দৈনিক দেশ রূপান্তরের শেরপুর নকলা উপজেলা সংবাদদাতা শফিউজ্জামান রানা তথ্য অধিকার আইনে তথ্য চাওয়ায় সাজানো অভিযোগে ইউএনওর কার্যালয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে কারাদন্ড দেওয়ার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও উদ্বেগ জানিয়েছেন সারা দেশের সাংবাদিক সংগঠন ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা। গতকাল শনিবার রানার নিঃশর্ত মুক্তির দাবি এবং এ ঘটনায় দোষীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়।
বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের (বিএমএসএফ) চেয়ারম্যান, ট্রাস্টি বোর্ড ও সভাপতি আহমেদ আবু জাফর বলেছেন, এ ঘটনার মধ্য দিয়ে অবাধ তথ্যপ্রবাহ ও সরকারের স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিকে প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়েছে। সরকার যখন দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেছে, সেই সময় একজন সাংবাদিকের তথ্য চাওয়াকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করে ন্যক্কারজনক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন নকলা উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা।
এদিকে রানার ছেলে শাহরিয়ার জামান মাহিন জানায়, বাবাকে ভ্রাম্যমাণ আদালতে সাজা দেওয়ার পর ইউএনও এসিল্যান্ডকে বলেন রানার মোবাইলে ভিডিও ধারণ করা আছে। ওর মোবাইল দুটো নিয়ে নাও। পরে ইউএনও স্যারের সিকিউরিটি জোড়পূর্বক বাবার মোবাইল কেড়ে নেয় এবং মোবাইলের লক খোলার জন্য বাবার কাছে কোড নম্বর চায়। কিন্তু বাবা কোড নম্বর না দেওয়ায় তার বিরুদ্ধে আরেকটি মামলা দেওয়া হয়। বর্তমানে শফিউজ্জামান রানার মোবাইলটি তাদের কাছে রয়েছে। এ ব্যাপারে সহকারী কমিশনার ভূমি শিহাবুল আরিফের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তিনি নির্বাচনের ডিউটিতে থাকায় কথা বলতে চায়নি। অন্যদিকে ইউএনও সাদিয়া উম্মুল বানিনকে ফোন দিয়েও পাওয়া যায়নি।
সুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘তথ্য অধিকার হলো একটি আইন। এই আইনের অধীনে যেসব ক্ষেত্র আছে, সেই ক্ষেত্রগুলোতে নির্দিষ্টভাবে আছে নাগরিকের তথ্য পাওয়ার অধিকার। কর্তৃপক্ষের কাছে যে তথ্য আছে সেই তথ্য দিতে তারা বাধ্য। আর সাংবাদিক তথ্য চেয়েছেন তার পরিক্ষেত্রে যে ঘটনা ঘটেছে, সেটি যদি ইউএনও করে থাকে তাহলে এটি অপরাধ করেছে। আশা করি কর্তৃপক্ষ এদিকে নজর দেবে।’
৫ মার্চ নকলা উপজেলা ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শিহাবুল আরিফ (ভূমি) সাংবাদিক শফিউজ্জামান রানাকে ছয় মাসের জেল দিয়ে কারাগারে পাঠান। এর আগে সাংবাদিক রানা তথ্য অধিকার আইনে জাইকার একটি প্রকল্পের অনিয়মের তথ্য চেয়ে নকলা উপজেলা ইউএনও সাদিয়া উম্মুল বানিনের কাছে লিখিত আবেদন করেন। এই তথ্য দ্রুত চাওয়া ও পাওয়া নিয়ে ইউএনও অসন্তোষ প্রকাশ করে তার সঙ্গে অসদাচরণ করার মিথ্যা অভিযোগ এনে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে রানাকে জেলে পাঠান।
এরই প্রতিবাদে গতকাল শনিবার সারা দেশের সাংবাদিক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা মানববন্ধন ও বিবৃতি দিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। আমাদের প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর :
সোনাগাজী (ফেনী) : সোনাগাজী উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সহসভাপতি হাজী আবু সুফিয়ান বলেন, এডিপি (জাইকা) প্রকল্পের অর্থ নয়ছয় করার অভিযোগ সব মহল জ্ঞাত রয়েছে। প্রকল্পের স্বচ্ছতার জন্য তথ্য জানার অধিকার সবার রয়েছে। তথ্য না দিয়ে উল্টো তথ্য চাওয়া সাংবাদিককে হেনস্তা করার যে নজির ইউএনও স্থাপন করেছে, এর মাধ্যমে অবাধ তথ্যপ্রবাহ ও সরকারের স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহি প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়েছে। ইউএনও এটা করেছে তার দুর্নীতি আড়াল করতে।
