সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে ভারতের ইলেকটোরাল বন্ডের তথ্য প্রকাশ্যে আসার পর এ নিয়ে চলছে লাগাতার বিতর্ক; বিশেষ করে আক্রমণের মূল লক্ষ্যবস্তু হচ্ছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। কারণ দলটির সরকার এ ব্যবস্থা কার্যকর করেছে এবং তারাই এর মাধ্যমে সবচেয়ে বেশি লাভবান হয়েছে। নথিপত্রে দেখা গেছে, রাজনৈতিক দলগুলোকে বন্ডের মাধ্যমে অনুদান প্রদানে শীর্ষে রয়েছে এক লটারি প্রতিষ্ঠান। বিজেপি সরকার আইন করেছিল, কোনো ব্যক্তি বা কোম্পানি পরিচয় গোপন রেখে রাজনৈতিক দলগুলোকে বন্ডের মাধ্যমে অর্থসহায়তা করতে পারত। পরে সেই বন্ড ভাঙিয়ে দলগুলো অর্থ পেত। কিন্তু শীর্ষ আদালতের সাংবিধানিক বেঞ্চ ওই ব্যবস্থা বাতিল করে দেয়। এরপর সেই সংক্রান্ত নথিপত্র প্রকাশ্যে আসার পর দেখা গেল, সবচেয়ে বেশি অনুদান প্রদানকারী সংস্থা হচ্ছে ‘ফিউচার গেমিং অ্যান্ড হোটেল সার্ভিসেস’। ভারতে লটারি তদারকি প্রতিষ্ঠান হিসেবে এর পরিচিতি রয়েছে। তারা ২০১৯ সালের এপ্রিল থেকে চলতি বছর জানুয়ারি পর্যন্ত ১ হাজার ৩০০ কোটি রুপি অনুদান দিয়েছিল। এ প্রতিষ্ঠানের ওপর নজর রয়েছে ভারতের আর্থিক তদন্ত সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার (সিবিআই)।
বিতর্কিত ওই বন্ড ব্যবস্থায় সবচেয়ে লাভবান দলটির নাম বিজেপি। দলটি ২০১৮ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত ১২ হাজার কোটি রুপি অনুদান পায়।
ভারতের নির্বাচন কমিশন গত বৃহস্পতিবার ইলেকটোরাল বন্ডের তথ্য প্রকাশ করে। স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়া (এসবিআই) এসব তথ্য আদালতের নির্দেশে কমিশনকে গত ১২ মার্চ জমা দেয়। এতেই উঠে আসে, বিতর্কিত প্রতিষ্ঠান রাজনৈতিক দলের নামে সবচেয়ে বেশি অর্থ অনুদান আকারে জমা দিয়েছে।
তামিলনাড়ুভিত্তিক ফিউচার গেমিং অ্যান্ড হোটেল সার্ভিসেস নামের ওই প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার সান্তিয়াগো মার্টিন যিনি ‘লটারি রাজা’ নামে পরিচিত। ভারতের কয়েকটি গণমাধ্যম বলছে, একসময় মিয়ানমারের ইয়াঙ্গুনে একজন শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন তিনি। ১৯৮৮ সালে ভারতে ফিরে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন লটারি সংস্থা। যাত্রার শুরুর দিকে সরকারি লটারি প্রকল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা ছিল এটির। এ সংস্থার বিস্তার রয়েছে কর্নাটক, কেরালাসহ উত্তর-পূর্বে রাজ্যগুলোতেও। রিয়েল এস্টেট ও টেক্সটাইলসহ নানা খাতে বিনিয়োগ করে পরবর্তীকালে নিজেকে অল ইন্ডিয়া ফেডারেশন অব লটারি ট্রেড অ্যান্ড অ্যালায়েড ইন্ডাস্ট্রিজের প্রধান হিসেবে আবির্ভূত হন তিনি। ভারতে লটারিকে বৈধতা অর্জন করতে তাকে অগ্রণী ভূমিকায় দেখা গিয়েছিল।
বেনামি বন্ডের মাধ্যমে কারা লাভবান হয়েছেন এ সংক্রান্ত প্রতিবেদনে দেখা যায়, বিজেপির পরই সবচেয়ে লাভবান হওয়া দলটির নাম তৃণমূল কংগ্রেস। ইলেকটোরাল বন্ড ব্যবস্থার বিরুদ্ধে দলটি ছিল অন্যতম সমালোচক।