নিখোঁজ উড়োজাহাজটির স্বজনরা এখনো অপেক্ষায়

২০১৪ সালের ৮ মার্চ। মধ্যরাতে মালয়েশিয়া এয়ারলাইনসের ‘ফ্লাইট-৩৭০’ ক্রুসহ ২৩৯ আরোহী নিয়ে নিখোঁজ হয়। উড়োজাহাজটি মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুর থেকে চীনের বেইজিয়ে উড়ে যাচ্ছিল। কিন্তু ‘বোয়িং ৭৭৭-২০০ইআর’ উড়োজাহাজটির কোথায় গেছে, কেউ জানে না। এখনো এ নিয়ে কোনো হদিস পাওয়া যায়নি। গত শুক্রবার সেই ঘটনার ১০ বছর পূর্তি হয়। এ উপলক্ষে গত কয়েক দিন থেকে স্বজনরা শোরগোল করছেন। স্বজনরা জানতে চান, কী হয়েছিল তাদের স্বজনদের ভাগ্যে।

ঘটনাটি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে দীর্ঘ সময় আলোচিত ছিল। ওই সময় আন্তর্জাতিক মহলের নানামুখী অনুসন্ধানের ভিত্তিতে গণমাধ্যমগুলো প্রথমে জানায়, ভিয়েতনামের দক্ষিণে সমুদ্রসীমায় উড়োজাহাজটি নিখোঁজ হয়। এটি সর্বশেষ দক্ষিণ ভিয়েতনামের কামাও প্রদেশের আকাশসীমা থেকে হো চি মিন সিটির বিমান নিয়ন্ত্রণকক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়।

কিন্তু প্রথম দিকে তদন্ত মারফত ভিয়েতনামের আকাশে ওড়ার যে তত্ত্ব হাজির করা হয়, তা পরে খারিজ করে দেওয়া হয়। তবে অনুসন্ধানের তথ্য বলে, নিখোঁজ হওয়ার আগে বিমানটি রাডারকে ফাঁকি দিতে অস্বাভাবিক উচ্চতা দিয়ে উড়ছিল।

দক্ষিণ চীন সাগর থেকে ভারত মহাসাগরের দক্ষিণাংশে ব্যাপক অনুসন্ধান চালানোর পরও উড়োজাহাজটির কোনো হদিস মেলেনি।  এই উড়োজাহাজ নিখোঁজ হওয়ার পর এটি খুঁজতে ব্যাপক তল্লাশি চালানো হয়। কিন্তু আধুনিক যুগের উড়োজাহাজ নিখোঁজের অন্যতম রহস্যময় এই ঘটনার কোনো কূলকিনারা করা যায়নি।

মালয়েশিয়ান এয়ারলাইনস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল, উড়োজাহাজটিতে ১৫ দেশের নাগরিক ছিলেন যার মধ্যে বেশিরভাগই চীনের। উড়োজাহাজটি চালাচ্ছিলেন ক্যাপ্টেন জাহারি আহমদ শাহ।পরে সামরিক রাডারের তথ্য বিশ্লেষণ করে দাবি করা হয়, উড়োজাহাজটির উত্তর মালয়েশিয়া ও পেনাং দ্বীপের ওপর দিয়ে যাওয়ার কথা থাকলেও তা না করে সেটি আন্দামান সাগরে ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রা দ্বীপের অগ্রভাগে চলে যায়।