সোনাগাজী প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শরিয়ত উল্যাহ বলেন, সরকারপ্রধান দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স অবস্থানের কথা বারবার ব্যক্ত করেছেন। সরকারি প্রকল্পের ব্যয়ের তথ্য জানার আবেদন করে হেনস্তার শিকার হওয়ার ঘটনাটি সরকারপ্রধানের চাওয়ার বিশ্বাসযোগ্যতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়েছে।
সোনাগাজী রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি ইকবাল হোসাইন বলেন, তথ্য অধিকার আইনে তথ্য চাওয়ায় সাংবাদিককে জেলে পাঠানো এবং তথ্য চাওয়ায় ভ্রাম্যমাণ আদালত বাসিয়ে সাংবাদিকের বিচারের ঘটনা দেশে এটাই প্রথম। ইউএনওর এমন হস্তক্ষেপ গণতন্ত্র এবং গণমাধ্যম বিকাশে বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও সমাজকর্মী নাসির উদ্দিন খোকন বলেন, নকলার ইউএনওর এমন কর্মকান্ড দেশে দুর্নীতিবাজদের উজ্জীবিত করবে।
বগুড়া : গতকাল দুপুরে বগুড়া প্রেস ক্লাবের সভাপতি মাহমুদুল আলম নয়ন, সাধারণ সম্পাদক আমজাদ হোসেন মিন্টু ও অন্য নেতারা, বগুড়া সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি জেএম রউফ, সাধারণ সম্পাদক মাসুদুর রহমান রানা ও অন্য নেতারা, বগুড়া ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আব্দুর রহিম, সাধারণ সম্পাদক কাওসার উল্লাহ আরিফসহ বগুড়ার সিনিয়র সাংবাদিকরা প্রতিবাদ ও নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানিয়েছেন।
সাংবাদিক নেতারা বলেছেন, সাংবাদিকরা তথ্য নিয়ে কাজ করে। তারা সমাজের সামনে যেকোনো ঘটনার সঠিক তথ্য তুলে ধরে সংবাদ প্রকাশ করে। সাংবাদিক রানা তথ্য অধিকার আইনে তথ্য চেয়েছে। কিন্তু তথ্য না দিয়ে তাকে অসদাচরণের অভিযোগ তুলে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে সাজা দেওয়া হয়েছে; যা অত্যন্ত নিন্দনীয়।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া : গতকাল এক বিবৃতিতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সাংবাদিক ইউনিয়নের কার্যকরী কমিটির নেতারা রানার মুক্তির দাবি জানান। ব্রাহ্মণবাড়িয়া সাংবাদিক ইউনিয়ন সভাপতি দীপক চৌধুরী বাপ্পী বলেন, অবাধ তথ্যপ্রবাহের যুগে একজন সাংবাদিকের কাজই হচ্ছে তথ্য সংগ্রহ করে সংবাদ প্রস্তুত করা। সে জন্য তিনি নানাভাবে তথ্য সংগ্রহ করবেন এটাই স্বাভাবিক। অথচ সাংবাদিক শফিউজ্জামান রানা তথ্য অধিকার আইনে তথ্য চেয়ে জেলহাজতে গেলেন, এটা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।
ঠাকুরগাঁও : ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জে গতকাল মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন সাংবাদিকরা। স্থানীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এই কর্মসূচি পালিত হয়। মানববন্ধনে প্রেস ক্লাব সভাপতি জয়নাল আবেদিন বাবুল বলেন, সরকারি বিভিন্ন প্রকল্পের অর্থ সঠিকভাবে ব্যয় না করে লুটপাট করা হচ্ছে। পীরগঞ্জ উপজেলায় ৫টি ইউনিয়ন পরিষদ ভবন রঙ করা বাবদ ৫০ লাখ টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে এ কাজ করতে দুই থেকে তিন লাখ টাকার বেশি ব্যয় হওয়ার কথা নয়। এগুলো ছাড়া এই উপজেলায় প্রায় কোটি টাকার কাজ টেন্ডার ছাড়াই বাস্তবায়ন করা হচ্ছে; যা ইতিমধ্যে দেশ রূপান্তর পত্রিকা প্রকাশ করেছে। এ জন্য পত্রিকা কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। এসব বিষয়ে কথা বলতে গেলে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে হয়রানি ও মিথ্যা মামলা দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ তোলেন এই সাংবাদিক নেতা।
কেন্দুয়া : নেত্রকোনার কেন্দুয়া রিপোর্টার্স ক্লাবের সভাপতি আসাদুল করিম মামুন এবং সাধারণ সম্পাদক লাইমন হোসেন ভূঁইয়া যৌথ বিবৃতিতে রানার সাজার প্রতিবাদ জানান। তারা এতে সাংবাদিক সমাজ বিক্ষুব্ধ হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে সাংবাদিক শফিউজ্জামান রানার মুক্তি দাবি করেন।
