ময়মনসিংহ কুমিল্লা সিটির ভোট আজ

অপেক্ষার প্রহর শেষে আজ পছন্দের প্রার্থী বেছে নেবেন ময়মনসিংহ নগরীর বাসিন্দারা। আজ শনিবার সকাল ৮টা থেকে বিরতিহীনভাবে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) চলবে ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশন নির্বাচনের ভোটগ্রহণ। একই দিন কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে উপ নির্বাচনের ভোটগ্রহণও হবে। ইতিমধ্যে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে আঞ্চলিক নির্বাচন অফিস। কেন্দ্রে কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে ইভিএম মেশিনসহ নির্বাচনী সরঞ্জাম। ভোটারদের চাওয়া, তারা যেন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট দিতে পারেন।

রিটার্নিং অফিসার ও ময়মনসিংহ আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন চৌধুরী জানান, শনিবার সকাল ৮টা থেকে বিরতিহীনভাবে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ইভিএম পদ্ধতিতে ভোট গ্রহণ করা হবে। প্রতিটি কেন্দ্রে দেড়গুণ ইভিএম মেশিন থাকবে। এ ছাড়া নির্বাচন সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ এবং শান্তিপূর্ণভাবে আয়োজনের লক্ষ্যে প্রতিটি কেন্দ্রে যথাযথ নিরাপত্তাব্যবস্থা গঠন করা হয়েছে। এতে স্ট্রাইকিং ফোর্সের পাশাপাশি ৭ প্লাটুন বিজিবি, ১১ প্লাটুন পুলিশ, আর্মড পুলিশ এবং আনসার সদস্য, র‌্যাবের ১৭টি টিম ছাড়াও ৩৩ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এবং ১১ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করবেন। তিনি বলেন, প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে ৪ পুলিশ ও ১২ আনসার সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন এবং ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে ৫ পুলিশ ও ১২ আনসার সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন।

ময়মনসিংহ পুলিশ সুপার মাছুম আহমেদ ভূঁঞা বলেন, ১২৮টি কেন্দ্রকে অতিগুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত করে অধিকতর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ভোটারদের নিরাপদে ভোট প্রদানে পুলিশ, এপিবিএন, বিজিবি, আনসার, স্ট্রাইকিং ফোর্সসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য সর্বক্ষণিক মোতায়েন থাকবেন।

গতকাল শুক্রবার বেলা ১১টা থেকে আড়াইটা পর্যন্ত নগরীর সার্কিট হাউজসংলগ্ন জিনমেশিয়ামে অবস্থিত ৭টি বুথ থেকে ১২৮টি কেন্দ্রের নির্বাচনী সরঞ্জাম বিতরণ করা হয়েছে। ৩৩টি ওয়ার্ডের জন্য ১৩৪ জন প্রিসাইডিং অফিসার এসব সরঞ্জাম গ্রহণ করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তায় কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে এসব সরঞ্জাম কেন্দ্রে নিয়ে যান।

এবার নির্বাচনে ৫ মেয়র প্রার্থী হলেন ময়মনসিংহ মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক মেয়র মো. ইকরামুল হক টিটু (ঘড়ি), মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও জেলা আওয়ামী লীগের বর্তমান উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট সাদেকুল হক খান মিল্কি টজু (হাতি), ময়মনসিংহ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এহতেসামুল আলম (ঘোড়া), কৃষিবিদ ড. রেজাউল হক রেজা (হরিণ) ও জাতীয় পার্টির শহীদুল ইসলাম স্বপন মন্ডল (লাঙ্গল)।

এ ছাড়া ৩৩টি ওয়ার্ডে কাউন্সিলর ১৪৯ এবং ১১টি সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদে ৬৯ জন নির্বাচন করছেন। তবে ১১ নম্বর ওয়ার্ডে সাধারণ কাউন্সির পদে কোনো প্রার্থী না থাকায় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় মো. ফরহাদ আলম বেসকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন।

নির্বাচনে মোট ভোটার ৩ লাখ ৩৬ হাজার ৪৯৬ জন। এর মধ্যে পুরুষ ১ লাখ ৬৩ হাজার ৮৩২ আর নারী ১ লাখ ৭২ হাজার ৬৫৫ এবং হিজরা ৯ জন।

উল্লেখ্য, তফসিল ঘোষণার পর থেকে মিছিল, শোডাউন, গণসংযোগ, সমাবেশসহ প্রচারে থাকা প্রার্থীরা ভোটপ্রার্থনা ও দোয়া চেয়েছেন। নানা ছক কষে ওয়ার্ড, পাড়া ও মহল্লা থেকে শুরু করে পরিবার ও ঘরে ঘরে যাওয়ার চেষ্টা করেছেন প্রার্থীরা। এলাকার উন্নয়ন ও সমস্যার সমাধানসহ দিয়েছেন নানা প্রতিশ্রুতি।

প্রার্থীরা জানান, ভোটারদের কাছ থেকে ব্যাপক সাড়া মিলেছে। জয়ের ব্যাপারে সবাই শতভাগ আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। ভোটাররা জানান প্রত্যেক প্রার্থীই একাধিকবার তাদের কাছে ভোট চাইতে এসেছেন। বিচার বিবেচনায় তাদের মধ্যে যাদের যোগ্য ও ভালো মনে করবেন এবং আস্থা রাখা যায় এমন প্রার্থীকেই তারা ভোট দিয়ে বিজয়ী করবেন। ভোটাররা চান সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ ভোট গ্রহণ।

