জাবি ছাত্র ইউনিয়ন নেতার বহিষ্কারাদেশ বাতিলের দাবিতে সংহতি সমাবেশ

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) ছাত্র ইউনিয়ন সংসদের একাংশের সভাপতি অমর্ত্য রায় ও সাধারণ সম্পাদক ঋদ্ধ অনিন্দ্য গাঙ্গুলীর বহিষ্কারাদেশ বাতিলসহ পাঁচ দফা দাবিতে সংহতি সমাবেশ করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের প্ল্যাটফর্ম 'নিপীড়নের বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর'। রবিবার (১০ মার্চ) বিকেল চারটায় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন চত্বরে সমাবেশটি শুরু হয়। সমাবেশে বক্তারা দুই নেতার বহিষ্কারাদেশ অনতিবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি জানান।

সমাবেশে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো হলো- অবিলম্বে ছাত্র ইউনিয়ন নেতৃবৃন্দের বিরুদ্ধে অবৈধ ও নীতিবহির্ভূত বহিষ্কারাদেশ বাতিল করতে হবে,ধর্ষণে অভিযুক্ত ও পলায়নে সহযোগিতাকারীদের রাষ্ট্রীয় আইনে বিচার দ্রুততম সময়ে নিশ্চিত করতে হবে, মীর মশাররফ হোসেন হল ও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলের প্রাধ্যক্ষসহ হল প্রশাসনের বিরুদ্ধে আসা ধর্ষণে অভিযুক্তকে পলায়নে সাহায্য করার অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত কমিটি গঠন করে দ্রুততম সময়ে বিচার নিশ্চিত করতে হবে, আবাসিক হলগুলি থেকে ইয়াবা সিন্ডিকেট উৎখাত করতে হবে এবং দ্রুততম সময়ের মধ্যে সকল অছাত্রকে হল থেকে তাড়াতে হবে, ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা জোরদার করার পাশাপাশি প্রক্টর ও নিরাপত্তা শাখার বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে এবং যৌন নিপীড়নবিরোধী সেল কার্যকর করতে হবে।

সমাবেশে সংহতি জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সাবেক অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, ‘যারা বিশ্ববিদ্যালয়ের ধর্ষণ, চাঁদাবাজ, লুটতারাজ করে বেড়ায় তারা চায় আন্দোলনকারীদের মধ্যে বিভেদ তৈরি হোক। তাদের সেই চেষ্টাকে প্রতিহত করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রত্যক্ষ পৃষ্ঠপোষকতায় ধর্ষক, চাঁদাবাজ, টেন্ডারবাজ তৈরি হচ্ছে। আর সরকারের পৃষ্ঠপোষকতা ছাড়া এরকম মেরুদণ্ডহীন ও লোভী প্রশাসন তৈরি হয় না। প্রশাসন তাদের মেরুদণ্ডহীনতার মধ্যে মাস্তানদের প্রতিপালন করে। বিশ্ববিদ্যালয় ছারখার হয়ে যাচ্ছে কিন্তু প্রশাসন সেসব কিছু জানে না। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে যে অপরিকল্পিত উন্নয়নের কাজ চলছে তার দায় বর্তমান উপাচার্যকে নিতে চান না। 

বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক পারভীন জলী বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রগতিশীল শিক্ষক শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের যে সংস্কৃতি সেই আন্দোলনে ভাটা পড়েছে বলে মনে হয়। এটি যেমন আমাদেরকে শিক্ষক হিসেবে মর্মাহত করে আপনাদেরকে শিক্ষার্থী হিসেবে মর্মাহত করে। নিপীড়নের বিরুদ্ধে আমরা যারা একসঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে আমাদের সংগ্রাম  জারি রাখি তারা যেন অন্তত সবাই এই বহিস্কারাদেশের বিপক্ষে একসঙ্গে ভয়েস জারি রাখতে পারি। আমাদের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা রয়েছে, আমরা জানি বিশ্ববিদ্যালয়ে কোন অন্যায় ঘটলে সেটা কিভাবে প্রতিহত করতে হয়। 

সংহতি সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সাবেক সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, ছাত্র ইউনিয়ন চুয়েট সংসদের সাবেক সভাপতি নিমাই গাঙ্গুলি, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক মাসউদ ইমরান মান্নু, ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ গোলাম রববানী, ব্রাক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সৌমিত জয়দ্বীপ, ছাত্র ইউনিয়ন কেন্দ্রীয় সংসদের একাংশের সভাপতি রাগিব নাঈম এবং সাধারণ সম্পাদক রাকিবুল রনি, সাধারণ সম্পাদক, গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিল কেন্দ্রীয় সভাপতি ছায়েদুল হক নিশান, ছাত্র ইউনিয়ন বিশ্ববিদ্যালয় সংসদের একাংশের সহসভাপতি আশফার নবীন প্রমুখ।