আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মধ্যকার দুই হাজার ৬০০ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত রেখাকে বলা হয় ডুরান্ড লাইন। এই ‘বিতর্কিত’ সীমান্তটি দুই দেশের পাশাপাশি বিচ্ছিন্ন করেছে পশতুন জনগণকে। এছাড়াও এটি কেন্দ্র করে আফগানিস্তানে আশ্রয় নেওয়া সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলো বিবাদে লিপ্ত হচ্ছে, যা দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে সংঘাতের সূত্রপাত করতে যাচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সম্প্রতি আফগানিস্তানের পররাষ্ট্র বিষয়ক উপমন্ত্রী শের মোহাম্মদ আব্বাস স্তানিকজাই পাকিস্তানের দাবি প্রত্যাখ্যান করে বলেন, আফগানিস্তান কখনো ডুরান্ড লাইনকে পাকিস্তানের সীমান্ত হিসেবে মেনে নেয়নি। ফলে সীমান্তটি দুই প্রতিবেশীর মধ্যে ক্রমাগত সন্দেহ ও উত্তেজনার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এটি পশতুন অঞ্চলগুলো বিভক্ত করেছে, যার ফলে ঐতিহ্যবাহী সম্প্রদায়টির বন্ধন বিচ্ছিন্ন হয়েছে যা অনন্য সাংস্কৃতিক পরিচয় তৈরি করেছিল।
২০২২ সালের আগস্টে তালিবান ক্ষমতায় আসার আগে থেকেই ডুরান্ড লাইন বরাবর কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ শুরু করে পাকিস্তান। এর ফলে আফগান বাহিনীর সঙ্গে পাকিস্তানের প্রায়ই সংঘর্ষ হয়। ইসলামাদের বিশ্বাস, এই কাঁটাতারের বেড়া আফগানিস্তান থেকে উদ্ভূত অব্যাহত সুরক্ষা হুমকির একটি ব্যবহারিক সমাধান। যদিও জঙ্গি গোষ্ঠী দ্বারা সৃষ্ট এসব হুমকিগুলো পাকিস্তানের নিজস্ব দ্বৈত নীতির ফল।
মার্কিন নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক বাহিনীকে ক্ষমতাচ্যুত করতে তালিবানকে সামরিক ও অন্যভাবে সমর্থন করেছিল পাকিস্তান। যদিও আফগানিস্তানের একটি ভিন্ন অবস্থান আছে। কিন্তু দেশটিকে ভারতের বিরুদ্ধে ‘কৌশলগত গভীরতা’ মতবাদের মূল অংশ বিবেচনা করেছে পাকিস্তান।
ডুরান্ড লাইন পাকিস্তানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ যেহেতু্ এটি ‘পশতুনিস্তান’-এর দাবি মোকাবিলায় কার্যকর উপায়। কিন্তু আফগানিস্তান এই সীমান্তকে চিহ্নের চেয়েও বেশি কিছু হিসেবে দেখে, যেহেতু এটি পশতুন জাতিকে বিভক্ত করেছে। তাই পাকিস্তান যখন দাবি করে ডুরান্ড লাইন ‘ঐতিহাসিক সীমানা’ এবং আফগানিস্তানের সঙ্গে সীমান্ত নিয়ে কোনো সমস্যা নেই তখন আফগানিস্তানের পররাষ্ট্র বিষয়ক উপমন্ত্রী এমন বিবৃতি দেন।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, সীমান্ত নির্ধারণের চুক্তিটি ১৮৯৩ সালে তৎকালীন ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি আফগানিস্তানের তৎকালীন শাসক আব্দুর রহমান খানের মধ্যে স্বাক্ষরিত হয়েছিল। এতে পাকিস্তানের কোনো ভূমিকা ছিল না। কারণ দেশটির তখন অস্তিত্ব ছিল না।
ধারণা করা হচ্ছে, দেশ দুটি অন্যান্য বিতর্কিত বিষয়গুলোর মতো একটি মধ্যবর্তী পথ খুঁজে পেতে অস্বীকার করায় ডুরান্ড লাইন অদূর ভবিষ্যতে সংঘাতক্ষেত্র হয়ে উঠবে। ইতোমধ্যে পশতুনদের মধ্যে পাকিস্তান রাষ্ট্র ও সেনাবাহিনী সম্পর্কে গভীর সংশয় প্রতিফলিত হচ্ছে। যদিও খাইবার পাখতুনখোয়াকে (কেপিকে) এনডব্লিউএফপি নামকরণ করে পশতুনদের শান্ত করার চেষ্টা করেছে পাকিস্তান।
ভাষান্তর: নাজমুস সাকিব রহমান