শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শেকৃবি) চলমান বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়ম, নির্মাণ ত্রুটি বা বাস্তবায়নের বিষয়ে সাংবাদিকরা কোনো কিছু জানতে চাইলে ব্যস্ততার অজুহাতে এড়িয়ে যান প্রধান প্রকৌশলী (ভারপ্রাপ্ত) মোমেনুল এহসান। ২০২২ সালে প্রধান প্রকৌশলী অবসরে যাওয়ার পর থেকে এ পদে ভারপ্রাপ্ত হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন তিনি।
প্রকৌশল দপ্তর এই বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিভাগ। সব ধরনের অবকাঠামো নির্মাণ, কেনাকাটা, দরপত্র আহ্বান বা কাজের মান যাচাইসহ গুরুত্বপূর্ণ অনেক বিষয় এই বিভাগের অধীনেই হয়ে থাকে। এসব কাজে বিভিন্ন সময় অনিয়ম, দুর্নীতি, তদারকির অভাব, নিম্নমানের কাজ বা কাজ অসম্পূর্ণ রেখে টাকা ছাড়সহ বিভিন্ন রকম অভিযোগ উঠলেও এসব বিষয়ে প্রধান প্রকৌশলীর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায় না। বিভিন্ন অনিয়মের বিষয়ে প্রতিবেদনের জন্য বক্তব্য নিতে মোমেনুল এহসানের কক্ষে গেলেও বেশিরভাগ সময় তাকে পাওয়া যায় না, আবার কোনো সময় থাকলেও ব্যস্ততার অজুহাত দেখিয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের এড়িয়ে যান। মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেন না, কালেভদ্রে কল রিসিভ করলেও পরে যোগাযোগ করতে বলেন।
ভারপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলীর দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকেই বিভিন্ন গণমাধ্যমের এই বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধিদের এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন মোমেনুল এহসান। প্রকৌশল বিভাগের প্রধানের দায়িত্বের পাশাপাশি পরিবহন পুলেরও দায়িত্বে রয়েছেন তিনি। ওই দপ্তরের ক্ষেত্রেও একই অভিযোগ। কিছুদিন আগে দপ্তরটির বিভিন্ন অনিয়মের বিষয়ে তার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও বক্তব্য নিতে ব্যর্থ হন দৈনিক আমার সংবাদের শেকৃবি প্রতিনিধি। কোনো যন্ত্রপাতি ছাড়াই ভেটেরিনারির ৫ কোটির হাসপাতালে শুধু গার্ডের বিষয়ে জানতে চেয়েও তার বক্তব্য পাননি দেশ রূপান্তরের এই প্রতিবেদক। নষ্ট লাইটের বিষয়ে তিন দিন কক্ষে গিয়ে ও মোবাইল ফোনে যোগাযোগের পর চতুর্থ দিন বক্তব্য পেয়েছেন বলে জানান প্রতিদিনের বাংলাদেশের শেকৃবি প্রতিনিধি। সময় দিয়েও দেখা না করে প্রধান প্রকৌশলী অন্যদিক দিয়ে চলে যান বলে জানান দৈনিক যুগান্তরের শেকৃবি প্রতিনিধি। একই ধরনের বিড়ম্বনার কথা জানান দৈনিক সমকালের শেকৃবি প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের এই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিরা।
জানা গেছে, ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে মেয়াদ শেষ হয় প্রকৌশল বিভাগের প্রধান প্রকৌশলী আজিজুর রহমানের। এরপর ভারপ্রাপ্ত হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয় মোমেনুল এহসানকে। তিনি ডিপ্লোমা ডিগ্রিধারী। এর আগে নির্বাহী প্রকৌশলীর (বিদ্যুৎ) দায়িত্বে ছিলেন। প্রধান প্রকৌশলীর মেয়াদ শেষের পর দুইবার নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করলেও চূড়ান্ত নিয়োগ দিতে ব্যর্থ হয় প্রশাসন। বর্তমানে এই বিভাগে দায়িত্বে থাকা ১০ জন প্রকৌশলীর মধ্যে ৫ জনই ডিপ্লোমা ডিগ্রিধারী।
প্রধান প্রকৌশলীর মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে দীর্ঘদিন একজন ডিপ্লোমা ডিগ্রিধারীর থাকার বিষয়ে বিভিন্ন সময়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা যায় শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের। তাদের দাবি, প্রধান প্রকৌশলী পদে একজন ডিপ্লোমা প্রকৌশলী দায়িত্বে থাকায় কমেছে কর্মদক্ষতা, বাড়ছে নিম্নমানের কাজ।
এসব অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে ভারপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলী মোমেনুল এহসানের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘এখন ব্যস্ত আছি, পরে কথা বলব।’ সেই পরে কবে? আগামীকাল নাকি পরশু? এমন প্রশ্ন করলে তিনি মোবাইল ফোনে কল করবেন বলে জানান। কিন্তু পরবর্তী সময়ে তিনি আর কথা বলেননি।
প্রধান প্রকৌশলীর এমন আচরণের বিষয়ে শেকৃবি উপাচার্য অধ্যাপক শহীদুর রশীদ ভূঁইয়া দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘এরকম তো হওয়ার কথা না, আমি বিষয়টা দেখব, এখানে তো তথ্য গোপনের কিছু নেই, আর খুব দ্রুত চিফ ইঞ্জিনিয়ার নিয়োগের কাজ সম্পূর্ণ হবে।