আড়াইহাজার (নারায়ণগঞ্জ) : গতকাল সকালে এ ঘটনার প্রতিবাদ এবং সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চেয়ে বিবৃতি দিয়েছেন আড়াইহাজার থানা প্রেস ক্লাবের সভাপতি মাসুম বিল্লাহ, সাধারণ সম্পাদক মজিবুর রহমানসহ প্রেস ক্লাবের সদস্যরা। এ ধরনের ঘটনা গণমাধ্যমকর্মীরা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারে না।
এদিকে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) আড়াইহাজার শাখার সভাপতি মো. মনিরুজ্জামান সরকার ও সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান শফিক পৃথক বিবৃতি দিয়ে বলেছেন, ভ্রাম্যমাণ আদালত বাসিয়ে সাংবাদিকের বিচারের ঘটনার নজির এ দেশে বিরল। ইউএনওর এমন নগ্ন হস্তক্ষেপ গণতন্ত্র এবং স্বাধীন গণমাধ্যম বিকাশের জন্য বড় ধরনের হুমকি।
কুমিল্লা : নাঙ্গলকোট প্রেস ক্লাবের সভাপতি মজিবুর রহমান মোল্লা বলেন, ১০ বছরে এমন নজিরবিহীন ঘটনা এই বাংলার জমিনে ঘটেনি। একজন ইউএনও নথি চুরির অপরাধে তড়িঘড়ি করে দেশ রূপান্তরের সাংবাদিক রানাকে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে ছয় মাসের জেল দেন। এটি অত্যন্ত দুঃখজনক ঘটনা। এ বিষয়ে আমি ন্যায়বিচার ও সাংবাদিক শফিউজ্জামান রানার নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানাই।
এ বিষয়ে মনোহরগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সভাপতি হুমায়ুন কবির মানিক বলেন, এই ইউএনওর বিরুদ্ধে তদন্ত করে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাই। এ বিষয়ে লালমাই প্রেস ক্লাবের নির্বাহী সদস্য নাফিউ জামান বলেন, আইনের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে তথ্য চাওয়া হয়েছে। সেখানে একজন সরকারি কর্মকর্তা কীভাবে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জেলে দেন? নিশ্চয়ই তিনি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়েই সাংবাদিককে হয়রানি করার জন্য করেছেন।
সিদ্ধিরগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ): রানাকে কারাদন্ড প্রদান করায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে দ্রুত তার মুক্তির দাবি জানিয়েছেন নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে কর্মরত সাংবাদিকরা। পাশাপাশি এ ঘটনায় নকলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী কশিশনারের (ভূমি) বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তারা। গতকাল এক প্রতিবাদলিপিতে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা প্রেস ক্লাবের সভাপতি হোসেন চিশতী শিপলু (দৈনিক যুগান্তর), সিদ্ধিরগঞ্জ রিপোর্টার্স ক্লাবের সভাপতি মো. আব্দুল কাইয়ুম (দৈনিক কালবেলা), সাধারণ সম্পাদক হাসান মজুমদার বাবলু (বাংলা টিভি), সিদ্ধিরগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সভাপতি মোসলেম উদ্দিন (দৈনিক ইত্তেফাক), সাধারণ সম্পাদক আমির হোসেন (দৈনিক জনতা) ও বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ইউনিয়নের নারায়ণগঞ্জ শাখার সভাপতি মনিরুল ইসলাম (গ্লোবাল টিবি) ও সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম হানিফ (বাংলাদেশ প্রতিদিন) এক যৌথ বিবৃতিতে এসব দাবি জানান।
প্রতিবাদলিপিতে সাংবাদিকরা বলেন, স্বাধীনভাবে পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে কোনো সাংবাদিক জেলজুলুমের শিকার হওয়া স্বাধীন সাংবাদিকতার অন্তরায়। তথ্য অধিকার আইনে তথ্য চেয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে একজন সাংবাদিককে কারাদন্ড দেওয়া কোনোভাবেই কাম্য নয়। এ ধরনের ঘটনা খুবই দুঃখজনক।
যশোর : প্রেস ক্লাব যশোরের সভাপতি জাহিদ হাসান টুকুন ও সাধারণ সম্পাদক এসএম তৌহিদুর রহমান, যশোর সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মনতোষ বোস ও সাধারণ সম্পাদক এইচআর তুহিন, সাংবাদিক ইউনিয়ন যশোরের সভাপতি আকরামুজ্জামান ও সাধারণ সম্পাদক এসএম ফরহাদ এবং টেলিভিশন জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন যশোরের আহ্বায়ক সাকিরুল কবির রিটন ও সদস্য সচিব শিকদার খালিদ রানার সাজার প্রতিবাদ জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে। বিবৃতিতে নেতারা শেরপুরের নকলা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের অবাধ তথ্যপ্রবাহের ক্ষেত্রে স্বেচ্ছাচারিতার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। একই সঙ্গে এ ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবি করেন তারা।
