যুবকের ‘বাইন্যান্স’ অ্যাকাউন্ট থেকে সাড়ে তিন কোটি টাকা সরানোর প্রমাণ মিলেছে

চট্টগ্রামে ‘ক্রিপ্টোকারেন্সি’ লেনদেনকারী এক যুবকের ব্যক্তিগত ও বাইন্যান্স একাউন্ট থেকে প্রায় সাড়ে তিন কোটি টাকা মূল্যের 'বিটকয়েন' সরানোর প্রমাণ পেয়েছে  নগর পুলিশের গঠিত তদন্ত কমিটি। তদন্তে উঠে আসা মহানগর ডিবি পুলিশের ইন্সপেক্টর রুহুল আমিনসহ ৭ পুলিশ সদস্যকে ক্লোজড করে দামপাড়া পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে। বিষয়টি রবিবার (১০ মার্চ) বিকেল চারটার দিকে দেশ রূপান্তরকে নিশ্চিত করেছেন সিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (অপরাধ ও অভিযান) আব্দুল মান্নান।

গত ২৬ ফেব্রুয়ারি রাতে আবু বকর নামে এক যুবককে বায়েজিদ এলাকা থেকে 'আটকের' পর মোবাইল ফোনে জোরপূর্বক ফিঙ্গারপ্রিন্ট নিয়ে তার বাইন্যান্স একাউন্ট থেকে ২ লাখ ৭৭ হাজার ডলার মূল্যের বিটকয়েন এবং ব্যক্তিগত ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে দুই দফায় ১০ লাখ টাকা সরিয়ে ফেলেন অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যরা।

সুত্র জানায়, ডিবির পরিদর্শক রুহুল আমিন ছাড়া অভিযুক্ত অন্যরা হলেন- মহানগর ডিবির (উত্তর) এসআই আলমগীর হোসেন, এএসআই বাবুল মিয়া, শাহ পরান জান্নাত ও মো. মাইনুল হোসেন এবং কনস্টেবল মো. জাহেদ ও আব্দুর রহমান। রুহুল আমিন এ ঘটনার নেপথ্যে কাজ করেছেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে।

অভিযুক্ত এই ৭ পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে মহানগর পুলিশ কমিশনার কৃষ্ণ পদ রায়ের কাছে গত ৭ মার্চ তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন কমিটির প্রধান সিএমপির কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের এডিসি আসিফ মহিউদ্দিন। 

অভিযোগ, গত ২৬ ফেব্রুয়ারি রাত সাড়ে ১০টার দিকে বায়েজিদ বোস্তামী গুলবাগ আবাসিক এলাকার বারাকা এন্টারপ্রাইজ নামের একটি কুলিং কর্নারে চা পান করার সময় অনলাইন জুয়ায় জড়িত থাকার কথিত অভিযোগে আবু বকর ও ফয়জুল নামের আরেক ব্যক্তিকে আটক করেন নগর ডিবি পুলিশের (উত্তর বিভাগ) পরিদর্শক রুহুল আমীন।

পরে তাদের নগরের মনসুরাবাদ ডিবি হেফাজতে নিয়ে জোরপূর্বক আবু বকরের মুঠোফোনে ফিঙ্গারপ্রিন্ট নেন ডিবি পুলিশ সদস্যরা। বকরের মুঠোফানের লক খুলিয়ে ব্যাংক একাউন্ট থেকে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ৫ লাখ করে ১০ লাখ টাকা সরিয়ে ফেলেন ডিবি পুলিশ সদস্যরা। এ সময় কেড়ে নেয়া হয় তাদের মুঠোফোন ও টাকাপয়সা।

পরের দিন ২৭ ফেব্রুয়ারি সকালে মেট্রোপলিটন পুলিশ অধ্যাদেশ মামলায় দুজনকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে হাজির করে ডিবি পুলিশ। শুনানি শেষে একই দিন দুজনকে জামিনে মুক্তি দেন আদালত। আদালত থেকে বেরিয়ে আরেকটি মুঠোফোন কিনে আবু বকর তার বাইন্যান্স একাউন্ট চেক দেখেন, অ্যাকাউন্টে থাকা ২ লাখ ৮২ হাজার ডলারের মধ্যে মাত্র ৫ হাজার ডলার রয়েছে। ২৬ ফেব্রুয়ারি রাত ১১টা থেকে ১২টার মধ্যে বাকি ২ লাখ ৭৭ হাজার ডলার সরিয়ে ফেলেছেন ডিবি কর্মকর্তারা।

ঘটনাটি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে বিষয়টি নিয়ে নগর পুলিশে তোলপাড় শুরু হয়। ঘটনা তদন্তে সিএমপির কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের এডিসি আসিফ মহিউদ্দিনকে প্রধান করে তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করেন নগর পুলিশ কমিশনার কৃষ্ণ পদ রায়।

প্রসঙ্গত, ভুক্তভোগী আবু বকর সিদ্দিক একজন সরকার অনুমোদিত ফ্রিল্যান্সার। নগরের অক্সিজেন এলাকায় তার বাসা।