চার অর্থবছরে মোংলা বন্দরে কাঁচাপাট রপ্তানি কমেছে ১৪ গুণ

খুলনার মোংলা বন্দর দিয়ে ক্রমাগত হ্রাস পাচ্ছে কাঁচাপাট রপ্তানি। গত চার অর্থবছরে এর রপ্তানি কমেছে ১৪ গুণ। অথচ রপ্তানির সিংহভাগ যোগান দেয় দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল। অবশ্য বাংলাদেশ জুট অ্যাসোসিয়েশন (বিজেএ) বলছে, মোংলাবন্দরে জাহাজ নিয়মিত আসে না। খরচও অনেক বেশি। তাছাড়া আমদানিতে অন্যদেশের আগ্রহ কমেছে। ফলে কাঁচাপাট রপ্তানি একদমই ভারত নির্ভর হয়ে গেছে। সে কারণেই এই বন্দরে রপ্তানি কমছে। 

খুলনার দৌলতপুরস্থ বাংলাদেশ জুট অ্যাসোসিয়েশন (বিজেএ) সূত্রে জানা গেছে, দেশের চারটি বন্দর (বেনাপোল, চট্টগ্রাম, মোংলা ও বাংলাবান্দা) দিয়ে ভারত, পাকিস্তান, চীন, মালেশিয়া, জাপান, জার্মানি, মেক্সিকো, ফ্রান্স, কোরিয়া, ইন্দোনেশিয়া, থাইল্যান্ড, বেলজিয়াম, নেপাল, ব্রাজিল, ভিয়েতনাম, কেনিয়া, স্পেইন, আইভেরিকোস্ট, রাশিয়া, ফিলিপাইন, ইউকে, ইউএসএ, তিউনেশিয়া, জিবুতি, ইথিওপিয়া, উগান্ডা, তুর্কী ও স্লোভাকিয়া ইত্যাদি দেশে কাঁচাপাট রপ্তানি হয়। 

ওই সূত্রে জানা গেছে, দক্ষিণ-পশ্চিম ও উত্তরাঞ্চলের কাঁচাপাট রপ্তানিতে ব্যবহৃত হয় বাংলাবান্দা, বেনাপোল ও মোংলা বন্দর। গত ২০১৯-২০ অর্থবছরে মোংলা বন্দর দিয়ে ১ লাখ ৭৫ হাজার ২০০ বেল, বেনাপোল বন্দর দিয়ে ৩ লাখ ৩৯ হাজার ১৬৪ বেল, বাংলাবান্দা দিয়ে ৩৮ হাজার ৪০৬ বেল ও চট্টগ্রাম দিয়ে ৩ লাখ ১২ হাজার ৯৪ বেল কাঁচাপাট রপ্তানি হয়। 

২০২০-২১ অর্থবছরে মোংলা বন্দর দিয়ে ৮১ হাজার ২৫৬ বেল, বেনাপোল বন্দর দিয়ে ২ লাখ ২০ হাজার ৬৯৭ বেল, বাংলাবান্দা দিয়ে ২০ হাজার ২৮১ বেল ও চট্টগ্রাম দিয়ে ২ লাখ ৬৪ হাজার ৩৩৬ বেল। 

২০২১-২২ অর্থবছরে মোংলা বন্দর দিয়ে ৩১ হাজার ৪৪৭ বেল, বেনাপোল বন্দর দিয়ে ৩ লাখ ৭৮ হাজার ৩৮১ বেল, বাংলাবান্দা দিয়ে ১১ হাজার ২১৩ বেল ও চট্টগ্রাম দিয়ে ৩ লাখ ৮০ হাজার ১৮২ বেল। 

২০২২-২৩ অর্থবছরে মোংলা বন্দর দিয়ে ১২ হাজার ৪৬৯ বেল, বেনাপোল বন্দর দিয়ে ৭ লাখ ৫৯ হাজার ৯৭৭ বেল, বাংলাবান্দা দিয়ে ৪৬ হাজার ৭০৫ বেল ও চট্টগ্রাম দিয়ে ৪ লাখ ১৫ হাজার ৯৫৭ বেল। 

