আর্জেন্টিনার মোহভঙ্গ করে ফের বাংলাদেশে ফিরেছেন জামাল ভুঁইয়া। বাকী মৌসুমের জন্য যোগ দিয়েছেন আবাহনী লিমিটেডে। ওমানে বন্ধুর সঙ্গে সময় কাটিয়ে ঢাকায় ফিরে আবাহনীতে যোগ দেওয়ার দিন তার কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল আর্জেন্টিনার তৃতীয় বিভাগের ক্লাব সোল ডি মায়োর সঙ্গে চুক্তি ছিন্ন করেছেন কীনা? এ বিষয়টি পরিস্কার করেননি জামাল। কেবল বলেছিলেন চুক্তি শেষ, অপেক্ষায় আছেন আন্তর্জাতিক ছাড়পত্রের।
তবে সময় যত গড়াচ্ছে বের হয়ে আসছে নতুন তথ্য। মাসিক ১২ হাজার ডলার বেতনে আর্জেন্টাইন ক্লাবটির সঙ্গে জামালের চুক্তি ছিল ১৫ মাসের। গত বছর আগস্টে যোগ দেওয়ার পর অবশ্য নভেম্বরেই সেই চুক্তি ছিন্ন করেন নিয়মিত বেতন না পাওয়ার অভিযোগে। বেতন নিয়ে নয়ছয়ের কারণে ফিফার কাছেও সোল ডি মায়োর বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন ৩৩ বছর বয়সী মিডফিল্ডার। জামালের অভিযোগ পেয়ে ক্লাবটিক কারণ দর্শাতে বলেছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্তা সংস্থা।
বাংলাদেশের শীর্ষ লিগ ছেড়ে আলোচনায় থাকতেই আর্জেন্টিনার তৃতীয় বিভাগের দল সোল ডি মায়োতে নাম লিখিয়েছিলেন জামাল। এমনিতে তার সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স মোটেও ভালো নয়। বয়সের কারণে ফিটনেসে ঘাটতিও বোঝা যায়। সাম্প্রতিক সময়ে পুরো ৯০ মিনিটে খুব কম ম্যাচেই খেলতে দেখা গেছে তাকে। তার উপর আর্জেন্টিনায় ফুটবল মৌসুমে বিরতি থাকায় প্রায় সাড়ে তিন মাস ধরে খেলার মধ্যে নেই তিনি। তারপরও জামালে মজে আছেন বাংলাদেশ দলের স্প্যানিশ কোচ হাভিয়ের কাবরেরা। চলতি মাসে বিশ্বকাপ ও এশিয়ান কাপের যৌথ বাছাইয়ের দুটি ম্যাচের জন্য ২৮ জনের প্রাথমিক তালিকায় রাখা হয়েছে তাকে। এখন তিনি দলের সঙ্গে আছেন সৌদি আরবে। নাজুক অবস্থায় লিগের প্রথমপর্ব শেষ করা আবাহনী জামালকে ঠাঁই দিয়েছে তাদের ডেরায়। এখন প্রকাশ পেলো আর্জেন্টিনায় তার তেতো অভিজ্ঞতার বিষয়টি। নিজেই বলেছেন, ‘বেতন না পেয়ে আমি ফিফার কাছে অভিযোগ করেছি।’
আবাহনীতে নাম লিখালেও এখনো সোল ডি মায়োর কাছ থেকে আইটিসি (আন্তর্জাতিক ছাড়পত্র) পাননি জামাল। সেটা না পাওয়া পর্যন্ত আবাহনীর হয়ে মাঠে নামতে পারবেন না তিনি। তাছাড়া নিজে থেকে চুক্তি ছিন্ন করায় দাবীকৃত বকেয়া পাওয়াও অনিশ্চয়তায় তার। তাই বাধ্য হয়েই তিনি গেছেন ফিফার কাছে।