আন্তর্জাতিক নারী দিবসে আফগানিস্তানের বিভিন্ন অঞ্চলে নারীরা সমবেত হয়েছিলেন। গত শুক্রবার দিবসটিতে নারীরা তাদের অধিকারের দাবিতে সোচ্চার হন। দেশে ক্ষমতাসীন তালেবান গোষ্ঠীর শাসনের কড়া বিধিনিষেধের মধ্যে কর্মসূচি পালন করেন। আফগানিস্তানের বিভিন্ন জায়গায় ছোট ছোট পরিসরে নারীরা তাদের ক্ষোভ প্রকাশ করে এবং অধিকারের কথা জানান।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, আফগানিস্তানের তাখার ও বালখ প্রদেশে নারী দিবসে নারী জমায়েত হয়। আফগানিস্তানের নারীদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া তালেবান শাসকগোষ্ঠীর জবরদস্তিমূলক পদক্ষেপের বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তুলতে সচেতন নারীরা ‘পার্পেল স্যাটারডেস গ্রুপ’ নামের একটি প্লাটফর্ম গড়ে তুলেছেন। তারাই মোটাদাগে নারী দিবসে জমায়েত হওয়ার পরিকল্পনা তৈরি করেন।
তাখার প্রদেশের উত্তরে ৭ জন নারী প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন, যেখানে লেখা ছিল ‘অধিকার, বিচার ও স্বাধীনতা।’ মুখ ঢাকা এক বিক্ষুব্ধ নারী বলেন, ‘আমাদের নীরবতা এবং ভয় তালেবানের সবচেয়ে বড় অস্ত্র।’ বালখ প্রদেশেও কয়েকজন নারী ‘আফগানিস্তানের নারীদের রক্ষা করুন’ শীর্ষক ব্যানার হাতে দাঁড়ান। এ সময় তারা প্ল্যাকার্ডে লেখেন, ‘তালেবানকে কোনো সুযোগ দেবেন না।’
নারী দিবসের আগের দিন গত বৃহস্পতিবার আফগানিস্তানের মাজার-ই-শরিফ শহরের উত্তরের একটি অঞ্চলে ‘আফগানিস্তান অ্যাসোসিয়েশন অব দ্য ব্লাইন্ড’ নামের একটি সংগঠনের ব্যানারে সমবেত হন ২০ জনের মতো নারী। এ সময় এক নারী বলেন, ‘খুবই বেদনাদায়ক যে আমাদের সমাজে নারীদের কোনো মূল্য নেই। সে তার কোনো অধিকার ব্যবহার করতে পারে না।’
আফগানিস্তানে নানা জায়গায় ছোট ছোট দলের নারীদের প্রতিবাদ-বিক্ষোভের খবর পাওয়া গেছে নারী দিবসে। তবে তালেবানের ভয়ে বড় পরিসরে জমায়েত হতে পারেননি তারা। আর নারী দিবসের দিনে তালেবান নিরাপত্তারক্ষীরাও তৎপর ছিল।
নারী দিবসে আফগানিস্তানে জাতিসংঘের মানবাধিকার-বিষয়ক বিশেষ র্যাপোর্টিয়ার রিচার্ড বেনেট বলেন, আফগানিস্তানের তালেবান শাসকরা যেন দ্রুতগতিতে এবং বিনা শর্তে মানবাধিকারের প্রশ্নে দাঁড়াতে গিয়ে আটক হওয়া ব্যক্তিদের মুক্তি দেয়; বিশেষ করে নারী ও কন্যাদের অধিকারের জন্য যারা কারাগারে দিন কাটাচ্ছেন তাদের অবিলম্বে মুক্তি দেওয়া হোক।