সুপ্রিম কোর্ট বার নির্বাচন

ব্যারিস্টার কাজলকে জামিন না দিয়ে চার দিনের রিমান্ড

সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির নির্বাচন ঘিরে মারামারি ও হামলার ঘটনায় করা মামলায় বিএনপি-জামায়াতপন্থি নীল প্যানেলের পরাজিত সম্পাদক প্রার্থী ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজলের চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত। গতকাল রবিবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. নুরুল হুদা চৌধুরী তার জামিনের আবেদন নাকচ করে দিয়ে চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দার শাখার (ডিবি) উপপরিদর্শক আবুল কালাম আজাদ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য কাজলকে সাত দিনের হেফাজতে (রিমান্ড) চেয়ে আবেদন করেন। অন্যদিকে তার পক্ষে অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন, ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, মাসুদ আহমেদ তালুকদারসহ শতাধিক আইনজীবী রিমান্ড বাতিলসহ জামিন আবেদন করেন। আদালত উভয় পক্ষের শুনানি শেষে জামিনের আবেদন নাকচ করে দিয়ে চার দিন রিমান্ডের আদেশ দেয়।

গত শুক্রবার সন্ধ্যায় রাজধানীর পল্টনে নিজ চেম্বার থেকে ব্যারিস্টার কাজলকে আটক করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। পরে তাকে শাহবাগ থানায় হস্তান্তর করা হলে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

গত ৬ ও ৭ মার্চ সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির ২০২৪-২৫ মেয়াদে কার্যকরী কমিটির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ভোট গণনাকে কেন্দ্র করে শুক্রবার রাতে হামলা ও মারামারির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আহত সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল সাইফুর রহমান সিদ্দিকী শুক্রবার হত্যাচেষ্টার অভিযোগে রাজধানীর শাহবাগ থানায় মামলা করেন।

সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির নির্বাচনের স্বতন্ত্র সম্পাদক প্রার্থী নাহিদ সুলতানা যূথী ও নীল প্যানেল থেকে একই পদে প্রার্থী হওয়া রুহুল কুদ্দুস কাজলসহ ২০ আইনজীবীকে এ মামলার আসামি করা হয়েছে।

এরপর শুক্রবার রাতে পাঁচ আইনজীবীকে গ্রেপ্তার করে ডিবি। তাদের তিন দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

গত শনিবার সন্ধ্যায় কাজলকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ছাড়া যূথীর বাসায় অভিযান চালায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ওইদিন মধ্যরাতে নির্বাচনের ফল ঘোষণা করা হয়। সভাপতি পদে বিএনপি-জামায়াতপন্থি নীল প্যানেল থেকে সভাপতি পদে ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন বিজয়ী হন। অন্যদিকে সম্পাদক পদে বিজয়ী হন আওয়ামীপন্থি আইনজীবীদের সাদা প্যানেলের প্রার্থ শাহ মঞ্জুরুল হক। ১৪টি পদের মধ্যে সাদা প্যানেল ১০টি এবং নীল প্যানেল ৪টিতে জয়লাভ করেছে।