৩০০ টাকার স্ট্যাম্পের কথা বলে কোটি টাকার জমি দখলচেষ্টা

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে পাতাকুঁড়ি সোসাইটি নামে একটি বেসরকারি সংস্থার বিরুদ্ধে কোটি টাকার জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে। এ ব্যাপারে শ্রীমঙ্গল থানা ও সদর ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম আদালতে অভিযোগ করেও সমাধান পাচ্ছেন না ভুক্তভোগী ভূমিমালিক।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার রাধানগর এলাকার বেগুনবাড়িতে আরও জায়গার পাশাপাশি উক্ত মালিকের দাগের ১৯০ শতক জায়গা কিনে চা বাগান করেছে পাতাকুঁড়ি সোসাইটি। সেই সুযোগে একই দাগের অভিযোগকারী মালিকের জায়গার সঙ্গে লাগোয়া অন্য আরও এক মালিকের জায়গাসহ আনুমানিক প্রায় দেড় থেকে দুইশ শতক জায়গার সীমানা অতিক্রম করে চা গাছ লাগিয়ে দখলের চেষ্টা করছে বেসরকারি সংস্থাটি।

জানা গেছে, উপজেলার রাধানগর একটি পর্যটন আকর্ষণ এলাকা। সেখানে গ্র্যান্ড সুলতান টি রিসোর্টসহ অসংখ্য হোটেল, কটেজ ও রিসোর্ট গড়ে উঠেছে। যার ফলে এখানকার জমির মূল্য দিনদিন বেড়েই চলেছে। ফলে সেই জায়গায় চোখ পড়েছে বেসরকারি সংস্থা 'পাতাকুঁড়ি সোসাইটি'র। যেখানে সংস্থাটি নিজের কিছু জমি কিনে অন্য মানুষের জায়গা দখলের চেষ্টা করছে।

এ ব্যাপারে থানা ও সদর ইউনিয়ন পরিষদে গ্রাম আদালতে অভিযোগ করেছেন মৌলভীবাজার সদর উপজেলার বাসিন্দা মো. মুশফিক আহমদ সাদিক।

তিনি বলেন, আমার পিতা মরহুম মোজাম্মিল আলী খরিদসূত্রে এবং এসএ পরচামূলে এই জমির মালিক। আমাদের পিতা মারা যাওয়ায় আমাদের নামে নামজারি করা হয়েছে। নিয়মিত খাজনা ও ইউনিয়ন ট্যাক্স দিয়ে আসছি। করোনাকালীন লকডাউনের সময় পাতাকুঁড়ি সোসাইটির এমডি সুব্রত দাস তাদের লোকবল দিয়ে আমাদের জায়গার আম-কাঁঠালসহ অন্যান্য ফলদ গাছ কেটে অবৈধভাবে জমি দখলের চেষ্টা করে। তখন আমরা তাদের বাধা দিই। কিন্তু তারা সেটা অমান্য করে বারবার জোরপূর্বক আমাদের জমি দখলের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। কিছুদিন আগে আমাদের জায়গায় কাজ করিয়ে সাইনবোর্ড লাগালে তাদের লোকজন সেটা ভেঙে ফেলে এবং তাদের লোকজন আমার দিকে দা নিয়ে তেড়ে আসে। তখন আমি প্রাণভয়ে সরে আসি। এ বিষয়টি আমরা স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি শ্রীমঙ্গল থানা ও সদর ইউনিয়নের গ্রাম আদালতে লিখিত অভিযোগ দিয়েও কোনো প্রতিকার পাচ্ছি না।

পাতাকুঁড়ি সোসাইটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক সুব্রত দাস বলেন, খলিল মিয়া নামে জনৈক ব্যক্তির কাছ থেকে এই উল্লিখিত ভূমিসংলগ্ন আরও জায়গা কিনেছি। বিরোধপূর্ণ ওই জায়গাটি খলিল মিয়ার কাছ থেকে পরে রেজিস্ট্রি করে দেবেন বলায় ৩০০ টাকার স্ট্যাম্পে আমর দখল ক্রয় করেছি।

সাদিক বলেন, ৩০০ টাকার স্ট্যাম্পে জায়গা ক্রয় করা যায় না। এটা হাস্যকর। জায়গা করতে আইনসম্মত উপায়ে রেজিস্ট্রি করতে হয়। তারা ৩০০ টাকার স্ট্যাম্পের কথা বলে জায়গা দখলের চেষ্টা করছে।

শ্রীমঙ্গল সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান দুদু মিয়া বলেন, জমিসংক্রান্ত বিষয়ে কয়েকবার সালিশ হয়েছে। তবে কী সিদ্ধান্ত হয়েছিল তিনি জানেন না।

স্থানীয় ইউপি সদস্য লিটন দাশ বলেন, বিষয়টি নিয়ে আমরা অনেকবার মীমাংসা করার চেষ্টা করেছি। কিন্তু দুই পক্ষ অনড় থাকায় পারিনি। খলিল মিয়া ও সাদিক ভাইদের স্বত্বসংক্রান্ত বিষয় মামলাধীন। সাদিক ভাইয়েরা দীর্ঘদিন জমির কোনো খোঁজখবর না নেওয়ায় খলিল মিয়া পাতাকুঁড়ি সোসাইটির এমডি সুব্রত দাসের কাছে জমি বিক্রি করে দেন। কিন্তু সুব্রত দাসের মালিকানার আইনি কোনো কাগজ নাই।