ভাড়া বাড়ছে না রেলের

ঈদের আগে আগামী ১ এপ্রিল থেকে রেলওয়ের ভাড়া বাড়ছে বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ করলেও এ ধরনের কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি বলে দেশ রূপান্তরকে নিশ্চিত করেছেন রেলমন্ত্রী মো. জিল্লুল হাকিম।

গতকাল রবিবার দুপুরে রেলমন্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ঈদের আগে কোনোভাবেই রেলের ভাড়া বাড়বে না। এমনকি নিকট ভবিষ্যতেও রেলের ভাড়া বাড়বে না।’

রেলের ভাড়া বৃদ্ধির প্রতিবেদনে রেলওয়ের ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক সরদার শাহাদাত আলীর উদ্ধৃতি দিয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে, ট্রেনে রেয়াতি সুবিধা প্রত্যাহার করে ভাড়ার হার সমন্বয় করা হবে। দীর্ঘদিন রেলের ভাড়া বাড়ানো হয়নি। জ¦ালানিসহ অন্যান্য যন্ত্রাংশের দাম বৃদ্ধির ফলে রেল পরিচালন ব্যয় বেড়েছে। আয় বাড়ানোর লক্ষ্যে এখন যে ছাড় দেওয়া হচ্ছে, তা আর না দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে জিল্লুল হাকিম বলেন, ‘তিনি (ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক) কী সিদ্ধান্ত দেওয়ার মালিক নাকি? আমি বলছি, এখন ভাড়া বাড়বে না। কখনো বাড়ার প্রয়োজন হলে আপনাদের (সাংবাদিকদের) সঙ্গে আলাপ করে পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করে সাধারণ মানুষকে জানান দিয়ে তারপর আমরা চিন্তা করব। এ নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্বের কোনো কারণ নেই।’

রেলে ভাড়া বৃদ্ধির বিষয়ে জানতে গতকাল রেলওয়ের ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক সরদার শাহাদাত আলীর সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমি একটা হাসপাতালে আছি। পরে কথা বলব।’

এদিকে রেল মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে জানান, সর্বশেষ ২০১৬ সালে রেলের ভাড়া ৭ থেকে ৯ শতাংশ বাড়ানো হয়। এই সময়ের মধ্যে সবকিছুর দাম বেড়েছে। তা ছাড়া রেল প্রতিবছরই লোকসান গুনছে। এসব কারণে রেলের ভাড়া বৃদ্ধি করা দরকার। কিন্তু গত মাসেই বিদ্যুতের দাম বাড়িয়েছে সরকার। পাশাপাশি নিত্যপ্রয়োজনীয় অন্যান্য পণ্যের দামের ঊর্ধ্বগতির কারণে এমনিতেই  দৈনন্দিন খরচ জোগাতে গিয়ে মানুষের নাভিশ্বাস অবস্থা। এমন পরিস্থিতিতে আপাতত ট্রেনের ভাড়া বাড়ানোর পরিকল্পনা নেই। এ ক্ষেত্রে সবশ্রেণির যাত্রীদের ভাড়া না বাড়িয়ে দূরপাল্লার যাত্রীদের রেয়াতি সুবিধা প্রত্যাহারের কথা ভাবা হচ্ছে। সে ক্ষেত্রে দূরপাল্লা এবং অতিরিক্ত সংযোজিত কোচের যাত্রীদের ভাড়া বাড়বে। এটা নিয়ে আলোচনা চলছে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করতে আরও কিছুটা সময় লাগবে।

বর্তমানে রেলে প্রতি কিলোমিটারে ভিত্তি ভাড়া ৩৯ পয়সা। এর সঙ্গে শীতাতপনিয়ন্ত্রিত (এসি) ও অন্যান্য উচ্চ শ্রেণির বিভিন্ন হারে ভাড়ার সঙ্গে ভ্যাট যোগ হয়ে মোট ভাড়া নির্ধারণ করা হয়।

রেলওয়ে সূত্রমতে, রেলের ভাড়ার ক্ষেত্রে সরকার ১৯৯২ সালে দূরত্বভিত্তিক রেয়াতি সুবিধা চালু করে। সারা বিশ্বেই বাড়তি ভ্রমণে উৎসাহী করতে ছাড় দেওয়া হয়। এই সুবিধার কারণে স্বাভাবিক ভাড়ার তুলনায় ১০০ কিলোমিটার পরে ২৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত ২০ শতাংশ, ২৫১ কিলোমিটার থেকে ৪০০ কিলোমিটার পর্যন্ত ২৫ শতাংশ, ৪০০ কিলোমিটারের বেশি দূরত্বে যাত্রার জন্য ৩০ শতাংশ ছাড় দেওয়া হয়। অবশ্য গত বছরের শেষের দিকে চালু হওয়া ঢাকা-কক্সবাজার পথে চলাচলকারী ট্রেনগুলোতে কোনো ছাড় রাখা হয়নি। সরকার এখন সব রুটের ট্রেনে এই রেয়াতি সুবিধা বাদ দেওয়ার কথা ভাবছে।

এদিকে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান তাদের প্রয়োজনে অনেক সময় এক বা একাধিক কামরা ভাড়া করে থাকে। এ ক্ষেত্রে রেলওয়ে তাদের পরিকল্পিত কোচের চেয়ে বাড়তি কোচ সংযোজন করে থাকে। কামরার আসনসংখ্যা বিবেচনায় নিয়ে স্বাভাবিকভাবে যাত্রী পরিবহন করলে যে ভাড়া আসে, তাই গ্রাহকের কাছ থেকে আদায় করে রেলওয়ে। এতে জ্বালানি খরচ বেড়ে যাওয়া ছাড়াও অতিরিক্ত জনবল নিয়োগ দিতে হচ্ছে। যাত্রীর আবেদনে সংযোজন করা এসব অতিরিক্ত বগির ভাড়া বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে রেলের। এ ক্ষেত্রে সংযোজিত বগির শোভন শ্রেণিতে ২০ শতাংশ এবং শীতাতপনিয়ন্ত্রিত (স্নিগ্ধা) ও অন্যান্য উচ্চ শ্রেণিতে ৩০ শতাংশ রিজার্ভেশন সার্ভিস চার্জ যোগ করার কথা ভাবা হচ্ছে।

রেয়াতি সুবিধা প্রত্যাহার এবং রিজার্ভেশন চার্জ আরোপ করা গেলে বছরে প্রায় ৩০০ কোটি টাকা রাজস্ব বাড়বে বলে রেলওয়ে প্রাক্কলন করেছে। বর্তমানে বছরে রেলের লোকসানের পরিমাণ গড়ে প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা।