ভারত মহাসাগর থেকে এমভি আবদুল্লাহ নামে বাংলাদেশি একটি জাহাজের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে সোমালিয়ার জলদস্যুরা। জাহাজটি এরই মধ্যে সোমালিয়ার একটি বন্দরে নোঙর করেছে বলে জানা গেছে। এবার বাংলাদেশি জাহাজে কিভাবে হামলা চালানো হয়েছে, সে বিষয়ে তথ্য দিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নৌবাহিনী। শুক্রবার (১৫ মার্চ) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে বার্তাসংস্থা রয়টার্স।
বার্তাসংস্থা রয়টার্স বলছে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের নৌবাহিনী জানিয়েছে, সোমালি জলদস্যুরা গত বছরের ডিসেম্বরে মাল্টিজ-পতাকাবাহী বাল্ক কার্গো জাহাজ রুয়েন ছিনতাই করেছিল। আর সেই জাহাজটিই তারা দুই দিন আগে ভারত মহাসাগরে বাংলাদেশের পতাকাবাহী একটি কার্গো জাহাজ দখলে নিতে ব্যবহার করতে পারে।
সংস্থাটি আরো বলছে, আগে ছিনতাই হওয়া জাহাজ ব্যবহার করে বাংলাদেশি জাহাজে হামলার এই তথ্য যদি সঠিক হয়, তাহলে এটা নিশ্চিত যে তারা আগের মতোই খুব সক্রিয় হয়ে উঠেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের জলদস্যুতা বিরোধী অভিযান ইউন্যাভফর (EUNAVFOR)-এর তথ্য অনুযায়ী, হামলার সময় অন্তত ১২ জন অভিযুক্ত জলদস্যু বাংলাদেশি জাহাজ আবদুল্লাহর ওপরে উঠে পড়েছিল বলে ভিজ্যুয়াল তথ্যে দেখা গেছে।
ভারত মহাসাগরে দিয়ে কয়লা নিয়ে আফ্রিকার দেশ মোজাম্বিক থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) দুবাইয়ের দিকে যাচ্ছিল বাংলাদেশের পতাকাবাহী জাহাজ এমভি আব্দুল্লাহ। পরে জলদস্যুদের কবলে পড়ে জাহাজটি। জাহাজে থাকা নাবিকদের অস্ত্রের মুখে বন্দি করে রাখা হয়েছে একটি কেভিনে।
এ ঘটনার পর তিনদিন পার হলেও এখন পর্যন্ত জলদস্যুরা নাবিকদের ওপর কোনো ধরনের শারীরিক নির্যাতন করেনি। তবে অস্ত্রের মুখে তাদের কথা মেনে চলতে বাধ্য করছে দস্যুরা। সময়ের সাথে এই দস্যুতার ব্যাপারে মিলছে বিস্তারিত তথ্য। ইউরোপীয় ইউনিয়নের নৌবাহিনী বলছে, ছিনতাই হওয়া একটি জাহাজ ব্যবহার করেই বাংলাদেশি জাহাজে হামলা ও পরে তা জিম্মি করে সোমালিয়ার দস্যুরা।