ছাত্রদলের হামলার প্রতিবাদে ঢাবি সাংবাদিক সমিতির মানববন্ধন

আপডেট : ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ০২:৪৭ পিএম

পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে রাজধানী শাহবাগ থানার অভ্যন্তরে সাংবাদিকদের ওপর ছাত্রদলের হামলার প্রতিবাদে এবং স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিবেশ নিশ্চিতের দাবিতে মানববন্ধন করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি।

শনিবার (২৫ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ১১টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধনে সাংবাদিক সমিতির বর্তমান সদস্যদের পাশাপাশি সাবেক সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। মানববন্ধনে বক্তারা সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত শনাক্ত, মামলা গ্রহণ, আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ক্যাম্পাসে স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানান।

কর্মসূচিতে সংহতি জানান ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি শহিদুল ইসলাম, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের নির্বাহী সদস্য মোহাম্মদ আবু হানিফ, দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসের সম্পাদক ও ঢাবি সাংবাদিক সমিতির সাবেক সভাপতি মাহবুব রনি, বিডিনিউজ২৪-এর সাংবাদিক ও ঢাবি সাংবাদিক সমিতির সাবেক সভাপতি মাসুম বিল্লাহ, দ্য ডেইলি স্টারের সাংবাদিক ও ঢাবি সাংবাদিক সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম রুবেল, ঢাবি সাংবাদিক সমিতির সাবেক কার্যনির্বাহী সদস্য ইয়ামিন সাজিদ, দিনের আলোর সম্পাদক ফজলুর রহমান জুলফিকার, দৈনিক গণজাগরণের সাংবাদিক মো. আবু সাঈদ, চায়না গ্লোবাল টেলিভিশন নেটওয়ার্কের (সিজিটিএন) বাংলাদেশ প্রতিনিধি হোসাইন তারেক, সাংবাদিক ও ফ্যাক্টচেকার কদরুদ্দিন শিশির, দৈনিক এদিন-এর সাংবাদিক সুমন্ত চক্রবর্তী ও আল জাজিরার সাংবাদিক মওদুদ আহমেদ সুজনসহ অনেকে।

মানববন্ধনে ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি শহিদুল ইসলাম বলেন, গণমাধ্যমগুলো যখন সত্য প্রচারের পরিবর্তে শক্তির প্রচার করে, তখন সেই সমাজ, সেই রাষ্ট্র ফ্যাসিবাদের দিকে পা বাড়ায়। রাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, তারা যখন জনগণকে নিরাপত্তা দেওয়ার পরিবর্তে শাসকশ্রেণির পক্ষে অবস্থান নেয় এবং নির্যাতিতের বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে তাদের আসামির কাঠগড়ায় দাঁড় করায়, তখন সেই রাষ্ট্রটি চূড়ান্ত ফ্যাসিবাদের রূপ ধারণ করে।

তিনি বলেন, যারা সেদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সদস্যদের ওপর নির্বিচারে হামলা চালিয়েছে, তাদের অবিলম্বে আইনের আওতায় এনে শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। এটি না হলে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা স্বপ্ন হিসেবেই থাকবে এবং সরকার আবার  ফ্যাসিবাদ রূপে আবির্ভূত হবে।

দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসের সম্পাদক ও ঢাবি সাংবাদিক সমিতির সাবেক সভাপতি মাহবুব রনি বলেন, সাংবাদিকদের ওপর ছাত্রদলের হামলার ঘটনায় মামলাটি এখন পর্যন্ত লিপিবদ্ধ হয়নি। আপনাদের কম্পাউন্ডেই এই বিশৃঙ্খলা এবং হামলা হয়েছে। সুতরাং পুলিশ প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্টদের প্রতি আমাদের দাবি অনতিবিলম্বে সেই মামলা গ্রহণ করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিন।

তিনি আরও বলেন, এই হামলাকারী শিক্ষার্থীদের অনতিবিলম্বে চিহ্নিত করে বিচার করতে হবে। ছাত্রদল নেতাদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, অনতিবিলম্বে দোষীদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করুন।

দ্য ডেইলি স্টারের সাংবাদিক ও ঢাবি সাংবাদিক সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম রুবেল বলেন, ডুজা সদস্যরা ক্যাম্পাসে কোনো নির্যাতনের স্বীকার হলে তারাই সবার আগে লিখে জাতিকে জানান। আজকে তাদের ওপরই অন্যায়ভাবে হামলা হয়েছে। সেটির বিচারের দাবিতে আমরা এখানে দাঁড়িয়েছি।

সিরাজুল ইসলাম রুবেল আরও বলেন, সমিতির সাধারণ সম্পাদক এবং সভাপতি গতকাল শাহবাগ থানায় গিয়েছিলেন। কিন্তু ভারপ্রাপ্ত অফিসারকে চার ঘণ্টায়ও পাওয়া যায়নি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আপনারা অপরাধীর পক্ষ নেবেন না। অতীতে এমন ঘটনার বিচার পেলেও ৫ আগস্টের পরে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা সবচেয়ে বেশি থাকার পরেও এখন কেন পাচ্ছি না? 

সাংবাদিক সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোতাহার হোসেন বলেন, আমার আট বছরের সাংবাদিকতা কখনো এমন ঘটনা কখনো দেখিনি। ছাত্রদলসহ অন্যরা যখন ক্যাম্পাসে আন্দোলনে আসতেন, তখন তাদের নানাভাবে সহযোগিতা করত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি। অথচ আজ তাদের ওপরই হামলা করল ছাত্রদল।

তিনি বলেন, এতকিছুর পরে ছাত্রদল ব্যবস্থা না নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাংবাদিক সমিতিসহ সাংবাদিকদের নিয়ে নানা অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি কখনো কোনো অন্যায়ের সঙ্গে আপস করেনি, ভবিষ্যতেও করবে না।

সমিতির সদ্য সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাহাদী হাসান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী উভয়ই নানাভাবে তালবাহানা করে সাংবাদিকদের ওপর হামলার বিচারকে বিলম্বিত করার চেষ্টা করে যাচ্ছেন। 

সাংবাদিক সমিতির নবনির্বাচিত সভাপতি মানজুর হোছাঈন মাহি বলেন, শাহবাগ থানায় ছাত্রদলের কিছু নেতাকর্মী আমাদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধা দেয় এবং আমরা তাৎক্ষণিকভাবে এর প্রতিবাদ জানালে উদ্ভুত পরিস্থিতিতে তারা আমাদের ওপর হামলা চালায়, যা অত্যন্ত নিন্দনীয় ও দুঃখজনক।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত