ধর্মঘট

৯ হাজার চিকিৎসকের লাইসেন্স স্থগিত করছে দ. কোরিয়া!

দক্ষিণ কোরিয়ায় মেডিকেল ভর্তিতে আসন সংখ্যা বাড়ানোর সরকারি সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ধর্মঘট করছে প্রায় ১০ হাজার জুনিয়র চিকিৎসক। সরকারি নির্দেশের পরও যারা কর্মস্থলে যোগ দেয়নি সোমবার (০৪ মার্চ) থেকে তাদের লাইসেন্স স্থগিত করা শুরু করেছে দেশটির সরকার।

সপ্তাহ দুয়েক আগে দক্ষিণ কোরিয়ায় ধর্মঘট শুরু হয়। সরকার তাদের ২৯ ফেব্রুয়ারির মধ্যে কাজে যোগ দেওয়ায় সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিল। ধর্মঘটের কারণে চিকিৎসাসেবা, সার্জারি ব্যাহত হয়েছে। সরকারকে জনস্বাস্থ্যের সর্বোচ্চ এলার্ট জারি করতে হয়েছে।

দক্ষিণ কোরিয়ার আইন অনুযায়ী, সরকার মেডিকেল খাতের পেশাজীবীদের ধর্মঘট বন্ধ করার নির্দেশ দিতে পারে বা তাদের লাইসেন্স স্থগিত করতে পারে, এমনকি সর্বোচ্চ তিন বছরের জেল ও জরিমানা করতে পারে। খবর ডয়চে ভেলের।

দেশটির উপ স্বাস্থ্যমন্ত্রী পার্ক মিন-সু এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, সরকারি নির্দেশের পর মাত্র ৫৬৫ জন চিকিৎসক কাজে যোগ দিয়েছে। এখনো প্রায় ৯ হাজার চিকিৎসক ধর্মঘট করছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, যারা বিশেষায়িত মেডিকেল সার্টিফিকেট পাওয়ার চেষ্টা করছে তাদের সেটা পাওয়া এক বছর পর্যন্ত দেরি হয়ে যেতে পারে। এতে তাদের ক্যারিয়ার ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

দক্ষিণ কোরিয়ায় বৃদ্ধ নাগরিকের সংখ্যা বাড়তে থাকায় ও উন্নত দেশগুলোর তুলনায় রোগীপ্রতি চিকিৎসকের সংখ্যা কম হওয়ায় সরকার মেডিকেলে ভর্তির আসন সংখ্যা বছরে তিন থেকে বাড়িয়ে পাঁচ হাজার করতে চাইছে। কিন্তু ধর্মঘটরত চিকিৎসকেরা বলছে, এতে মেডিকেল শিক্ষার মানের অবনতি হবে। এছাড়া ভবিষ্যতে অপ্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা দেওয়ার পরিমাণ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকবে।

নতুন চিকিৎসকেরা প্লাস্টিক সার্জারি ও ডার্মাটোলজির মতো অপ্রয়োজনীয় সেবায় ঝুঁকতে পারে বলেও মনে করছে ধর্মঘটরত চিকিৎসকেরা। তবে সমালোচকেরা বলছে, ধর্মঘটরত চিকিৎসকেরা মূলত তাদের বেতন ও স্ট্যাটাস রক্ষায় বেশি আগ্রহী। জরিপ বলছে, তিন-চতুর্থাংশ মানুষ চিকিৎসকদের ধর্মঘটের বিরোধিতা করছে।

দক্ষিণ কোরিয়ায় এক লাখ ৪০ হাজার চিকিৎসক আছে। সিনিয়র চিকিৎসকেরা ধর্মঘট না করলেও তাদের অনেকে ধর্মঘটের সমর্থনে বিক্ষোভে অংশ নিয়েছে।