ঢাকার ধামরাইয়ে চুরির অপবাদে হাসেম আলী (৩৯) নামের এক ঠিকাদারকে বেধরক পিটিয়ে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় ইউপি চেয়ারম্যানসহ ৫ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে। রবিবার রাতে ভুক্তভোগীর ভাই জাহের আলী বাদী হয়ে ধামরাই থানায় মামলাটি দায়ের করেন।
এর আগে গত মঙ্গলবার (৫ মার্চ) রাতে উপজেলার কুল্লা ইউনিয়নের বড় চন্দ্রাইল এলাকায় কুল্লা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান লুৎফর রহমানের বাড়িতে এ বর্বর হামলার ঘটনা ঘটে।
মামলার আসামিরা হলেন কুল্লা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান লুৎফর রহমান (৫৫), তার দুই ছেলে মমিন (২৭) ও রিপন আলী (৩০), একই ইউনিয়নের খাতরা গ্রামের বাসিন্দা বোরহান আলী (৪৫), আব্দুল হকসহ (৫৪) অজ্ঞাত পরিচয় আরো ৪-৫ জন। ভুক্তভোগী হাসেম আলী খাতরা গ্রামের বাসিন্দা।
স্থানীয় বাসিন্দা ও ভুক্তভোগীর স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে জমি-সংক্রান্ত বিষয়ে ইউপি চেয়ারম্যান লুৎফরের সঙ্গে হাসেমদের বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে বিভিন্ন সময় বিবাদেও জড়িয়েছেন তারা। সম্প্রতি ইউপি চেয়ারম্যানের বাড়ি সংলগ্ন স্থানীয় আবদুল বারেকের পাঁচতলা ভবন নির্মাণের কাজ করছিলেন হাসেম আলী। মঙ্গলবার রাতে বারেকের ছেলে হারিজুল ইসলাম কাজের জন্য হাসেমকে এক লাখ টাকা বিল দেন। সেই বিল নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে আনোয়ার হোসেন নামের একজনের বাড়িতে চুরির চেষ্টার অপবাদে চেয়ারম্যানের লোকজন হাসেমকে আটক করে বাড়িতে নিয়ে মারধর করে।
ভুক্তভোগীর পরিবারের অভিযোগ, জমি নিয়ে বিরোধের জেরে চোর অপবাদে সমর্থকদের দিয়ে এ ঘটনা ঘটিয়েছেন চেয়ারম্যান। গুরুতর আহত অবস্থায় হাশেমকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। মারধরে তাঁর পা ভেঙে গেছে। শরীরের বিভিন্ন জায়গায় জখম হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, রাস্তা দিয়া যাওয়ার সময় জানালা দিয়া উঁকি দিছিলাম। দেখি চেয়ারম্যানের পায়ে ধইরা হাশেম কইতাছিল, আমি চোর না। বাবারে আমারে ছাইড়া দে বইলা চিৎকার করছিল কিন্তু চেয়ারম্যান আর তার দুই পোলায় খালি তারে কইতে কয়, স্বীকার কর তুই মোবাইল চোর। কিন্তু আমি চোর না বলে চিৎকার করলেও মাইর থামায় নাই চেয়ারম্যান।
ভুক্তভোগীর স্ত্রী বলেন, আমার স্বামীকে আটক করে বাড়িতে নিয়ে চেয়ারম্যান পা দিয়ে উঠানের পাকা জায়গায় ফেলে মুখ চাইপা ধরে। সেসময় চেয়ারম্যানের ছেলেরা হাসেমকে রশি দিয়া পিছমোড়া করে বাঁধে। এরপর আরও কয়জন মিলে মারতে থাকে। একপর্যায়ে পুলিশ আসলে হাসেমের ভাইয়েরা তাকে হাসপাতালে নিয়া যায়।
হাসেমের বড় ভাই ও মামলার বাদী জাহের আলী বলেন, জমি নিয়ে বিরোধের জেরে আমার ভাইকে চুরির অপবাদ দিয়ে চেয়ারম্যান ও তার ছেলেরা মধ্যযুগীয় কায়দার বর্বর নির্যাতন করে হত্যার চেষ্টা করেছে। আমরা মামলা করেছি। দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি চাই।
অভিযোগের বিষয়ে ইউপি চেয়ারম্যান লুৎফর রহমান বলেন, হাশেম এক বাড়িতে চুরি করতে গেলে স্থানীয়রা তাকে ধাওয়া দিয়ে আটক করে মারধর করে। পরে চৌকিদার তাকে আমার কাছে নিয়ে এলে বিষয়টি ওসিকে জানাই। পুলিশ এসে তাকে হেফাজতে নেয়। আমার বাসায় তাকে মারধরের অভিযোগটি সত্য নয়।
ধামরাই থানার উপ পরিদর্শক (এসআই) অসীম বিশ্বাস বলেন, ঠিকাদার হাশেমকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে ইউপি চেয়ারম্যান ও তার ছেলেদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। এ ঘটনায় আসামিদের ধরতে অভিযান চলমান রয়েছে।