স্ত্রী আর দুই ছেলে মেয়ে নিয়ে তিন সদস্যের সংসার। ছেলে তামিমের বয়স ছয় বছর। মেয়ে তানিয়া ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ছে। জীবিকার তাগিদে আর ছেলে-মেয়েদের মানুষ করতে পরিবারের মায়া ত্যাগ করে যাযাবর প্রকৃতির জীবনযাপন করছেন মো. তরিকুল ইসলাম। ৪০ বছর বয়সী এই যুবক সকাল থেকে রাত পর্যন্ত সাইকেলের প্যাডেল ঘুরিয়ে প্লাস্টিকের প্রয়োজনীয় সামগ্রী ফেরি করে বিক্রি করেন। সেই উপার্জনের টাকায় চলে তার সংসার। গত ৬ বছর ধরে তরিকুল সাইকেলের প্যাডেল ঘুরিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছেন। গতকাল সোমবার ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার সরিষা ইউনিয়নের কুর্শিপাড়া দেখা মেলে তার। সেখানেই কথা হয় তার সঙ্গে।
আলাপকালে তিনি বলেন, উপজেলার সোহাগি বাজারে একটি ভাড়া বাসায় তিনি থাকছেন। সেখানে থেকে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সাইকেল চালিয়ে গিয়ে প্লাস্টিকের নিত্যপ্রয়োজনীয় মালামাল বিক্রি করেন। দৈনিক ২ থেকে ৩ হাজার টাকার পণ্য বিক্রি করতে পারেন। এতে দৈনিক ৫'শ থেকে ৭'শ টাকা লাভ হয়। মাসে বাসা ভাড়া দিতে হয় ৬০০ টাকা। আর খাবার খরচ চলে যায় মাসে ৬ হাজার টাকা। মাসে ১২ থেকে ১৫ হাজার টাকা বাড়িতে পাঠাতে পারি। তরিকুল ইসলামের বাড়ি রাজশাহী বিভাগের চাঁপাইনবাবগঞ্জ উপজেলার মনকষা ইউনিয়নের হাউজ নগর গ্রামে। তিনি ওই গ্রামের সাগর আলীর ছেলে।
তরিকুল ইসলাম বলেন, আগে নিজ এলাকায় কৃষি শ্রমিকের কাজ করতাম। এভাবে আর সংসার চালাইতে পারছিলাম না। তাই জীবিকার তাগিদে বেছে নিতে হয়েছে এই পেশা। ছাড়তে হয়েছে নিজ এলাকা। গত প্রায় ৬ বছর ধরে এ পেশায় আছি। ঈশ্বরগঞ্জের সোহাগি বাজার থেকে সাইকেলের সামনে-পেছনে হরেক রকমের প্লাস্টিকের মালামাল ভরে বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে বিক্রি করছি। প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত এসব মালামাল বিক্রির করতে ঘুরে বেড়াই গ্রাম গ্রামে। বিক্রি করি মানুষের নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী। কষ্ট হলেও জীবিকার তাগিদে করছি এ কাজ।
তিনি বলেন, আমার কাছে ১০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত প্লাস্টিকের মালামাল রয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে- হাড়ি, পাতিল, জগ, মগ, বালতি, ঝুড়ি, লবণ বাটি, সাবান কেইচ, গুঁড়ি চালুনি এবং শিশুদের ক্রিকেট বল, ব্যাট, বেডমিন্টনের ব্যাটসহ বিভিন্ন ধরনের খেলনা সামগ্রী। প্রতিদিন সকালে বের হয়ে রাত পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে এসব সামগ্রী বিক্রি করি। দামে কম, আর মানে ভালো হওয়ায় মানুষজন আমার থেকে এসব মালামাল কিনেন। দিনশেষে রাতে বাসায় ফেরা পর্যন্ত দুই থেকে তিন হাজার টাকার মতো প্লাস্টিকের এসব মালামাল বিক্রি করতে পারি। যেখানে থেকে খরচবাদে পাঁচ থেকে সাতশত টাকার মতো লাভ হয়। এই লাভের টাকায় চলে সংসার।
তিনি আরো বলেন, সংসারে স্ত্রী-ছেলেমেয়েসহ ৫ জন সদস্য। মেয়েটি পড়ালেখা করছে। মাস শেষে যা আয় হয় তার কিছু অংশ নিজে রেখে বাকি অংশ বাড়িতে স্ত্রী-সন্তানের জন্য পাঠাই। আবার নিজেই কখনো দুই মাস বা তিন মাস পর পর বাড়িতে যাই।
প্লাস্টিকের বালতি ও জগ কিনতে আসা রুমা আক্তার বলেন, 'সংসারের কাজের জন্য প্লাস্টিকের বালতি ও জগ কিনেছি। বাজারের তুলনায় ফেরিওয়ালার কাছে কম দামে এসব জিনিস পাওয়া যায়।