের ১ এপ্রিল অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ এস কে এম তোফায়েল হাসান রিভিশন মঞ্জুর করেন। এরপর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. সেলিম রেজা মামলাটি তদন্তের জন্য একই বছরের ২২ এপ্রিল পিবিআইকে নির্দেশ দেন। দীর্ঘদিন তদন্ত শেষে পিবিআই প্রধান কার্যালয়ের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মো. আমিনুল ইসলাম ২০২২ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর আদালতে আবারও থানা পুলিশের মত চূড়ান্ত প্রতিবেদন (সত্য) দাখিল করে। প্রতিবেদনে পিবিআই উল্লেখ করে, লিমন গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনা সত্য, তবে কারা তাকে গুলি করেছে তার কোনো সাক্ষী-প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ভবিষ্যতে সাক্ষী-প্রমাণ পাওয়া গেলে মামলাটি পুনরুজ্জীবিত করা হবে। এই চূড়ান্ত প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে লিমনের মা হেনোয়ারা বেগম আদালতে ২০২২ সালের ৫ ডিসেম্বর নারাজি আবেদন করেন।

লিমনের মায়ের দাবি, তার ছেলেকে র‌্যাব গুলি করে পঙ্গু করে দিয়েছে। এ ঘটনার তিনি সুষ্ঠু ও সঠিক বিচার দাবি করেন। ঘটনার শুরু থেকে লিমনকে আইনি সহায়তা দিচ্ছে মানবাধিকার সংগঠন আসক এবং ঝালকাঠির কয়েকজন আইনজীবী।