সোমালীয় জলসীমায় জলদস্যুদের হাতে জিম্মি বাংলাদেশি জাহাজের নাবিকদের সুস্থ ফেরত আনার বিষয়ে সরকার বদ্ধপরিকর বলে জানিয়েছেন নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী। এ বিষয়ে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলেও দাবি করেছেন তিনি। গতকাল বুধবার সচিবালয়ে আসন্ন ঈদুল ফিতরে ফেরি, স্টিমার, লঞ্চসহ জলযান সুষ্ঠুভাবে চলাচল এবং যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে কর্মপন্থা গ্রহণের বৈঠকের শুরুতে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী এ কথা বলেন।
খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘সোমালিয়ান জলদস্যুদের হাতে জিম্মি ‘এমভি আবদুল্লাহ’ জাহাজের নাবিকদের মুক্ত করতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, নৌবাহিনী এবং সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক সব পর্যায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে তৎপরতা চালানো হচ্ছে। নাবিকরা এখনো নিরাপদ ও সুস্থ আছেন, তবে জাহাজ এখন জলদস্যুদের নিয়ন্ত্রণে আছে।’
অপহরণ হওয়া জাহাজ উদ্ধারের অগ্রগতি জানতে চাইলে নৌ প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বলা হচ্ছে সোমালিয়ার জলদস্যুরা... এটা ভারত মহাসাগরে, বলা হচ্ছে সোমালিয়া থেকে প্রায় ৬০০ নটিক্যাল মাইল দূরে জাহাজটি। জলদস্যু কারা এটাই এখনো আইডেন্টিফাইড নয়। ওই অঞ্চলটি সোমালিয়ান অঞ্চল সেটি বলা যেতে পারে। তবে সেটা কে তা (সোমালীয় জলদস্যু) বলা মুশকিল, সেটা আপনি হতে পারেন আমিও হতে পারি।’
জাহাজের নাবিকদের পরিবারগুলো উদ্বিগ্নে দিন কাটাচ্ছে এ বিষয় দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি বলেন, ‘আমরা সামাজিক জীব, পরিবার নিয়ে বসবাস করি। যে পরিবারগুলোর সদস্যরা সেখানে আটকে আছে, সে পরিবারগুলোর কীভাবে দিন যাচ্ছে সেটা আমরা অনুভব করছি। প্রধানমন্ত্রী পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে নির্দেশনা দিয়েছেন। অন্য জায়গাগুলোতে তিনি কথা বলেছেন। নাবিকদের নিরাপদে বাংলাদেশে ফেরত আনার জন্য যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।’ নাবিকদের ফিরিয়ে আনতে কত সময় লাগতে পারে জানতে চাইলে খালিদ মাহমুদ বলেন, ‘যারা এখন জাহাজটি নিয়ন্ত্রণ করছেন তারা তো মানুষ না তারা জলদস্যু। মানুষের সঙ্গে কথা বললে আমি সময় নির্ধারণ করতে পারব, এতগুলো মিটিং করলে আমরা শেষ করতে পারব। এটা জলদস্যুদের বিষয়, জলদস্যু আর মানুষ এক নয়। তাই সময়টা এখানে সুনির্দিষ্টভাবে বলা যাবে না।’
নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘ডিপার্টমেন্ট অব শিপিং, মেরিটাইম যতগুলো উইং আছে তারা কাজ করছে। সমন্বিতভাবে আমরা এটি নিয়ে আসতে পারব। আমরা বসে নেই গত মঙ্গলবার বিকেল থেকেই এটা থেকে এক মুহূর্ত বিচ্যুত নই, সবসময় সংযুক্ত আছি। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে আমরা এ বিষয়ে অবহিত করেছি। জাহাজটাকে উদ্ধার করার জন্য আমরা সবার সহযোগিতা চেয়েছি। আমরা প্রথম যে বিষয়টি গুরুত্ব দিচ্ছি সেটা হচ্ছে, জাহাজে ২৩ জন নাবিক রয়েছেন, সেই ২৩ জন নাবিকের জীবন নিরাপদ রাখা, জীবন রক্ষা করে তাদের নিরাপদ জায়গায় নিয়ে আসাটা হচ্ছে আমাদের প্রথম কাজ।’
জাহাজ উদ্ধারে ভারতের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘তারা কীভাবে সহযোগিতা করবে সেটি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং আন্তর্জাতিক উইংগুলোর মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা হবে।’
মুক্তিপণ না দিলে জিম্মিদের হত্যা করা হবে বলে জলদস্যুরা হুমকি দিচ্ছে এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘আমাদের কাছে এই ধরনের সংবাদ এখন পর্যন্ত আসেনি।’