সত্যিই কি তৈরি করবে কর্মমুখী জনসম্পদ

জাতীয় শিক্ষাক্রম রূপরেখা ২০২১-এর মূল কথা হলো কর্মমুখী জনসম্পদ তৈরি করা। যেকোনো রাষ্ট্রের জন্য এটা জরুরি।

পৃথিবীতে কারিগরি শিক্ষায় শিক্ষিত শীর্ষস্থানীয় ১০টি দেশ হলো জার্মানি, সুইজারল্যান্ড, দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান, অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, সিঙ্গাপুর, ফ্রান্স ও চীন। এসব দেশের প্রায় ৬০ থেকে ৭৫ শতাংশ মানুষ কারিগরি শিক্ষায় শিক্ষিত। এ তথ্য থেকে আমরা বুঝতে পারি, ব্যাপকসংখ্যক শিক্ষার্থীর জন্য উচ্চশিক্ষার প্রয়োজন নেই।

কিন্তু এ দেশগুলোর দিকে তাকালে আমরা যেটা স্পষ্ট দেখতে পাই, শুধু কারিগরি শিক্ষা নয়, শিক্ষার সাধারণ ধারা এবং উচ্চশিক্ষাতেও তারাই বিশ্বের শীর্ষে অবস্থান করছে। এখানেই বিশ্বের সেরা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অধিকাংশের অবস্থান। তার মানে সাধারণ ধারা ও উচ্চশিক্ষার ক্ষতি না করে, বরং সেটাকে মানের শীর্ষপর্যায়ে নিয়েও তারা কারিগরি ও কর্মমুখী শিক্ষার প্রসার ঘটিয়েছে। সে কারণেই বিজ্ঞান ও গবেষণায় যেমন তারা অগ্রগামী, চিন্তা ও সৃজনশীলতায় যেমন উৎকৃষ্ট, তেমনি উচ্চতর প্রযুক্তি ও তার উপযোগী মানবসম্পদ সৃষ্টিতেও তারা নেতৃস্থানীয়। বলা যায়, সে কারণেই তারা উন্নত। এখন আমাদের নতুন কারিকুলাম (পাঠ্যক্রম) কি এ দেশের পতিত সাধারণ ধারার শিক্ষার মানের উন্নয়ন ঘটাবে? এর মাধ্যমে কারিগরি ও কর্মমুখী শিক্ষার কি সত্যিই বিকাশ ঘটবে? এখান থেকে বের হওয়া শিক্ষার্থীরা কি উচ্চশিক্ষায় গিয়ে আগের চেয়ে ভালো করবে? প্রশ্নগুলো কারিকুলাম আলোচনায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

উচ্চশিক্ষা সবার জন্য নয়, কিন্তু মনে রাখা দরকার, সেই ক্ষুদ্র অংশের বিকাশ ব্যাহত হবে এমন কোনো কারিকুলাম শিক্ষার সাধারণ ধারায় প্রবর্তন করা যায় না। কিন্তু নতুন এ কারিকুলামের রূপরেখা ভালোভাবে পাঠ করলে বোঝা যাবে, এর ভাবনার মধ্যে প্রান্তিক পর্যায়েও উচ্চশিক্ষা নেই। এতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে, সাধারণ ধারার মধ্যে কারিগরি ও কর্মমুখী শিক্ষার কোর্সসমূহ এমনভাবে বিন্যাস করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে সাধারণ ধারাকেও ‘টিভিইটি ইনক্লুসিভ শিক্ষা ধারা হিসেবে গণ্য করা যায়।’ টিভিইটি মানে টেকনিক্যাল অ্যান্ড ভোকেশনাল এডুকেশন অ্যান্ড ট্রেইনিং।

