প্রধান শিক্ষকের তিন লাখ টাকা ঘুষ নেওয়ার ভিডিও ভাইরাল

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার গয়হাট্টা সালেহা ইসহাক উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শহিদুল ইসলামের ঘুষ নেওয়ার ভিডিও ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে।

জানা যায়, উপজেলার পূর্ণিমাগাঁতী ইউনিয়নের গয়হাট্টা সালেহা ইসহাক উচ্চ বিদ্যালয়ে চলতি বছর সহকারী প্রধান শিক্ষক, ল্যাব সহকারী ও নৈশপ্রহরী নিয়োগ দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয় কর্তৃপক্ষ। ওই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের আগেই প্রধান শিক্ষক শহিদুল ইসলাম প্রার্থীদের স্বজনদের কাছে থেকে ৩ লাখ টাকা ঘুষ নিচ্ছেন এমন একটি ভিডিও ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে।

ওই ভিডিওতে দেখা যায়, কয়েকজন ব্যক্তি প্রধান শিক্ষককের কক্ষে বসে তার হাতে দুই লাখ টাকা তুলে দেয়ার চেষ্টা করছেন। কিন্তু প্রধান শিক্ষক টাকা নিতে অপারগতা প্রকাশ করছেন। এক পর্যায়ে আরও এক লাখ টাকা বাড়িয়ে তিন লাখ টাকা তার হাতে দিলে তিনি সেটা গ্রহণ করেন।

ভিডিও ভাইরালের পর প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ের পুকুর লিজের টাকা, রশিদ ছাড়া টাকা উত্তোলন এবং চাকরি দেওয়ার কথা বলে টাকা আত্মসাতের অভিযোগ এনে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছেন বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আল-আমিন সরকার। তিন দিনের সময় বেঁধে দিয়ে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি প্রথম নোটিশ দেন তিনি।

নোটিশে প্রধান শিক্ষক শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে সাতটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ উল্লেখ করে বলা হয়, এসব অনিয়মের মাধ্যমে আপনি বিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছেন। এ অবস্থায় আপনার বিরুদ্ধে কেন বেসরকারি চাকরিবিধি মোতাবেক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে না সভাপতি বরাবর কারণ দর্শানোর জন্য বলা হলো। প্রথম নোটিশ গ্রহণ না করায় গত ৫ মার্চ আবারও একটি নোটিশ দেন তিনি।

 

এ বিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক আব্দুল হাকিম বলেন, প্রধান শিক্ষক শহিদুল ইসলাম বিদ্যালয়ের কাজকাম ঠিকমতো না করে নিজের খেয়াল খুশি মতো চলছেন। তিনি আগে যে প্রতিষ্ঠানে ছিলেন সেখানেও নারী কেলেঙ্কারিতে যুক্ত ছিলেন। আমরা চাই তার মতো শিক্ষক এই প্রতিষ্ঠানে থেকে অপসারণ হোক।

আরেক অভিভাবক জহুরুল ইসলাম মাস্টার বলেন, নিজে শিক্ষক হয়েও আরেক শিক্ষকের বিরুদ্ধে বলতে হচ্ছে। বর্তমান প্রধান শিক্ষক শহিদুল ইসলাম মিথ্যাবাদী ও দুর্নীতিবাজ। তিনি বিদ্যালয়ের পুকুর লিজের টাকা আত্মসাৎ করেছেন। তিনি নিয়োগ দিয়ে ব্যাপক টাকা আত্মসাৎ করেছেন। ছাত্র-ছাত্রীদের কাছে থেকে টাকা নিয়ে বই বিতরণ করেছেন।

এ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আল-আমিন সরকার বলেন, প্রধান শিক্ষকের নামে আমাদের স্কুলে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। একাধিকবার বলার পরেও তিনি কোনো হিসাব দেন নাই।

তিনি বলেন, ‘সম্প্রতি তিনটি নিয়োগের কথা বলে তিন লাখ টাকা ঘুষ গ্রহণের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এসব কারণে তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ করা হলেও তিনি জবাব দেন নাই। যদি সে জবাব না দেয় তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে

এদিকে ঘুষ গ্রহণের ভিডিও ভাইরাল হওয়ার বিষয় অস্বীকার করে প্রধান শিক্ষক শহিদুল ইসলাম উল্টো সভাপতির বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ ও তাকে মারধরের অভিযোগ করেছেন।

তিনি বলেন, আমি থানায় মামলা দায়ের করেছি। এ জন্য তিনি উল্টো আমার নামে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছেন। আমি কারো কাছে থেকে কোনো টাকা নেই নাই। কেউ আমাকে নিয়োগ সংক্রান্ত কোনো টাকা দেয় নাই।