রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সমালোচক অ্যালেক্সি নাভালনির মৃত্যু হয়েছে কারাগারে। এই ‘রহস্যমৃত্যু’ নিয়ে সমালোচনার ঝড় বইছে বিশ্বজুড়ে। এছাড়া ইউক্রেন যুদ্ধে প্রতিদিন দীর্ঘতর হচ্ছে রুশ সেনাদের মৃত্যুর তালিকা। এ নিয়েও দেশের অভ্যন্তরে ক্ষোভ বিরাজ করছে। এই পরিস্থিতিতে আগামী শুক্রবার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের মুখোমুখি হতে চলেছেন পুতিন, যা চলবে রবিবার পর্যন্ত।
রুশ সংবাদমাধ্যমের পূর্বাভাস, অল রাশিয়া পিপলস ফ্রন্টের প্রার্থী পুতিনের সঙ্গে মূল লড়াই করবেন রুশ কমিউনিস্ট পার্টির প্রার্থী নিকোলাই খারিতনভ। লড়াইয়ে রয়েছেন লিবারেল ডেমোক্র্যাট পার্টির লিওনিদ সলুৎস্কি এবং ইউনিয়ন অব প্রোগ্রেসিভ পলিটিক্যাল ফোর্সেসের ভ্লাদিস্কভ ডাভানকোভও।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, গত আড়াই দশকে কার্যত বিরোধীহীন হয়ে পড়া রুশ রাজনীতিতে পুতিন রীতিমতো অপ্রতিরোধ্য। তাদের মতে, ক্রেমলিনের লক্ষ্য আগের চারটি প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের তুলনায় পুতিনের ভোটবৃদ্ধি নিশ্চিত করা। এর আগে ২০১৮ সালে প্রেসিডেন্ট ভোটে পুতিন সাড়ে ৭৭ শতাংশ ভোট পেয়েছিলেন।
সেই নির্বাচনে তেমন প্রতিদ্বন্দ্বিতা না থাকলেও জোর করে ব্যালট বাক্স জাল ভোটে ভর্তি করা, জালিয়াতি এবং ভোটে বাধাদানের অভিযোগ উঠেছিল পুতিন সমর্থকদের বিরুদ্ধে। এ বার পুতিনবিরোধী জনপ্রিয় রাজনীতিবিদ বরিস নাদেজদিনের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অংশ নেওয়ার পথ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে আগেই।
২০১৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সময় পুতিন বলেছিলেন ২০২৪ সালের পরে আর রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পদে থাকবেন না। কিন্তু পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে তিনি সেই সিদ্ধান্ত বদলেছেন। গত ২৩ বছর ধরে রাশিয়ায় হর্তাকর্তা হয়ে আছেন পুতিন। ২০০০ সালের মে মাস থেকে ২০০৮ সালের মে পর্যন্ত দুটি ভোটে জিতে প্রেসিডেন্ট হয়েছিলেন তিনি।
তৎকালীন রুশ আইন অনুযায়ী দুই বারের বেশি প্রেসিডেন্ট পদে থাকা যেত না। তাই অনুগত দিমিত্রি মেদভেদেভকে প্রেসিডেন্ট করে নিজে প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন পুতিন।
এরপর ২০১২ সালে দ্বিতীয় দফায় (তৃতীয় নির্বাচন জিতে) ছয় বছরের জন্য প্রেসিডেন্ট হন পুতিন। পুনর্নির্বাচিত হন ২০১৮ সালে। টানা দুই বারের বেশি প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে দাঁড়ানোর জন্যই ২০২১ সালেই আইন পরিবর্তন করেছিলেন কেজিবির প্রাক্তন প্রধান পুতিন। পঞ্চম বার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়ী হলে ২০৩০ পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকবেন তিনি।
রুশ রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের অধিকাংশের ধারণা, এ বারের প্রেসিডেন্ট ভোটে পুতিনের জয় কার্যত নিশ্চিত। অর্থাৎ তার সামনে এখন সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের দুই নেতার রেকর্ড ভাঙা সময়ের অপেক্ষা। টানা ২৪ বছর ক্রেমলিনের ক্ষমতায় ছিলেন জোসেফ স্তালিন এবং লিওনিদ ব্রেজনেভ। এ বার মস্কোর মসনদে বসতে পারলে নতুন নজির স্থাপন করবেন পুতিন।