এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বে ব্যর্থ হওয়ার পর ছেলেদের জাতীয় দলের কোচ হাভিয়ের কাবরেরার বিদায় ঘণ্টা বেজে গেছে। নতুন কোচ চেয়ে বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন। যা চোখ এড়ায়নি নারী দলকে অনেক সাফল্য এনে দেওয়া ব্রিটিশ কোচ পিটার বাটলার-এর। তবে যেচে এই পদের জন্য আবেদন করবেন না তিনি।
দেশ রূপান্তর-এর সুদীপ্ত আনন্দ-কে পরিষ্কার জানিয়েছেন, বাফুফে যদি চায়, তবে হামজাদের দায়িত্ব নিতে সম্মত তিনি।
প্রশ্ন : ধারণা করি আপনার হাতে বিশ্রামের পর্যাপ্ত সময় নেই। কারণ হ্যাটট্রিক সাফ জয়ের জন্য আপনাকে সিনিয়র দলকে প্রস্তুত করতে হবে। আপনি কি সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের জন্য প্রস্তুতি পরিকল্পনা তৈরি করেছেন?
পিটার বাটলার : হ্যাঁ, ইতিমধ্যে তৈরি করে জমাও দিয়েছি। আমি আগামীকাল (আজ) সকালে অনুশীলন করাব।
প্রশ্ন : তাহলে প্রস্তুতির চূড়ান্ত ধাপ কি আগামীকাল (আজ) সকাল থেকে শুরু হচ্ছে?
বাটলার : বিষয়টা তেমন না। আগামীকাল আমরা পুনরায় একত্র হব।
প্রশ্ন : তার আগে কি বাফুফে সভাপতি বা শীর্ষ কর্তাদের সঙ্গে কোনো আলোচনা বা সভা হয়েছে?
বাটলার : না, এখনো হয়নি।
প্রশ্ন : একটা বড় আসরের প্রস্তুতির আগে তো আলোচনা হয় জানি। সবাই আশা করে এবার আপনি দলকে সঠিকভাবে প্রস্তুত করার জন্য যা যা প্রয়োজন তার সবকিছুই কোনো বাধা ছাড়াই পাবেন।
বাটলার : দেখা যাক কী হয়। আমি আমার সেরাটা দিই সবসময়। ভালো কথা, সবাই জিজ্ঞেস করছে আমি ছেলেদের জাতীয় দলের পদের জন্য আবেদন করব কি না...
প্রশ্ন : যেহেতু বাফুফে একজন নতুন কোচের খোঁজ করছে, তাই জানতে চাইতেই পারে।
বাটলার : আমি এই পদের জন্য আবেদন করছি না, তবে আমি জানি এই কাজের জন্য সেরা ব্যক্তিটি কে...
প্রশ্ন : আমাকে বলুন, কে তিনি?
বাটলার (একটু সময় নিয়ে) : এই দেশে জাতীয় দলের জন্য আমিই সঠিক ব্যক্তি। কারও আমার মতো জাতীয় দলের অভিজ্ঞতা নেই। আমি আফ্রিকা মহাদেশে কোচিং করিয়েছি, লাইবেরিয়া এবং বতসোয়ানা দলকে টিকিয়ে রেখেছি যখন তারা তিন বছরের স্টেডিয়াম নিষেধাজ্ঞার মধ্যে ছিল। ঐ দেশগুলোর জাতীয় দলের জন্য কল্পনাতীত পরিমাণে তরুণ খেলোয়াড় তৈরি করেছি। তারপরও হয়তো আমি সবার পছন্দের মানুষ নই। কারণ আমি দলগুলোকে সুসংগঠিত করি, নিজস্ব খেলার ধরন তৈরি করি। পাইপলাইন তৈরি করি, সংস্কৃতি বুঝি এবং খেলোয়াড়দের চিনি। গত ৩ বছরে অনূর্ধ্ব-২০ জাতীয় দল থেকে কতজন তরুণ খেলোয়াড় সিনিয়র দলে সুযোগ পেয়েছে, বলেন? শূন্য।
প্রশ্ন : বাফুফে যদি আপনাকে দায়িত্ব নেওয়ার প্রস্তাব দেয়, আপনার সিদ্ধান্ত কী হবে? মানে পুরুষ জাতীয় দলের সঙ্গে কাজ করার ব্যাপারে আপনার আগ্রহ আছে?
