নিম্নবিত্তের নাগালের বাইরে ইফতারের খেজুর!

পবিত্র রমজানে খেজুরের দামের মূল্যবৃদ্ধি অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যাওয়ায় বগুড়ায় নিম্নবিত্ত মানুষের ক্রয়সীমার বাইরে চলে গেছে। তেমনি মধ্যবিত্তরাও হিমশিম খাচ্ছে খেজুর কিনতে। গত বছরের তুলনায় এ বছর খেজুরের কেজিপ্রতি দাম বেড়েছে ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

আজ মঙ্গলবার রমজানের প্রথম দিন সরেজমিনে বগুড়া শহরের ফলপট্টিতে খেজুরের আড়ত, সাতমাথা, কাঁঠালতলা, ফতেহ আলী বাজার, কলেজ বাজার, কলোনি বাজার ও রাজাবাজার ঘুরে দেখা যায়, ইরাক, ইরান, মিশর, তিউনিসিয়া, সৌদি থেকে আমদানি করা খেজুর বিক্রি করা হচ্ছে। আমদানি করা নানান জাতের খেজুরের মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন জাতের আজওয়া, মেজজুল, মরিয়ম, সাফারি, মাবরুম, কালমি, দাবাস, জাহিদি, সায়ের, সুক্কারি ও মাশরুখ।

পাইকারি বাজারে প্রতি কেজি মরিয়ম খেজুর পাইকারি বাজারে ১ হাজার টাকা, খুচরায় তা বিক্রি হচ্ছে ১১০০ থেকে ১২০০ টাকায়, আজওয়া খেজুর পাইকারিতে কেজি প্রতি ১ হাজার ২০০ টাকায় ও খুচরা বাজারে ১৪০০ টাকা, মেজজুল খেজুর পাইকারি কেজি প্রতি ১ হাজার ৩৫০ টাকা ও খুচরা বাজারে ১৫০০ টাকা। গত রমজানে পাইকারিতে মরিয়ম ৭০০, আজওয়া ৯০০ ও মেডজুল হাজার টাকা কেজি ছিল। এ বছর মাবরুম খেজুর পাইকারিতে ৭০০ থেকে ৯০০ টাকা কেজিতে খুচরা বাজারে ১ হাজার টাকা, গত বছর এই খেজুরের পাইকারি দাম ছিল ৪৫০ থেকে ৬৫০ টাকা। মধ্যমানের দাবাস, মাশরুখ, সুক্কারি ৫৫০ থেকে ৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গত যা ছিল ২২০ থেকে ৩০০ টাকার মধ্যে। ইরাকের জাহিদি খেজুর বিক্রি হচ্ছে ২৫০ টাকা কেজি। যা গত বছর বিক্রি হয়েছে সর্বোচ্চ ১৫০ টাকা কেজি দরে।

বগুড়ার খেজুর ব্যবসায়ীরা বলছেন, দাম বেশি হওয়ায় দামি খেজুরের চাহিদা কম। আর তাই সাধারণ মানুষ বাজারে তুলনামূলক কম দামি খেজুর খুঁজছেন। আমদানি নির্ভর হওয়ায় আমদানি ব্যয়, ভ্যাট, করসহ নানা খরচের কারণে খেজুরের দাম এবার গতবারের দ্বিগুণের চেয়ে বেশি। এ ছাড়া ডলারের মূল্যবৃদ্ধি, কাস্টম ডিউটি ট্যাক্স ও রেগুলেটরি ডিউটি ট্যাক্স দাম বাড়ার প্রধান কারণ।

বগুড়ার সায়েম ট্রেডার্সের সত্ত্বাধিকারী আব্দুল মান্নান বলেন, গত বছর থেকে হু হু করে খেজুরের দাম বেড়েছে। এ বছর এক লাফে দাম হয়েছে দ্বিগুণেরও বেশি। নতুন করে যোগ হয়েছে কাস্টম ডিউটি ২৫ শতাংশ। সঙ্গে রয়েছে রেগুলেটরি ডিউটি ও ভ্যাট ১৫ শতাংশ। এসব খাতে আগে এত রাজস্ব দিতে হতো না ব্যবসায়ীদের। মূলত এর প্রভাবই বেশি পড়েছে খেজুর আমদানিতে। এবার সরকারের নির্দেশে ভ্যাট ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৫ শতাংশ করায়ও ব্যাংকে এলসি ও ডলারের সংকটের ফলে দাম কমছে না।

গাইবান্ধার খেজুর কিনতে আসা, সাইফুল, রফিক, সাইদুল ইসলাম জানান, গত বছর যেই প্যাকেটে খেজুর ২ হাজার ৮০০ থেকে ৩ হাজারে কিনেছি। এইবার সেই খেজুর ৩ হাজার ৯০০ থেকে ৪ হাজার ২০০ টাকায় কিনতে হলো। তাও সব আড়তে সব খেজুর নেই। ঘুরে ঘুরে কিনতে হয়েছে। যা দাম আর সব খরচ বাদে গ্রামে গিয়ে কেজিতে ১০ টাকাও লাভ করতে পারব না।

খেজুরের বাজারে রিকশাচালক, দুখু মিয়া, মোমিনসহ আরো অনেকে জানান, এবার আমরা খেজুর খেতে পারব না। ১২০ টাকা কেজির খেজুর ২৫০ টাকা কেজি। দাম বেড়েছে, আয় বাড়েনি। তাই খেজুর কেনা স্বপ্নের মতো হয়ে গেছে।

জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর বগুড়ার সহকারী পরিচালক ইফতেখারুল আলম রিজভী বলেন, বাজার নিয়ন্ত্রণে প্রতিনিয়ত মনিটরিং অব্যাহত রয়েছে। কেউ বেশি মুনাফার লোভ করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।