বাংলাদেশি পতাকাবাহী জাহাজ ‘এমভি আবদুল্লাহ’ নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে সোমালীয় জলদস্যুরা। গতকাল মঙ্গলবার (১৩ মার্চ) মোজাম্বিক থেকে কয়লা নিয়ে আরব আমিরাতে যাওয়ার পথে ভারত মহাসাগরে জাহাজটির নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে প্রায় অর্ধশত সশস্ত্র জলদস্যু। জাহাজের ২৩ বাংলাদেশি নাবিককেও জিম্মি করে রেখেছে তারা।
জাহাজটি চট্টগ্রামের কবির গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান এস আর শিপিং লিমিটেডের মালিকানাধীন। আজ বুধবার (১৩ মার্চ) সকাল ১০টায় জাহাজের মালিকপক্ষের সঙ্গে দেখা করেন ওই জাহাজে আটকে থাকা ৯ নাবিকের পরিবারের সদস্যরা।
এ সময় মালিকপক্ষের পক্ষ থেকে নাবিকদের উদ্ধারে পরিবারকে আশ্বাস দেওয়া হয়। পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন কবির গ্রুপের মিডিয়া উপদেষ্টা মিজানুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘ঘটনার পর থেকে প্রথমে নাবিকদের সুরক্ষার বিষয়ে আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছি। জলদস্যুরা নাবিকদের কোনো ক্ষতি করেনি। তাঁরা সুস্থ আছে। জাহাজে নাবিকদের যাতে কোনো সমস্যা না হয়, সে জন্য আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছি।’
তিনি বলেন, এখনো জলদস্যুদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি তাদের। জাহাজের কর্মকর্তারা কবির গ্রুপে পাঠানো বার্তায় জানিয়েছেন, জাহাজটি এখন সোমালিয়ার উপকূলের দিকে নিয়ে যাচ্ছে দস্যুরা। বাংলাদেশ সময় আগামীকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে সোমালিয়ার উপকূলে পৌঁছাবে জাহাজটি।
মোজাম্বিকের মাপুতু বন্দর থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাতে যাওয়ার পথে গতকাল মঙ্গলবার (১২ মার্চ) বাংলাদেশ সময় বেলা দেড়টায় জাহাজটিতে উঠে নিয়ন্ত্রণ নেয় সোমালিয়ার জলদস্যুরা। জাহাজটিতে ৫৫ হাজার টন কয়লা রয়েছে। জাহাজটিতে থাকা ২৩ জন নাবিকের সবাই বাংলাদেশি। জাহাজটি চট্টগ্রামের কবির গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান এস আর শিপিং লিমিটেডের মালিকানাধীন।
যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশন (ইউকে এমটিও) তাদের ওয়েবসাইটে জানিয়েছে, সোমালিয়ার রাজধানী মোগাদিসু থেকে ৬০০ নটিক্যাল মাইল পূর্বে এ ঘটনা ঘটেছে। দুটি নৌযানে (একটি বড় এবং আরেকটি ছোট) চড়ে জাহাজটির কাছাকাছি এসে জলদস্যুরা জাহাজটির নিয়ন্ত্রণ নেয়। ইউকে এমটিও সমুদ্র চলাচলকারী অন্য জাহাজগুলোতে সতর্কতার সঙ্গে চলাফেরা করতে বলেছে।
নাবিকদের ছাড়তে ৫০ লাখ মার্কিন ডলার চেয়েছে জলদস্যুরা
সোমালিয়ান জলদস্যু কারা? কেন এত শক্তিশালী?
যেভাবে জলদস্যুরা বাংলাদেশি জাহাজ নিয়ন্ত্রণে নেয়