হাসপাতাল থেকে ছাড় আরও দুজনের

রাজধানীর বেইলি রোডের গ্রিন কোজি কটেজে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন পাঁচজন। তাদের মধ্যে দুজনকে ছাড়পত্র দিয়েছেন চিকিৎসকরা। বাকিদেরও শারীরিক অবস্থার উন্নতির দিকে বলে জানিয়েছেন তারা। অন্যদিকে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার দুদিন পর গতকাল রবিবার থেকে স্বাভাবিক হচ্ছে ওই এলাকার ব্যস্ততা। তবে এখনো আতঙ্ক কাটেনি সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের।

গতকাল বেলা সাড়ে ১১টার দিকে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন আবাসিক সার্জন ডা. তরিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, ঘটনার দিন প্রথমে ১৪ জনকে ইনস্টিটিউটে নিয়ে আসা হয়েছিল। এর মধ্যে ১১ জনকে ভর্তি নেওয়া হয়। গতকাল ৬ জনকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। আজ (রবিবার) আরও দুজনকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। আপাতত ৩ জন ভর্তি আছে। তাদের সবার অবস্থা উন্নতির দিকে।

তরিকুল ইসলাম বলেন, ভর্তি তিনজনের মধ্যে দুজনের আগে থেকেই শ্বাসকষ্টের সমস্যা ছিল। একজনের আঘাতজনিত সমস্যা ছিল। তাদের বিশেষভাবে যত্ন নেওয়া হচ্ছে। ধোঁয়ার কারণে তাদের শ্বাসনালি ক্ষতি হওয়ায় এখনো শ্বাসকষ্ট রয়েছে। এ ছাড়া গলাব্যথাও রয়েছে। প্রয়োজনমতো অক্সিজেন দিয়ে রাখা হচ্ছে।

এদিকে ভয়াবহ এই অগ্নিকাণ্ডের ধীরে ধীরে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে শুরু করেছে বেইলি রোড এলাকা। আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত গ্রিন কোজি কটেজ ভবনের আশপাশের বেশ কিছু দোকানপাট গতকাল সকাল থেকে খুলতে শুরু করেছে। তবে এখনো আতঙ্ক কাটেনি এলাকাবাসী ও ব্যবসায়ীদের। এলাকায় এখন যেসব ভবন আছে, সেগুলো কতটা নিরাপদ সে বিষয়ে নজর দেওয়ারও দাবি তুলেছেন তারা। এ ছাড়া অগ্নিকাণ্ডের জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছেন।

গত বৃহস্পতিবার রাতে বেইলি রোডের গ্রিন কোজি কটেজ নামের বহুতল ভবনে ভয়াবহ এই আগুনে এখন পর্যন্ত ৪৬ জন নিহত হয়েছে। এর মধ্যে ৪৪ জনের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বাকি দুটি মরদেহ ময়নাতদন্তের পর ডিএনএ নমুনা মিলিয়ে দাবিদারের কাছে হস্তান্তর করা হবে বলে জানা গেছে।