রংপুর : রংপুরের বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা রানার নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানান। গতকাল দুপুরে রংপুরের স্থানীয় একটি পত্রিকার প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তারা এ ন্যক্কারজনক ঘটনার তীব্র নিন্দা ও দোষীদের বিরুদ্ধে যথাযথ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান।
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) মহানগর সাধারণ সম্পাদক ফকরুল আনাম বেঞ্জু বলেন, তথ্য অধিকার আইনের আর্টিকেল ৭-এ বলা আছে, রাষ্ট্রের কোনো গোপন তথ্য এবং কোনো ব্যক্তির ব্যক্তিগত মানহানিকর কোনো তথ্য ছাড়া সকল তথ্য দিতে বাধ্য থাকিবে। ওই সাংবাদিক জাইকা প্রকল্পের অনিয়মের তথ্য নিতে গিয়ে তাকে জেলে নিতে হলো কেন? এর জন্য আমি ব্যক্তিগতভাবে প্রতিবাদ জানাই।
তিস্তা বাঁচাও, নদী বাঁচাও সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি অধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম হক্কানি জানান, সংবাদপত্র এবং সাংবাদিকরা অবাধ তথ্য সংগ্রহের জন্য যেকোনো স্থান যাবে। এটা তাদের অধিকার। সেই তথ্য নিতে গিয়ে যদি সাংবাদিককে জেলে যেতে হয়, সেটা তাদের অধিকারকে খর্ব করার শামিল।
দুর্নীতি প্রতিরোধ রংপুর জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক বেলাল আহম্মেদ বলেন, সরকারের দেওয়া আইনে তথ্য চাওয়াকে তারা (প্রশাসন) অপরাধ হিসেবে গণ্য করে। তারা আইনটিকে বিতর্কিত করেছে; যা অত্যন্ত দুঃখজনক ও অবাধ তথ্যপ্রবাহকে বাধাগ্রস্ত করার শামিল।
রিপোর্টার্স ক্লাব রংপুরের সভাপতি একাত্তর টিভির রংপুর ব্যুরোপ্রধান শাহ বায়েজিদ আহম্মেদ জানান, এভাবে গণমাধ্যমের ওপর দমনপীড়ন যা সাংবাদিক সমাজ আর মেনে নেবে না। সময় এসেছে তীব্র আন্দোলন ও গণপ্রতিরোধের।
এ ছাড়া তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন রংপুর প্রেস ক্লাবের সভাপতি মোনাব্বর হোসেন মনা, সিটি প্রেস ক্লাবের সভাপতি স্বপন চৌধুরী, রংপুর রিপোর্টার্স ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সরকার মাজহারুল মান্নান প্রমুখ।
শেরপুর : গতকাল দুপুরে শ্রীবরদী প্রেস ক্লাবে এক আলোচনা সভার মধ্য দিয়ে এ ঘটনার প্রতিবাদ ও নিন্দা জানানো হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন, মোহনা টিভির শেরপুর জেলা প্রতিনিধি ও শ্রীবরদী প্রেস ক্লাবের সভাপতি রেজাউল করিম বকুল, মাই টিভির জেলা প্রতিনিধি ও শ্রীবরদী প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক তারেক মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ রানা, ভোরের কাগজের উপজেলা প্রতিনিধি ও কবি শফিউল আলম শফিক, দৈনিক জনতা পত্রিকার উপজেলা প্রতিনিধি গোলাম মোস্তফা, জয় টিভির প্রতিনিধি রাকিবুল হাসান খোকন প্রমুখ।
ঝিনাইদহ : রানার মুক্তির দাবি জানিয়েছেন ঝিনাইদহ প্রেস ক্লাবের কর্মরত সাংবাদিক নেতারা। রানাকে কারাদন্ড দেওয়ার ঘটনায় নকলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাদিয়া উম্মুল বানিন ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) শিহাবুল আরিফ অপসারণের দাবি জানিয়েছেন। ঝিনাইদহ প্রেস ক্লাবের সভাপতি এম রায়হানের সভাপতিত্বে ভিআইপি রুমে এক জরুরি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। রানাকে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে কারাগারে পাঠানোর প্রতিবাদে মুক্তির দাবি জানান ঝিনাইদহ প্রেস ক্লাবের সভাপতি এম রায়হানসহ অন্য নেতারা। সাংবাদিক নেতারা বলেন, স্বাধীন দেশে তথ্য চাওয়া নাগরিক অধিকার। সরকার তথ্য প্রচারের জন্য তথ্য অধিকার আইন করেছে। আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি, সেই সঙ্গে দৈনিক দেশ রূপান্তরের শেরপুর নকলা উপজেলা সংবাদদাতা শফিউজ্জামান রানার মুক্তির দাবি করেন।