আমরা জানি, বাংলাদেশে কারিগরি ধারায় শিক্ষার্থী রয়েছে ১৫ শতাংশের কাছাকাছি। কিন্তু এই স্বল্পসংখ্যক শিক্ষার্থীর কারিগরি শিক্ষা কেমন হচ্ছে বা শিক্ষাগ্রহণ শেষ করে তারা কর্মজীবনে প্রবেশ করতে পারছে কি না এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গেলে আমাদের ব্যাপকভাবে হতাশ হতে হবে। এখন টিভিইটি কারিকুলাম দিয়েই যদি আমরা এত অল্পসংখ্যক শিক্ষার্থীকে কর্মমুখী জনসম্পদে রূপান্তর করতে না পারি, তবে সাধারণ ধারার মধ্যে কিছু কোর্স বিন্যাস করে এটাকে সফলভাবে টিভিইটি ইনক্লুসিভ শিক্ষাধারা করা সম্ভব হবে কীভাবে?

৩.

২০১০ সালের জাতীয় শিক্ষানীতিতে চাওয়া হয়েছিল কারিগরি ও কর্মমুখী শিক্ষা ধারায় ছাত্র-শিক্ষক অনুপাত হবে ১:১২, কিন্তু এখনো পর্যন্ত সেখানে রয়েছে প্রায় ১:৪০-এর ঊর্ধ্বে। আর এখানকার শিক্ষার্থীদের অবস্থা পতিত সাধারণ ধারার চেয়েও পতিত। নবম শ্রেণিতে ভর্তি হয়েও তাদের ব্যাপক অংশ বাংলা পড়তে-লিখতে পারে না বলে জানা যায়। আর ভর্তির পর প্রতিকূল পরিবেশ ও ব্যবস্থাপনা, মানসম্মত শিক্ষক ও প্রশিক্ষকের অভাব এবং প্রতিকূল ছাত্র-শিক্ষক অনুপাত ইত্যাদির কারণে শিক্ষার্থীরা বাংলা, ইংরেজি, গণিত, পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন (জীববিজ্ঞান নেই)-এর মতো বিষয় প্রায় কিছুই শিখতে পারে না।

অন্যদিকে ট্রেড কোর্স অর্থাৎ কারিগরির মূল কোর্সগুলোরও নেই পর্যাপ্ত মানসম্মত শিক্ষক বা প্রশিক্ষক। কিন্তু শিক্ষকের হাতে রয়েছে ৪০ শতাংশ নম্বর। এই ৪০ শতাংশ নম্বর প্রায় সব শিক্ষার্থীকে দিয়ে দেওয়া হয় এবং পাবলিক পরীক্ষায় ৬০-এর মধ্যে ২০ নম্বর পেলেই পাস। আর পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বনের সুযোগ এবং পরীক্ষকের প্রতি দেখেশুনে খাতা মূল্যায়নের নির্দেশনা থাকায় এখানে প্রায় শতভাগ শিক্ষার্থী পাস করে। শিক্ষার্থীদের দুই বছরে দুই মাসের ইন্টার্নশিপও হয় নামে মাত্র এবং সেখানে নিরাপত্তার কারণে মেয়েরা প্রায় যেতেই পারে না। ফলে শিক্ষার্থীরা না প্রতিষ্ঠানে, না বাইরে হাতেকলমে কাজ শেখে। তাই নামে কারিগরি বা কর্মমুখী হলেও তাদের অধিকাংশই কর্মক্ষেত্রে প্রবেশের দক্ষতা ছাড়াই বের হয়।

৪.

