দেশ রূপান্তরের শেরপুরের নকলা উপজেলা সংবাদদাতা শফিউজ্জামান রানা তথ্য অধিকার আইনে তথ্য চেয়ে জেলে যাওয়ার ঘটনা অনুসন্ধানের নির্দেশ দিয়েছে তথ্য কমিশন। দেশ রূপান্তর পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদটি অনুসন্ধানের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে তথ্য কমিশনার শহীদুল আলম ঝিনুককে। গতকাল বৃহস্পতিবার কমিশনের জনসংযোগ কর্মকর্তা লিটন কুমার প্রামাণিক স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, দেশ রূপান্তর পত্রিকায় আজ (৭ মার্চ) প্রথম পৃষ্ঠার প্রথম কলামে ‘তথ্য চেয়ে আবেদন করে দেশ রূপান্তর সাংবাদিক জেলে’ শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদটি তথ্য কমিশন বাংলাদেশের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। সংবাদটি কমিশন পর্যালোচনা করেছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, তথ্য চাওয়ার কারণে সাংবাদিক শফিউজ্জামান রানা এ পরিস্থিতির শিকার হয়ে থাকতে পারেন বিধায় তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯ এর ধারা ২৫(৪) অনুযায়ী উপরোক্ত বিষয়ে অনুসন্ধান করা সমীচীন মর্মে তথ্য কমিশন একমত পোষণ করে। তথ্য অধিকার আইনের ধারা ২৫(৫) অনুযায়ী বিষয়টি অনুসন্ধানের জন্য তথ্য কমিশনার শহীদুল আলম ঝিনুককে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি আইনানুযায়ী অনুসন্ধান কার্যক্রম সম্পন্ন করে সিদ্ধান্ত কার্যপত্র কমিশনে দাখিল করবেন।
এদিকে শফিউজ্জামান রানাকে কারাদণ্ড দেওয়ার ঘটনায় বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠন ও নেতারা তীব্র নিন্দা ও উদ্বেগ জানিয়েছেন। পাশাপাশি তারা রানার নিঃশর্ত মুক্তি এবং এ ঘটনায় দোষীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের (বিএমএসএফ) কেন্দ্রীয় সভাপতি আহমেদ আবু জাফর এ ন্যক্কারজনক ঘটনার তীব্র নিন্দা ও দোষীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণসহ অবিলম্বে রানার নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানান। একইসঙ্গে সংগঠনের পক্ষ থেকে তার মুক্তির বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনি সহায়তা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংগঠনটি।
শেরপুর প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আদিল মাহমুদ উজ্জ্বল এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, ‘ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে একজন সাংবাদিককে সাজা দেবে এটা কোনোভাবেই কাম্য নয়।’
সাংবাদিক ইউনিয়ন শেরপুর জেলা সভাপতি মানিক দত্ত বলেন, ‘একজন সাংবাদিককে ছয় মাসের সাজা এটা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।’ এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও ঘৃণা জানিয়েছে প্রেস ক্লাব জামালপুর। সংগঠনের সভাপতি আজিজুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘দেশের আইনের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে একজন গণমাধ্যমকর্মী তথ্য চেয়ে আবেদন করেও হয়রানির শিকার হয়েছেন। আমরা সরকারের কাছে অবিলম্বে এ জঘন্য ও ন্যক্কারজনক ঘটনার তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাই।’ জামালপুর অনলাইন জার্নালিস্ট নেটওয়ার্কের সভাপতি জাহাঙ্গীর সেলিম এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।
নেত্রকোনা জেলা প্রেস ক্লাবের সদস্য সচিব বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট হাবিবুর রহমান বলেন, ‘দেশ রূপান্তরের সাংবাদিক রানাকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে কারাদণ্ড দেওয়ার ঘটনা নিন্দনীয়।’
সাংবাদিক শফিউজ্জামান রানা ইউএনওর কাছে তথ্য অধিকার আইনে তথ্য চাওয়ার জেরে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে তাকে ছয় মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ তার পরিবারের। গত মঙ্গলবার উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. শিহাবুল আরিফ পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালত তাকে এ দণ্ডাদেশ দেয়। রানার স্ত্রী বন্যার দাবি, জাইকার কয়েকটি প্রকল্পের ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ের তথ্য চেয়ে তথ্য অধিকার আইনে সম্প্রতি ইউএনও কার্যালয়ে আবেদন করেন রানা। এসব প্রকল্পের তথ্য চাওয়ায় রানার ওপর ক্ষুব্ধ হন ইউএনও।
অবশ্য ইউএনও সাদিয়া উম্মুল বানিনের ভাষ্য, রানা তথ্য চেয়ে আবেদন করতে গিয়েছিলেন। কিন্তু তিনি তখনই তথ্য চান। তবে তথ্য দেওয়ার জন্য হাতে ২০ দিন সময় আছে বলে রানাকে জানান। তখন গোপনীয় সহকারীর (সিএ) কাছে থাকা ওই তথ্যের ফাইল টানাটানি শুরু করেন রানা। তিনি অসদাচরণ করে অফিসের পরিবেশ নষ্ট করেছেন। তাই তিনি সহকারী কমিশনারকে (ভূমি) ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করতে বলেছেন।
প্রতিবেদনটি তৈরিতে তথ্য দিয়েছেন দেশ রূপান্তরের শেরপুর ও জামালপুর প্রতিনিধি