শিক্ষা, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রকল্প বাস্তবায়নের সক্ষমতা কম

পরিকল্পনামন্ত্রী আব্দুস সালাম জানিয়েছেন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রকল্প বাস্তবায়নের সক্ষমতা কম। সে জন্য আমরা যোগাযোগ ও বিদ্যুৎ খাতেই বেশি বরাদ্দ রাখছি। তবে নবম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় ভিন্ন কিছু দেখতে পাবেন। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিকে প্রকল্পে অর্থ বরাদ্দের ক্ষেত্রে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ এত বেশি কমানো হলো কেন এমন প্রশ্নের জবাবে পরিকল্পনামন্ত্রী এসব কথা বলেন।

গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) সভায় সংশোধিত এডিপির অনুমোদন দেওয়া হয়। রাজধানীর আগারগাঁওয়ের এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন এনইসি চেয়ারপারসন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সভা শেষে ব্রিফিং করে বিস্তারিত তুলে ধরেন পরিকল্পনামন্ত্রী আব্দুস সালাম ও পরিকল্পনা বিভাগের সিনিয়র সচিব সত্যজিত কর্মকার। এ সময় পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী শহীদুজ্জমানসহ সংশ্লিষ্ট সচিবরা উপস্থিত ছিলেন।

মন্ত্রী বলেন, ক্যাপাসিটি বলে একটা ব্যাখ্যা আছে। তাদের যা দেওয়া হয়েছে তা-ও তারা শেষ করতে পারেনি। শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে বলেছি সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য। মুখ্য সচিবের নেতৃত্বে যে প্রকল্প পরিচালক নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে, সেটি হলে তাদের সক্ষমতা বাড়বে।

এ সময় প্রতিমন্ত্রী শহীদুজ্জামান বলেন, এডিপি সংশোধন একটি চলমান প্রক্রিয়া। বাস্তবায়নের সম্ভাবনার ওপর নির্ভর করে আয়-ব্যয় নির্ধারণ করতে হয়।

চলতি ২০২৩-২৪ অর্থবছরের সংশোধিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (আরএডিপি) অনুমোদন দিয়েছে সরকার। এতে সংশোধিত এডিপির আকার ১৮ হাজার কোটি টাকা কমে দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৪৫ হাজার কোটি টাকা। মূল এডিপির আকার ছিল ২ লাখ ৬৩ হাজার কোটি টাকা।

পরিকল্পনামন্ত্রী জানান, সংশোধিত এডিপিতে ১৮ হাজার কোটি টাকা কমানো হয়েছে। এর মধ্যে বিদেশি অর্থায়ন কমেছে সাড়ে ১০ হাজার কোটি টাকা এবং সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন কমেছে সাড়ে ৭ হাজার কোটি টাকা।

পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতা কমানো এবং যেসব প্রকল্প অল্প বরাদ্দে শেষ করা যাবে, সেগুলোর বরাদ্দ নিশ্চিত করতে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এ ছাড়া প্রকল্পের মনিটরিং বাড়াতে মন্ত্রী ও সচিবদের নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি।

ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, মূল এডিপি থেকে ১৮ হাজার কোটি টাকা কমিয়ে আরএডিপির আকার হয়েছে ২ লাখ ৪৫ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকারি তহবিলের ১ লাখ ৬১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা, যা মোট বরাদ্দের ৬৫ দশমিক ৯২ শতাংশ। এ ছাড়া বৈদেশিক সহায়তা থেকে ৮৩ হাজার ৫০০ কোটি টাকা বা ৩৪ দশমিক শূন্য ৮ শতাংশ।

৫৮টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মধ্যে সংশোধিত এডিপিতে সরকারি তহবিলের ক্ষেত্রে ৩৬টির বরাদ্দ কমেছে। দুটির বরাদ্দ অপরিবর্তিত আছে এবং ২০টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের বরাদ্দ বেড়েছে।

এদিকে, সর্বোচ্চ বরাদ্দ পাওয়া ১০টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগ হচ্ছে, স্থানীয় সরকার বিভাগ, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ, বিদ্যুৎ বিভাগ, রেলপথ মন্ত্রণালয়, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, সেতু বিভাগ এবং নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়। এসবের অনুকূলে বরাদ্দ দেওয়া হবে মোট সংশোধিত এডিপির ৬৬ দশমিক ৪৮ শতাংশ।