২০২৩-২৪ অর্থবছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত মোংলা বন্দর দিয়ে ২৭৪ বেল, বেনাপোল বন্দর দিয়ে ২ লাখ ৯৯ হাজার ৯৭৬ বেল, বাংলাবান্দা দিয়ে ৮২ হাজার ১১৮ বেল ও চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে ১ লাখ ২১ হাজার ৪৯৬ বেল কাঁচাপাট রপ্তানি হয়। 

অথ্যাৎ উল্লেখিত তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে দেখা যায় তিনটি বন্দরের মধ্যে বেনাপোল ও বাংলাবান্দা বন্দর দিয়ে ভারতে রপ্তানি বেড়েছে। কিন্তু মোংলা বন্দর দিয়ে রপ্তানি ক্রমাগতহারে কমেছে। গত সাড়ে চার অর্থবছরে কমেছে প্রায় ১৪ গুণ। যা উদ্বেগজনক বিষয়।

দৌলতপুরস্থ বাংলাদেশ জুট অ্যাসোসিয়েশনের (বিজেএ) সহকারী সচিব দেবাশিষ ভট্টাচার্য দেশ রূপান্তরকে বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতে সবচেয়ে বেশি পাট উৎপাদন হয়। উৎপাদিত কাঁচাপাট দেশের চাহিদা মিটিয়ে শুধুই বাংলাদেশই রপ্তানি করে। যা রপ্তানি হয় তার শতকরা ৭০ ভাগই বৃহত্তর ফরিদপুরসহ খুলনাঞ্চল থেকে যায়।

তিনি আরও বলেন, পাট উৎপাদনে কৃষকের খরচ বেশি। অন্যদিকে ব্যবসায়ীরা ব্যাংক লোন নিয়ে পাট ক্রয় করে। কিন্তু বিভিন্ন সময় সরকার কাঁচাপাট রপ্তানি বন্ধ করে। ফলে কৃষক ও ব্যবসায়ীরা কম দামে পাট বিক্রি করে সাংঘাতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এছাড়া আগে বাংলাদেশ থেকে বিভিন্ন দেশ কাঁচাপাট আমদানি করত। কিন্তু রপ্তানি বন্ধে চাহিদামতো কাঁচাপাট না মেলায় তাদের মিল উৎপাদনে যেতে পারেনি। এখন মিল বন্ধ থাকায় তাদের কাছে কাঁচাপাটের চাহিদা কমেছে।

দেবাশিষ ভট্টাচার্য বলেন, ভারত কাঁচাপাট রপ্তানি করে না। তারা পাটজাত পণ্য রপ্তানি করে। তাদের পাটকলগুলো অনেকাংশে বাংলাদেশের কাঁচাপাটের ওপর নির্ভরশীল। সে কারণে দেশের বাংলাবান্দা ও বেনাপোল বন্দর দিয়ে বেশি পাট রপ্তানি হচ্ছে।

বাংলাদেশ জুট অ্যাসোসিয়েশনের (বিজেএ) চেয়ারম্যান ফরহাদ আহমদ আঁকন দেশ রূপান্তরকে বলেন, বাংলাদেশে বিভিন্ন সময় কাঁচাপাট রপ্তানি বন্ধ ছিল। এছাড়া ইরাক-ইরান যুদ্ধ, রাশিয়া ভেঙে যাওযাসহ বৈশ্বিক কারণে বিদেশে কাঁচাপাট পায়নি। সে কারণে দিনে দিনে তাদের মিল বন্ধ হয়ে গেছে। তারা এখন পাটজাত পণ্য আমদানিতে উৎসাহী হয়েছে। 

মোংলা বন্দর দিয়ে কাঁচাপাট রপ্তানি কমে যাওয়ার বিষয়ে চেয়ারম্যান বলেন, বন্দরে নিয়মিত আসে না। অন্য বন্দরের তুলায় এ বন্দরে ভাড়া বেশি। এছাড়া রপ্তানির শতকরা ৮০ ভাগ পাট ভারতে রপ্তানি হয়।