সামরিক অভ্যুত্থানের পর মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আশ্রয় নেওয়া শরণার্থীদের ফেরত পাঠানো শুরু করেছে ভারত। গত শুক্রবার প্রথম দফায় কয়েকজনকে মিয়ানমার কর্র্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করে ভারতের মণিপুর রাজ্য সরকার। রয়টার্স বলছে, মিয়ানমারের সঙ্গে ভিসামুক্ত সীমান্ত নীতি থেকে সরে আসার কয়েক সপ্তাহ পর শরণার্থীদের প্রত্যাবাসন শুরু করল ভারত। সামনের দিনগুলোতে আরও লোকজনকে ফেরত পাঠাবে দেশটি। তবে ভারতের এই পদক্ষেপের সমালোচনা করেছে জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র। জাতিসংঘের মানবাধিকার সংগঠনগুলোর বক্তব্য পুনরাবৃত্তি করে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর মিয়ানমারের প্রতিবেশী দেশগুলোর প্রতি আশ্রয়প্রার্থীদের আশ্রয় ও সুরক্ষা দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স বলছে, মণিপুর রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী এন বীরেন সিং মিয়ানমারের শরণার্থীদের ফেরত পাঠানোর বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করা মিয়ানমারের নাগরিকদের প্রথম ব্যাচকে ফেরত পাঠানো হয়েছে।
তবে প্রথম দফায় কতজনকে পাঠানো হয়েছে সেটি রয়টার্স জানতে পারেনি। অবশ্য অনন্ত ৭৭ শরণার্থীকে ফেরত পাঠানোর পরিকল্পনা করছে মণিপুর সরকার। নাম প্রকাশ না করে ভারতের এক নিরাপত্তা কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেন, শরণার্থীদের প্রথম দলটিকে ভারতের সীমান্ত শহর মোরেহ-তে নেওয়ার পর তাদের হস্তান্তর করা হয়।
মুখ্যমন্ত্রী বীরেন সিং এক্সে একটি ভিডিও ক্লিপ শেয়ার করেছেন। সেখানে দেখা যায়, কয়েকজন নারী শরণার্থীকে নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের ভ্যানে তুলে বিমানবন্দরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। তিনি লিখেছেন, ভারত ১৯৫১ সালের শরণার্থী কনভেনশনে স্বাক্ষরকারী দেশ না হলেও মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা লোকদের আশ্রয় ও সহায়তা দিয়েছে।
২০২১ সালে মিয়ানমারে সামরিক অভ্যুত্থান এবং সংঘাতময় পরিস্থিতিতে সেখান থেকে পালিয়ে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে আশ্রয় নেয় দেশটির হাজারো নাগরিক। সামরিক অভ্যুত্থানের তিন বছর পর মিয়ানমারে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে। বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে তুমুল লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে মিয়ানমারের সরকারি বাহিনী। যুদ্ধবিধ্বস্ত এমন পরিস্থিতিতেই আশ্রয় নেওয়া মিয়ানমারের নাগরিকদের ফেরত পাঠাচ্ছে ভারত।
এদিকে এ খবরে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। জাতিসংঘের মানবাধিকার সংগঠনগুলোর সুরেই পররাষ্ট্র দপ্তর মিয়ানমারের প্রতিবেশী দেশগুলোর প্রতি আশ্রয়প্রার্থীদের আশ্রয় ও সুরক্ষা দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
সীমান্তের লোকজনের জন্য মিয়ানমারের সঙ্গে কয়েক দশক পুরনো ভিসামুক্ত চলাচলের নীতি ছিল ভারতের। কিন্তু জাতীয় নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে গত মাসে ওই নীতির ইস্তফা ঘোষণা করে ভারত।