বাংলাদেশ ও এর বাইরে একটি টেকসই এবং প্রতিযোগিতামূলক পোশাকশিল্পের জন্য নৈতিক, ন্যায়সংগত ও পরিবেশবান্ধব শিল্পের ওপর দৃষ্টি দেওয়া দরকার বলে মনে করেন সাসটেইনেবল অ্যাপারেল ফোরাম-২০২৪-এ অংশগ্রহণকারী বক্তারা।
বাংলাদেশ অ্যাপারেল এক্সচেঞ্জ, আইএলও-আইএফসি বেটার ওয়ার্ক বাংলাদেশের সঙ্গে অংশীদারিত্বে এবং জিআইজেড ও ওয়াটারএইডের সহযোগিতায় গতকাল মঙ্গলবার সাসটেইনেবল অ্যাপারেল ফোরাম-সাফ-২০২৪-এর আয়োজন করে।
হোটেল র্যাডিসনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সরকারি কর্মকর্তা, শিল্প নেতা এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অংশীজনরা আরও নৈতিক ও পরিবেশবান্ধব পোশাকশিল্পের প্রতি জোর দেন।
বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম পোশাক রপ্তানিকারক হিসেবে এ খাতে ৪০ লাখের বেশি লোক কাজ করেন। বাংলাদেশ বিশ^ব্যাপী পোশাক সরবরাহ শৃঙ্খলে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সাফ ২০২৪ এমনভাবে সাজানো হয়, যাতে এ খাতের কর্মকর্তারা এক হয়ে প্রয়োজনীয় বিষয়ে আলোচনা করে সমাধানের পথকে ত্বরান্বিত করতে পারেন। এই ফোরাম পোশাক খাতের সেরা উদ্যোগগুলো এগিয়ে নিতে উৎসাহিত করেছে। পোশাক খাতের আরও টেকসই ভবিষ্যতের দিকে পদক্ষেপ নেওয়ার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে এই ফোরাম।
উদ্বোধনী বক্তব্যে বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান ফজলুর রহমান দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে শিল্পের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা এবং ক্রমাগত উদ্ভাবন ও টেকসই চর্চার গুরুত্বের ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও উন্নয়নে পোশাকশিল্প গুরুত্বপূর্ণ। এই গতি বজায় রাখার জন্য আমাদের অবশ্যই স্থায়িত্ব এবং নৈতিক অনুশীলনকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।
টেকসই প্রবৃদ্ধি অর্জনে উন্নয়ন সহযোগিতার গুরুত্বের ওপর জোর দিয়ে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী সদস্য অভিজিৎ চৌধুরী বলেন, পোশাকশিল্পের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং অর্থবহ পরিবর্তনের জন্য সরকার, শিল্প এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারদের মধ্যে সহযোগিতা অপরিহার্য।
আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ভূমিকা উল্লেখ করে বাংলাদেশে ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত এবং প্রতিনিধিদলের প্রধান চার্লস হোয়াইটলি, টেকসই অবস্থার দিকে বাংলাদেশের প্রচেষ্টাকে সমর্থন করার জন্য ইইউর প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেন, উন্নয়ন সহযোগিতা পোশাকশিল্পের মধ্যে নৈতিক অনুশীলন, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং সামাজিক অন্তর্ভুক্তি প্রচারে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সাসটেইনেবল অ্যাপারেল ফোরামে মূলত শিল্পের মধ্যে শোভন কর্মপরিবেশের প্রসার, সাফল্য এবং প্রতিযোগিতা বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি রয়েছে।