জাতীয় শিক্ষানীতি ২০১০-এ বলা হয়েছিল, অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত প্রাথমিক শিক্ষা হবে এবং এটার পর শিক্ষার্থীরা কারিগরি শিক্ষায় গেলে নির্বাচিত কারিগরি বিষয় শিখতে পারবে এবং সে বিষয়ে উচ্চশিক্ষাও নিতে পারবে। আর যারা অষ্টম শ্রেণির পরই লেখাপড়া শেষ করতে চায় তারা ছয় মাসের একটা বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ নেবে। কিন্তু এগুলো সব কাজির গরু হয়ে কেতাবেই পড়ে আছে, এলোমেলো কিছু বিল্ডিং-কনস্ট্রাকশন আর কেনাকাটা ছাড়া তেমন কিছু হয়েছে বলে জানা যায় না।

শিক্ষানীতি যখন হয় তখন দেশে সরকারি কারিগরি স্কুল ও কলেজ ছিল ৬৪টি, প্রত্যেক জেলায় একটি করে। শিক্ষানীতিতে বলা হয়েছিল, কারিগরি ও কর্মমুখী ধারায় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বাজেট দেওয়া হবে, শিক্ষক ঘাটতি পূরণ করা হবে, কারিগরি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হবে, ইত্যাদি বহু কিছু। কিন্তু তার প্রায় এক যুগ পার করে ২০২১ সালে এসে যখন শখানেক কলেজ প্রতিষ্ঠার কাজ চলেছে তখন পত্রপত্রিকা-মিডিয়ায় এগুলো নিয়ে দুর্নীতি, হ-য-ব-র-ল ইত্যাদি বহু খবরাখবরে সয়লাব হতে দেখা গেছে।

কিন্তু এ কলেজগুলো করার সঙ্গে সঙ্গে যেটা করা হয়েছে ষষ্ঠ-সপ্তম-অষ্টম শ্রেণিকেও কারিগরির সঙ্গে জুড়ে দেওয়া হয়েছে এবং সেখানে ট্রেড কোর্স নামের কিছু রাখা হয়নি। আগে কারিগরি স্কুল অ্যান্ড কলেজ মানে ছিল নবম থেকে দ্বাদশ। এখন আরও তিনটি শ্রেণি বাড়ায় এবং সে অনুযায়ী শিক্ষক নিয়োগ না দেওয়ায় শতাধিক শিক্ষার্থী নিয়েও কোথাও কোথাও শ্রেণি পরিচালনা করতে হচ্ছে। ফলে কর্মমুখী শিক্ষায় কর্মমুখী হওয়ার সম্ভাবনা আরও কমে গেছে।

প্রকৃতপক্ষে কর্মমুখী শিক্ষায় বলা চলে আমরা একভাবে সমৃদ্ধই ছিলাম আশির দশক পর্যন্ত। তখন কর্তৃপক্ষ সারা দেশে প্রচুর নকল করতে দিলেও মূল্যায়নে কারচুপির আদেশ না দিতে পারায় পাসের হার সেভাবে বাড়ত না। ফলে প্রায় ৭০-৭৫ শতাংশ শিক্ষার্থী ফেল করত এবং তাদের অধিকাংশই আর দ্বিতীয়বার পরীক্ষা দিত না বা দিলেও কৃতকার্য হতো খুব অল্পসংখ্যক।

এই অকৃতকার্যদের জন্য রাষ্ট্রীয়ভাবে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা যেহেতু খুব একটা ছিল না, তাই তারা পারিবারিক পেশায় বা পরিবার-পরিজনের মাধ্যমে বা কারও সাহায্যে বা কোথাও গিয়ে অনেকটা বিনা পারিশ্রমিকে কাজ শিখে পেশাগত জীবন শুরু করত। এভাবে অভিভাবক ও শিক্ষার্থীর প্রচেষ্টায় তখন এক ধরনের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হতো। যার ফলে উচ্চশিক্ষিত বেকারের সংখ্যা এখনকার তুলনায় তখন অনেক সহনীয় মাত্রায় থাকত।

