পবিত্র রমজান মাসে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয় খোলা রাখার সরকারি সিদ্ধান্ত স্থগিত করে হাইকোর্ট যে আদেশ দিয়েছিল সেটির ওপর স্থগিতাদেশ দিয়েছে সর্বোচ্চ আদালত। গতকাল মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বে গঠিত আপিল বিভাগ এ আদেশ দেয়।
এ আদেশের ফলে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে সরকারের সিদ্ধান্ত বহাল থাকল বলে জানান রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা।
রমজানে প্রাথমিক স্কুলে ১০ দিন ও মাধ্যমিক স্কুলে ১৫ দিন খোলা রাখার সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে সম্প্রতি এক অভিভাবক হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন। শুনানি নিয়ে গত ১০ মার্চ (রবিবার) বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের নেতৃত্বে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ সরকারি সিদ্বান্তের ওপর দুই মাসের স্থগিতাদেশসহ রুল দেয়। পরে হাইকোর্টের এ আদেশ স্থগিত চেয়ে গত সোমবার সুপ্রিম কোর্টের চেম্বার আদালতে আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ। চেম্বার আদালত বিষয়টি শুনানির জন্য আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে পাঠায়। এর ধারাবাহিকতায় গতকাল শুনানি হয়।
আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন। রিট আবেদনের পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এ কে এম ফয়েজ। আদেশের পর অ্যাটর্নি জেনারেল তার কার্যালয়ে সাংবাদিকদের বলেন, ‘পৃথিবীর সব মুসলিম অধ্যুষিত দেশের উদাহরণ তুলে ধরে বলেছি যে রমজানে কোথাও লম্বা সময় ধরে স্কুল বন্ধের নিয়ম নেই। আমি বলেছি যে, স্কুল খোলা বা বন্ধ রাখার বিষয়টি সরকারের পলিসির বিষয়। এটা নিয়ে চ্যালেঞ্জ করা যায় না। আদালত আমাদের বক্তব্য শুনে হাইকোর্টের আদেশটি স্থগিত করেছেন।’
এদিকে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আপিল বিভাগের রায়ের ফলে পূর্বের সিদ্ধান্ত অনুযায়ীই স্কুল খোলা থাকবে। অর্থাৎ রমজানের প্রথম ১০ দিন প্রাথমিক এবং মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলো প্রথম ১৫ দিন খোলা থাকবে। অন্যদিকে সারা দেশের কলেজগুলো রমজানে ২৪ মার্চ পর্যন্ত খোলা রাখা হবে। এ ছাড়া মাদ্রাসায় পরীক্ষা চলবে ২১ মার্চ পযর্ন্ত। সে হিসেবে মাদ্রাসা খোলা থাকবে ১১ দিন।
গত ৮ ফেব্রুয়ারি ছুটির তালিকা ও শিক্ষাপঞ্জি আংশিক সংশোধন করে রমজানে ১৫ দিন মাধ্যমিক পর্যায়ের স্কুল খোলা রাখার সিদ্ধান্ত জানিয়েছিল শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এরপর প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, রমজানে ১০ দিন ক্লাস চলবে।