কুসিকের মেয়র পদে ভোট আজ : কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের (কুসিক) মেয়র পদে উপনির্বাচনের ভোটগ্রহণ আজ। সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) চলবে ভোটগ্রহণ। নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে নজিরবিহীন নিরাপত্তা নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। গতকাল শুক্রবার বিকেল ৩টার আগেই কেন্দ্রে কেন্দ্রে ইভিএমসহ নির্বাচনী উপকরণ পাঠানো হয়েছে। সকাল থেকে নগরীর জিলা স্কুল থেকে নির্বাচনী সামগ্রী বিতরণ শুরু হয়ে চলে দুপুর ২টা পর্যন্ত।

কুমিল্লা পুলিশ সুপার মো. আব্দুল মান্নান দেশ রূপান্তরকে জানান, নির্বাচনের আগে পরে মিলে বৃহস্পতিবার থেকে পাঁচ দিন সিটি এলাকার ২৭টি ওয়ার্ডে ১০৫টি কেন্দ্রের জন্য প্রতি ওয়ার্ডে একটি করে পুলিশের মোবাইল টিম , প্রতি তিন ওয়ার্ডে একটি পুলিশের স্পেশাল ফোর্স, দুটি রিজার্ভ স্ট্রাইকিং, র‌্যাবের ২৭টি টিম এবং ১২ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া প্রতি কেন্দ্রে চারজন অস্ত্রসহ ১৪ জন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য থাকবে। ২৭ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করবেন। ২ লাখ ৪২ হাজার ৪৫৮ ভোটার এ উপনির্বাচনে ভোট দেবেন। এ ছাড়া ৬৪০টি কক্ষে ভোটগ্রহণ করা হবে। এদিকে নিরাপত্তার স্বার্থে প্রত্যেকটি সাধারণ কেন্দ্রে ১৪ জন এবং গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে ১৫ জন করে নিরাপত্তাকর্মী থাকবে।

রিটার্নিং অফিসার ফরহাদ হোসেন জানান, ১০৫টি কেন্দ্রের ৬৪০টি বুথের জন্য দেড় হাজারের বেশি ইভিএম মেশিন পাঠানো হয়েছে। সকাল থেকে ইভিএম মেশিনসহ সব মালামাল বুঝে নিচ্ছেন প্রিসাইডিং অফিসাররা। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে নিজ নিজ কেন্দ্রের দায়িত্ব নেন।

কুসিক উপনির্বাচনে বাস প্রতীকে নির্বাচন করছেন তাহসীন বাহার সূচনা, কুমিল্লা মহানগর আওয়ামী লীগ ও অধিকাংশ কাউন্সিলরের সমর্থন নিয়ে কুসিক ভোটের মাঠে চাঙ্গাভাব নিয়ে আছেন তিনি। আলোচনায় রয়েছেন ঘড়ি প্রতীক নিয়ে সাবেক মেয়র মনিরুল হক সাক্কু, দুবার মেয়র, তার আগে দুবার চেয়ারম্যানের তকমা নিয়ে আলোচনায় রয়েছেন তিনি। আরেক প্রার্থী বিএনপির বহিষ্কৃত নেতা নিজাম উদ্দিন কায়সার। সাবেক মেয়র সাক্কুর প্রতিপক্ষ হয়ে কিছু ভোট নিজের বাক্সে তিনিও নিয়েছেন, বড় কোনো বলয় না থাকলেও নিজের কিছু কর্মী-সমর্থক নিয়ে ভোটের মাঠে আছেন আরেক প্রার্থী নূর উর রহমান মাহমুদ তানিম।

মহানগর আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী ডা. তাহসিন বাহার সূচনা বলেন, সিটি করপোরেশনে নানা সমস্যা আছে, আমি নির্বাচিত হলেই এগুলো সমাধান করব, মানুষ আমার বাবাকে ভালোবাসেন, বাবা সবসময় মানুষের জন্য কাজ করেছেন।

মনিরুল হক সাক্কু বলেন, মানুষ আমাকে ভালোবাসে। আমি মানুষের জন্য কাজ করছি, বিগত দুইবার আমাকে মেয়র নির্বাচিত করেছেন। প্রথমবারের নির্বাচনে যখন বিএনপি অংশ নেয়নি সেবারও জনগণ আমাকে মেয়র বানিয়েছে। পরেরবার বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে যখন ভোটারদের কাছে গিয়েছি তারা আমাকে ফিরিয়ে দেয়নি। জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী আমি।

ঘোড়া প্রতীকের প্রার্থী নিজামুদ্দিন কাউসার বলেন, মানুষ মুক্তি চায়, শুধু একটি শব্দ পরিবর্তন আর পরিবর্তন, ইনশাআল্লাহ ৯ তারিখ ঘোড়ার জয় হবে।

আওয়ামী লীগে আরেক স্বতন্ত্র প্রার্থী তানিম বলেন, মানুষ একজনের আধিপত্য পছন্দ করছে না আর, মানুষ পরিবর্তনে বিশ্বাসী, জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আত্মবিশ্বাসী আমি।