ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির (ডিআইইউ) ১০ শিক্ষার্থীকে সাময়িক বহিষ্কার করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। ‘অনুমোদন না নিয়ে সাংবাদিক সমিতি প্রতিষ্ঠা’ এবং সংগঠনে ‘পদ নেওয়ায়’ তাদের বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
সাময়িক বহিষ্কৃতরা হলেন ডিআইইউ সাংবাদিক সমিতির সভাপতি কালাম মুহাম্মদ (এশিয়ান টিভি), সাধারণ সম্পাদক রেজোয়ানুল হক (একুশে সংবাদ), সহ-সভাপতি সাদিয়া তানজিলা সানভি (দ্য ডেইলি ক্যাম্পাস), যুগ্ম-সম্পাদক কাওছার আলী (রাইজিং বিডি), সাংগঠনিক সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ (ভোরের ডাক), দপ্তর, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম (দৈনিক আমার সংবাদ/ক্যাম্পাস টাইমস), কোষাধ্যক্ষ জাকারিয়া হুসাইন (বার্তা বিচিত্রা) ও কার্যনির্বাহী সদস্য সম্রাট (প্রিয়দেশ), ইসমাম হোসেন (দৈনিক স্বদেশ প্রতিদিন) ও মুছা মল্লিক (ঢাকা পোস্ট)।
বুধবার (১৩ মার্চ) বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. সাজ্জাদ হোসেন ও রেজিস্ট্রার মো. আবু তারেকের সই করা বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
এতে বলা হয়, সাম্প্রতিক সময়ে ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির নাম ব্যবহার করে কিছু সংখ্যক ছাত্র সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে একটি সমিতি চালাচ্ছেন। ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে এ ধরনের কোনো সাংবাদিক সমিতি নেই এবং ইউনিভার্সিটি কর্তৃপক্ষ এ ধরনের সাংবাদিক সমিতিকে কোনো স্বীকৃতি দেয়নি।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, গত ৫ মার্চ এ বিষয়ে একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়। সাংবাদিক সমিতি ইউনিভার্সিটির অনুমতি না নিয়ে ক্যাম্পাসে ক্লাসরুম ব্যবহার করে ৯ মার্চ সাধারণ সভার আয়োজন করে এবং ১০ মার্চ ২০২৪-২৫ সালের জন্য কার্যনির্বাহী কমিটি গঠন করে, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম বহির্ভূত।
এতে আরও বলা হয়েছে, বুধবার (১৩ মার্চ) ডিআইইউ’র বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান, উপাচার্য, উপ-উপাচার্য, রেজিস্ট্রার, প্রক্টর ও সব বিভাগীয় প্রধানের সমন্বয়ে সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সর্বসম্মতিক্রমে সাংবাদিক সমিতির সংশ্লিষ্ট সদস্যদের কেন বহিষ্কার করা হবে না মর্মে কারণ দর্শানো এবং একই সঙ্গে তাদের সাময়িক বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
ডিআইইউ’র প্রক্টর অধ্যাপক সাজ্জাদ হোসেন বহিষ্কারের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আনুষ্ঠানিক সভা করে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সভায় কী সিদ্ধান্ত হয়েছে, সেটা বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়ে দিয়েছি আমরা। এর বেশি কিছু বলার নেই।
ডিআইইউ সাংবাদিক সমিতির সাবেক সভাপতি ও বর্তমান কমিটির সদস্য মুছা মল্লিক সাংবাদিকদের বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ যখন বিভিন্ন সংগঠনের অনুমোদন দিচ্ছিল, তখন আমরাও নিয়ম মেনে আবেদন করেছিলাম। তারা অন্য সংগঠনের অনুমোদন দিলেও সাংবাদিক সমিতি করার অনুমোদন দেয়নি। বিশ্ববিদ্যালয়ের নানা অনিয়ম-দুর্নীতি নিয়ে সাংবাদিকরা লিখবে, এ ভয়েই মূলত তারা ক্যাম্পাসে সাংবাদিক সংগঠন করতে দিতে চান না। অথচ স্বেচ্ছাসেবী যেকোনো সংগঠন করা এবং তাতে সদস্য হওয়া শিক্ষার্থীদের অধিকার।