কিন্তু নব্বই দশকের শুরুতেই তথাকথিত কাঠামোগত সংস্কার, বেসরকারীকরণ, বাজার অর্থনীতি ইত্যাদির নামে শিক্ষার বাণিজ্যিকীকরণের জন্য প্রচুর পাস করা শিক্ষার্থীর প্রয়োজন ছিল। যেহেতু নকলের প্রবাহ দিয়ে সেটা পূরণ করা যাচ্ছিল না, তাই প্রত্যেক বিষয়ে ৫০০টি এমসিকিউ প্রশ্নের ব্যাংক এনে সেখান থেকে নিশ্চিত ৫০ নম্বর পাওয়ার ব্যবস্থা এবং টিক-এ পাস করলেই পাস ঘোষণা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর ফলে শিক্ষকের মান, লেখাপড়ার পরিবেশ, ছাত্র-শিক্ষক অনুপাত ইত্যাদি কোনো কিছুর এক ফোঁটা পরিবর্তন না করে, উল্টো আরও পতন ঘটিয়ে রাতারাতি পাসের হার দ্বিগুণ বাড়িয়ে প্রায় ৬০-৭০ শতাংশে উন্নীত করা সম্ভব হয়।

সেই থেকে শিক্ষার্থীরা তাদের যোগ্যতার তুলনায় অতিমূল্যায়িত হয়ে উচ্চশিক্ষার দিকে ছুটতে থাকে। এর সঙ্গে মিল রেখে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে তার অধীনে হাজার হাজার কলেজ প্রতিষ্ঠা করে সেখানে অনার্স-মাস্টার্স খুলে দেওয়া হয়। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সুযোগও অবারিত করা হয়। পাশাপাশি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ও বাড়তে থাকে। এ পর্যায়ে ধারাবাহিকভাবে জিপিএ পদ্ধতি, সৃজনশীল কারিকুলাম, প্রশ্নফাঁস ও মূল্যায়নে কারচুপি এনে শতভাগ পাস করিয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের উচ্চশিক্ষার দিকে এমন গতি সৃষ্টি করা হয় যে, এ থেকে ব্যাপক শিক্ষাবাণিজ্য সৃষ্টি করা সম্ভব হয়।

কিন্তু যেকোনো বাণিজ্যেরই একটা পিক পয়েন্ট আছে এবং তারপর থেকে এর পতন হতে থাকে। শিক্ষাবাণিজ্যের সেই ধারাটা পিক স্পর্শ করেছে বেশ আগে। তাই শেষ পর্যায়ে এসে বনফায়ারের মতো এখনো জেলায় জেলায় উচ্চশিক্ষার অথর্ব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা চলছে।

শিক্ষায় উন্নত দেশগুলোতে কারিকুলাম পরিমার্জন করা হয় ৫ থেকে ১০ শতাংশ বা সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ। কিন্তু এ দেশে শিক্ষাবাণিজ্যের স্বার্থে অধিকাংশ সময় পুরো কারিকুলামকে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়। ফলে অপ্রস্তুত, অদক্ষ ও দুর্নীতিগ্রস্ত শিক্ষাব্যবস্থার মধ্যে তা ব্যাপক অস্থিরতা তৈরি করে। নতুন এ কারিকুলামে এটা ঘটেছে আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় সবচেয়ে বেশি। কারণ, এই কারিকুলাম বলা যায় ১৮০ ডিগ্রি ঘুরিয়ে দেওয়া হয়েছে। শুধু তাই নয়, এখানে প্রাথমিক স্তরের শিখন-শেখানো পদ্ধতি, মূল্যায়ন ও প্রশিক্ষণের সঙ্গে মাধ্যমিক স্তরের সম্পূর্ণ বৈপরীত্য সৃষ্টি করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের পছন্দ অনুযায়ী বিষয় বেছে নেওয়ার সুযোগও সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ফলে শিক্ষা ক্ষেত্রে, বিশেষ করে মাধ্যমিক স্তরে চরম নৈরাজ্য ছড়িয়ে পড়েছে।

তাছাড়া আমরা জানি যে, যেকোনো কারিকুলাম বাস্তবায়নের আগে তার উপযোগী পরিবেশ বা শর্ত নিশ্চিত করতে হয়। জাতীয় শিক্ষানীতি-২০১০ অনুযায়ী, ২০১৮ সালের মধ্যে সাধারণ ধারায় ছাত্র-শিক্ষক অনুপাত ১:৩০ নিশ্চিত করার কথা ছিল। কিন্তু সেটা এখনো এর প্রায় দ্বিগুণ প্রতিকূল রয়ে গেছে। এমন প্রতিকূল অনুপাত যেকোনো কারিকুলাম ব্যর্থ হওয়ার জন্যই যথেষ্ট।

শিক্ষানীতিতে প্রশিক্ষিত ও মানসম্পন্ন শিক্ষক নিয়োগ এবং শিক্ষকের জীবনমানের উন্নয়নের কথা ছিল। কিন্তু এ অবস্থার তেমন কোনোই পরিবর্তন ঘটেনি, উপরন্তু ব্যাপক সংখ্যক শিক্ষকের পদ বছরের পর বছর ধরে শূন্য রাখা হয়। অন্যদিকে বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটি এবং শিক্ষা প্রশাসন দুর্নীতিগ্রস্ত ও দুর্বৃত্তায়িত হওয়ায় সুষ্ঠুভাবে ক্লাস পরিচালনার সুযোগ অধিকাংশ স্কুলে প্রায় নেই হয়ে গেছে। এ পরিস্থিতিতে শতভাগ নতুন এ কারিকুলামের ফলে অব্যবস্থাপনা ভয়াবহ আকার ধারণ করছে, যার অনিবার্য ফল হবে শিক্ষার মানের আরও পতন।

শুরুতে যে তথ্য দেওয়া হয়েছে তার ভিত্তিতেই পরিশেষে আমরা বলতে চাই, আমাদের কারিগরি ও কর্মমুখী ধারার শিক্ষার ব্যাপক সম্প্রসারণ প্রয়োজন, কিন্তু সাধারণ ধারায় পড়ে যারা উচ্চশিক্ষায় যাবে তাদের কোনোভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত করে নয়। কারণ এটা করলে চতুর্থ বা পঞ্চম শিল্পবিপ্লব যেটাই বলি, আমরা সম্পূর্ণরূপে তার শ্রমিক ও ভোক্তায় পরিণত হব এবং কৃষি, শিল্প, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বিজ্ঞান, প্রযুক্তিসহ সবক্ষেত্রে উচ্চতর দক্ষতার লোকবল আমাদের সম্পূর্ণরূপে আমদানি করতে হবে। আর এভাবে আমরা চূড়ান্ত অর্থে একটা মর্যাদাহীন এবং কোনোরকমে করে-খাওয়া জাতিতে পরিণত হব। এই কারিকুলাম বিষয়ে অভিজ্ঞতাভিত্তিক, হাতেকলমে ইত্যাদি যতকিছুই বলা হোক, এ থেকে কর্মমুখী জনসম্পদ তৈরি হবে না। উপরন্তু আগে শিক্ষার সাধারণ ধারার পতিত দশার মধ্যেও শিক্ষার্থীর অধ্যবসায় এবং অভিভাবক ও নিবেদিতপ্রাণ কিছু শিক্ষকের ত্যাগ ও প্রযত্নে সারা দেশ থেকে সাধারণ ধারার যে কিছু ছেলেমেয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের উপযোগী হয়ে বের হচ্ছিল এবং দেশ-বিদেশে ভালো করছিল, নতুন কারিকুলামের মাধ্যমে তার সুযোগও প্রায় সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যাবে। তাই আমরা এই কারিকুলাম সম্পূর্ণ বাতিল চাই এবং শিক্ষার সাধারণ ধারাকে রক্ষা করবে, এর মানের উন্নয়ন ঘটাবে এবং একই সঙ্গে কারিগরি ও কর্মমুখী ধারার বিকাশ নিশ্চিত করবে, এমন কারিকুলাম চাই।

লেখক : আহ্বায়ক, শিক্ষা ও শিশু রক্ষা আন্দোলন শিশির