রাজধানীর বেইলি রোডের গ্রিন কোজি কটেজে লাগা আগুনে নিহত ‘অভিশ্রুতি শাস্ত্রী’ পরিচয়ে সাংবাদিকতা করা তরুণী কুষ্টিয়ার খোকসার শাবলুল আলম ওরফে সবুজ শেখেরই মেয়ে, যার প্রমাণ মিলেছে ডিএনএ পরীক্ষায়। সবুজ শেখের বর্ণনা অনুযায়ী মারা যাওয়া ওই নারী সাংবাদিকের প্রকৃত নাম বৃষ্টি খাতুন। বাবা শাবলুল আলম এবং মা বিউটি খাতুনের দেওয়া ডিএনএ নমুনার সঙ্গে মিলেছে তার ডিএনএ। গতকাল রবিবার এ তথ্য নিশ্চিত করেন পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) এ কে এম নাহিদুল ইসলাম।
গত ২৯ ফেব্রুয়ারি বেইলি রোডের আগুনে মৃত্যুর পর ওই নারী সাংবাদিকের প্রকৃত নাম অভিশ্রুতি শাস্ত্রী নাকি বৃষ্টি খাতুন এবং ধর্ম পরিচয় নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়। যার ফলে তার লাশ হস্তান্তর নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়। ঢাকার একটি গণমাধ্যমে কাজ করা বৃষ্টি খাতুন নিজেকে অভিশ্রুতি পরিচয় দিয়ে রমনা কালীমন্দিরে পূজা-অর্চনাও করতেন। সহকর্মীরা তাকে হিন্দু ধর্মাবলম্বী হিসেবেই জানত।
তবে তার মরদেহ নিতে এসে শাবলুলের বক্তব্যে দেখা দেয় প্রশ্ন। তিনি দাবি করেন, ওই তরুণীর নাম বৃষ্টি খাতুন, অর্থাৎ তিনি মুসলমান পরিবারের সন্তান। শাবলুল নিহত তরুণীর যে জাতীয় পরিচয়পত্র দেখিয়েছিলেন তাতে বৃষ্টি খাতুন নাম দেখে তাকে প্রতারক ভেবে পুলিশ আটকও করে। অবশ্য জিজ্ঞাসাবাদের পর ছেড়ে দেওয়া হয়।
এমন বর্ণনাও উঠে আসে যে, ওই তরুণী মনে করতেন তিনি পালিত সন্তান। তার আসল বাবা-মা ছিলেন ভারতের, তারা হিন্দু ধর্মাবলম্বী। কিন্তু সবুজ তার বক্তব্যে অটল থাকলে ডিএনএ পরীক্ষায় পরিচয় শনাক্তের কথা বললে তাতে রাজি হন তিনি। ১০ দিন পর সেই পরীক্ষার ফল মিলেছে।
বৃষ্টি খাতুন ছাড়াও বেইলি রোডের ওই আগুনে নিহত নাজমুল নামে আরেকজনের মরদেহের একাধিক দাবিদার থাকায় তার মরদেহ হস্তান্তরে জটিলতা তৈরি হয়েছিল। ডিআইজি নাহিদুল ইসলাম জানান, নাজমুলের পরিবারের সদস্যরাও ডিএনএ পরীক্ষার জন্য নমুনা দিয়েছিলেন। তার পরিবারের সঙ্গেও ডিএনএ মিলেছে।
এই দুজনের মরদেহ হস্তান্তরের বিষয়ে জানতে চাইলে গতকাল রাতে রমনা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) উৎপল বড়ুয়া বলেন, ‘মরদেহ শনাক্তের বিষয়ে সিআইডি এখনো আমাদেরকে কোনো কিছু জানায়নি। ডিএনএ পরীক্ষয় যদি পরিচয় শনাক্ত হয় তবে অবশ্যই পরিবারের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হবে।’
বৃষ্টির বাবা শাবলুল আলম ও নাজমুলের মামা আনোয়ার হোসেনও জানান, মরদেহ নেওয়ার জন্য তাদের কিছু জানানো হয়নি। তারা অপেক্ষায় আছেন।