সাংবাদিকের ওপর হামলা

ফ্যাসিবাদী আচরণের বহিঃপ্রকাশ: জাবিসাস

আপডেট : ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ০১:২৮ পিএম

রাজধানীর শাহবাগ থানার ভেতরে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির  (ডুজা) সদস্যদের ওপর হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি (জাবিসাস)। একই সঙ্গে অনতিবিলম্বে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবি জানায় সংগঠনটি।

জাবিসাসের সভাপতি মাহ্ আলম ও সাধারণ সম্পাদক রাজিব রায়হান স্বাক্ষরিত এক যৌথ বিবৃতিতে শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) এ নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, সাংবাদিকদের ওপর এ ধরনের হামলা ফ্যাসিবাদী আচরণের বহিঃপ্রকাশ এবং এটি স্বাধীন সাংবাদিকতার জন্য গুরুতর হুমকি। অভ্যুত্থানোত্তর সময়ে দেশে ফ্যাসিবাদের বিলোপ ও রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন প্রত্যাশিত ছিল। কিন্তু ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়েও সাংবাদিকদের লক্ষ্য করে হামলার ঘটনা ঘটছে, যা গভীর উদ্বেগজনক। পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকদের ওপর হামলাকে তারা সুস্পষ্টভাবে ফ্যাসিবাদী মানসিকতার প্রতিফলন হিসেবে উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতিতে এমন ঘটনা ঘটায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন সাংবাদিক সংগঠনের নেতারা।

জাবিসাস নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের দ্রুততম সময়ের মধ্যে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানান। অন্যথায় কঠোর কর্মসূচি ঘোষণারও হুঁশিয়ারি দেন তারা।

গত ২৩ এপ্রিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর নামে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি স্ক্রিনশট ছড়িয়ে পড়াকে কেন্দ্র করে শাহবাগ থানা এলাকায় ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এ সময় ঘটনাস্থলে পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গেলে ডুজার কয়েকজন সদস্যের ওপর ছাত্রদলের কিছু নেতাকর্মী হামলা চালায়। এ ঘটনায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সভাপতি মানজুর হোছাঈন মাহি, সাধারণ সম্পাদক লিটন ইসলাম, ডেইলি অবজারভারের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি নাইমুর রহমান ইমন, দেশ রূপান্তরের খালিদ হাসান, ঢাকা ট্রিবিউনের সামশুদ্দৌজা নবাব, ঢাকা মেইলের মোহাম্মদ ইফতেখার হোসেন সিফাত, নয়া দিগন্তের হারুন ইসলাম, রাইজিংবিডির সৌরভ ইসলাম, মানবজমিনের আসাদুজ্জামান খানসহ অন্তত ১০  সাংবাদিক আহত হন।

এছাড়া গত ২২ এপ্রিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজয় একাত্তর হলে দেয়াল লিখনকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে সৃষ্ট উত্তেজনার ভিডিও ধারণ করতে গিয়ে কয়েকজন সাংবাদিক হেনস্তার শিকার হন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত