নারীর ক্ষমতায়নে বিরল দৃষ্টান্ত গণ বিশ্ববিদ্যালয়

কথায় আছে, ‘যে রাঁধে সে চুলও বাঁধে’। নারী ঘরে-বাইরে সব জায়গায় সামলানোর মতো এক সব শক্তির আধার। তারা অন্যের সাহায্য ছাড়াও নিজের পরিচয় উঠিয়ে দিয়েছে সর্বোচ্চ ঠিকানায়। একজন নারীর বুদ্ধিমত্তা, সাহসিকতা, ব্যক্তিত্ব, অহংকার এবং প্রত্যুৎপন্নমতিত্ব পুরুষের থেকে কোনো অংশে কম নয় তা বর্তমান যুগের নারীরা বারবার প্রমাণ করে যাচ্ছে। নারীশক্তির বাস্তবায়ন অর্থ সমাজের প্রতিটি স্তরে এমন একটি পরিবেশ তৈরি করা, যেখানে নারী স্বমহিমায় স্বাধীনভাবে বিচরণ করবে এবং যোগ্য মর্যাদার অধিকারিণী হয়ে উঠবে সেদিনই নারীজাতি পাবে পূর্ণমর্যাদা। সে ক্ষেত্রে নারীরা তখনই এগিয়ে যেতে পারবে যখন নারী কোনো সীমাবদ্ধতা ছাড়াই শিক্ষা অর্জন করতে পারবে, কর্মজীবনে ও নিজেদের জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আনতে পারবে। নারীদের এসব কাজে সহযোগিতা করে যাচ্ছে ৩২ একরের ক্যাম্পাস গণ বিশ্ববিদ্যালয়।

রাজধানীর অদূরে সাভার উপজেলার নলাম গ্রামে ১৯৯৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় গণ বিশ্ববিদ্যালয়। অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর, গ্রাম ও শহরের সম্মিলিত এক অতুলনীয় পরিবেশে ঘিরে ক্যাম্পাসটির একাডেমিক ভবন। নারীর ক্ষমতায়নের জন্য ব্যতিক্রম একটি নাম অর্জন করেছে এই প্রতিষ্ঠানটি। নারীদের পড়ালেখার যাবতীয় সুযোগ-সুবিধা পূরণ করে যাচ্ছে এই বিশ্ববিদ্যালয়। বিশ^বিদ্যালয়ের মেয়ে শিক্ষার্থীরা খেলাধুলায় অংশগ্রহণ করলে ২৫ শতাংশ টিউশন ফি মওকুফের সুযোগ রয়েছে। এতে নারী শিক্ষার্থীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে খেলাধুলায় অংশগ্রহণ করছে এবং বিভিন্ন টুর্নামেন্টে বিজয় ছিনিয়ে আনছে।

আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় স্পোর্টসের বিভিন্ন ইভেন্টে মেয়েরা সাফল্য অর্জন করেছে। চ্যাম্পিয়ন, রানার্সআপের সম্মাননা নিয়ে ফিরেছে ৩২ একরে। চারদিকে যেন গাহিয়া ওঠে জয়গান ‘নারী নাহি হারিবে’। মেয়েদের এমন সাফল্য থেকে বোঝা যায় এই বিশ্ববিদ্যালয় মেয়েদের উন্নতির শিখরে পৌঁছতে কতটুকু সমর্থন করে যাচ্ছে। তারা বারবার প্রমাণ করে দিচ্ছে ‘আমরা নারী, আমরা সব পারি’।

এ ছাড়াও সাফ ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপে বিশাল জয় অর্জন করেছে বাংলাদেশের নারীরা, যার মধ্যে চারজন নারী, সাবিনা খাতুন, মারিয়া মান্দা, মার্জিয়া এবং শিউলি আজিম এ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী। বঙ্গবন্ধু আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় স্পোর্টস চ্যাম্পিয়নশিপে মেয়েদের সাইক্লিং প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন স্নিগ্ধা আক্তার।

শুধু শিক্ষার্থীরাই নন, গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যেও নারীর ক্ষমতায়ন লক্ষণীয়। এ বিশ্ববিদ্যালয়ে অন্যতম বিশেষত্ব হচ্ছে পরিবহন চালকও একজন নারী। মাঠকর্মী, লাইব্রেরিয়ান, আয়া-বুয়া, ইলেকট্রিশিয়ান সব জায়গায় নারীদের জয়ধ্বনি।

গণ বিশ্ববিদ্যালয়ে রয়েছে অনেক সংগঠন। সাংবাদিক সমিতি, ডিবেটিং সোসাইটি, ক্যারিয়ার ক্লাব ইত্যাদি। এসব সংগঠনে নিজ নিজ যোগ্যতাবলে নেতৃত্ব দিয়ে যাচ্ছেন নারীরা। নারীদের এমন নেতৃত্বদানে বদলাবে সমাজের চিত্র।

বিশ্ববিদ্যালয়ের আইকিউএসি থেকে শুরু করে প্রশাসনিক কর্মকর্তা, বিভিন্ন বিভাগে গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন রয়েছেন নারীরা। তাদের দক্ষ পরিচালনায় চলছে প্রতিষ্ঠানটি। নারীর ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে ৩২ একরের এ প্রতিষ্ঠান হাজারো বাধা-বিপত্তি পেরিয়ে নারীদের নিজস্ব পরিচয় গড়ে তোলার কাজ করে বিশ্বে আলোড়ন সৃষ্টি করে যাচ্ছে।

লেখক : শিক্ষার্থী, ফার্মেসি বিভাগ, গণ বিশ্ববিদ্যালয়