বাটলার (সরাসরি উত্তর না দিয়ে) : যা ঘটছে তা দেখে আমি কেবল বসে বসে হাসি। তারা হয়তো বিশাল বেতনে এমন একজন কোচকে নিয়োগ দেবে যিনি সম্ভবত বেকার এবং শরতের বাতাসের মচমচে শুকনো পাতার মতো উদ্দেশ্যহীনভাবে ভেসে বেড়াচ্ছেন। আমি আমার সারা জীবন এশিয়া ও আফ্রিকার সুপার লিগগুলোতে এবং ৮ বছরের জাতীয় দলের দায়িত্ব পালন করেছি।
প্রশ্ন : তাহলে আপনি কেন এ নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলছেন না?
বাটলার : আমি অবশ্যই তাদের সঙ্গে কথা বলতাম। আমি জানি, আমি খুব দ্রুত এই দলের চিত্র বদলে দিতে পারব কারণ আমি জানি কী করে সেরাটা বের করে আনা যায় এবং আমি ধীরে ধীরে তরুণ খেলোয়াড়দের সুযোগ দিতাম। দেখুন, আমি আজেবাজে কথা বলি না। আমি দল, স্কোয়াড এবং খেলার একটা স্বতন্ত্র কৌশল গড়ে তুলি।
প্রশ্ন : আপনি যখন প্রথম বাফুফেতে যোগ দিয়েছিলেন, তখন আপনাকে এলিট অ্যাকাডেমির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। এরপর বাফুফে আপনাকে নারী দলগুলোর দায়িত্ব দেয়। ভূমিকা পরিবর্তনের পর তারা কি আপনার বেতন বাড়িয়েছিল?
বাটলার : এটি একটি ব্যক্তিগত চুক্তি এবং গোপনীয়। তারা আমাকে পারিশ্রমিক দিয়েছে। আমি টাকার জন্য কোচিং করাই না, আমি কোচিং করাই কারণ আমি এটি ভালোবাসি এবং অবশ্যই পারিশ্রমিক পাই, তবে কোচিং আমার নেশা। বাফুফেতে যারা আমার সঙ্গে কাজ করেছে তাদের যে কাউকে জিজ্ঞেস করুন; তারা হয়তো আমাকে পছন্দ নাও করতে পারে কারণ আমি কঠোর, তবে আমি খেলোয়াড় ও দলগুলোকে শনাক্ত করি এবং তাদের উন্নতি ঘটাই।
প্রশ্ন : আপনি কেন দাবি করলেন যে আপনিই পুরুষ জাতীয় দলের জন্য সেরা বিকল্প?
বাটলার : তারা (খেলোয়াড়রা) আমার জন্য খেলত কারণ তারা আমার দৃষ্টিভঙ্গি এবং দর্শন পছন্দ করত যেমনটা মেয়েরা করে। খেলোয়াড়রা আমার সেটআপ, কোচিং এবং সেশনগুলো ভালোবাসে। আমি একজন কোচ, আজেবাজে কথা বলা লোক নই। আমি জ্ঞান দান করি, আমি কোচিং করাই এবং অনুপ্রাণিত করি, আমি ঘড়ি ধরে কাজ করি না। আমি হয়তো আবেদন করব না, তবে আমি তাদের মঙ্গল কামনা করি।
প্রশ্ন : আবারও জানতে চাচ্ছি বাফুফে যদি প্রস্তাব দেয়, আপনি তা বিবেচনা করবেন?
বাটলার : অবশ্যই আমি এটি বিবেচনা করব। আমি তো অত বোকা নই। কিন্তু যদু মধুর মতো প্রত্যেক সদস্যই বিভিন্ন কারণে তাদের পছন্দের প্রার্থীদের জন্য তদবির করছে। তারা জানে আমি কোথায় আছি, যদি তারা আমাকে চায়। মনে রাখবেন, আমি ইংলিশ ফুটবলের সর্বোচ্চ স্তরে ৫০০টি হাই-প্রোফাইল ম্যাচ খেলেছি। তারা যদি আলোচনা করতে চায় তবে আমরা কথা বলতে পারি। তারা জানে আমি কী দিতে পারব, আমার সক্ষমতা কী।
