চলন্ত ট্রেনের মধ্যে হঠাৎ হার্ট অ্যাটাক যাত্রীর, তারপর ...

ট্রেনের ভেতরে ছিলো না প্রেশার মাপা কিংবা ডায়াবেটিস চেকের কোনো যন্ত্র। ছিলো না প্রাথমিক জরুরি ওষুধের বাক্সও। সেই ট্রেনের মধ্যে হঠাৎ গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন একজন যাত্রী। ওই সময় কী করার ছিল ট্রেন কর্তৃপক্ষের? তারা ট্রেনের মাইকে ঘোষণা দেন, গ বগিতে একজন যাত্রী গুরুতর অসুস্থ, ট্রেনে কোনো চিকিৎসক থেকে থাকলে তিনি যাতে সহায়তা করেন। রোগীর ভাগ্য ভালো। ট্রেনটির ড বগিতে ছিলেন একজন চিকিৎসক। তিনি এগিয়ে আসেন। গিয়ে দেখেন রোগীর শরীর ঠান্ডা হয়ে যাচ্ছে।

ঘটনাটি ঘটেছে সোমবার (৪ মার্চ) দিনাজপুর থেকে ঢাকাগামী ডাউন দ্রুতযান এক্সপ্রেস ট্রেনে। ট্রেনটি টাঙ্গাইলে আসার পর ট্রেনের মাইকে ঘোষণাটি দেওয়া হয়েছিল। 

রোগী আবু সায়াদ চৌধুরীর (৪০) গ্রামের বাড়ি দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলার গোপালপুরে। চিকিৎসক আহসান হাবিবের বাড়ি টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে। সোমবার আবু সায়াদ তাঁর পরিবার নিয়ে ঢাকায় ফিরছিলেন। আর আহসান হাবিব সিরাজগঞ্জ সিভিল সার্জন অফিস থেকে প্রশিক্ষণ শেষে ঢাকায় ফিরছিলেন।

ট্রেনে ঘোষণার পর ডা. আহসান হাবিব এগিয়ে গিয়ে দেখেন, রোগী প্রায় অচেতন অবস্থায় আছেন। তিনি ট্রেনের পরিচালকের কাছে ডায়াবেটিস বা প্রেশার মাপার যন্ত্র চান। ট্রেনে তা ছিল না। প্রাথমিক জরুরি ওষুধের বাক্স পর্যন্ত নেই। আরেক যাত্রী কিছু ওষুধ দিয়ে ডাক্তারকে সহায়তা করেন।

ট্রেনের এই অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে এই চিকিৎসক ফেসবুকে একটি পোস্ট দিয়েছেন। তার পর থেকেই বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ তাকে শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন।

ডা. আহসান হাবিব জানান, রোগীকে ট্রেনের মধ্যে যতটুকু সম্ভব প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ট্রেনের পরিচালককে ট্রেনটি মির্জাপুর স্টেশনে থামাতে বলেন। এরপর দ্রুত রোগীকে কুমুদিনী ওমেন্স মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করা হয়। তখন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে তিনি জানতে পারেন রোগী হার্ট অ্যাটাক করেছিলেন।

আহসান হাবিব বলেন, দূরপাল্লার যাত্রায় যে কেউ যেকোনো সময় অসুস্থ হয়ে যেতে পারেন। তাই ট্রেনে প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য ফার্স্ট এইড বাক্সসহ জীবন বাঁচানোর মতো কিছু ওষুধ রাখতে হবে। ট্রেনে চিকিৎসক রাখা সম্ভব না হলেও স্টেশনগুলোতে ব্যবস্থা রাখা জরুরি।