ডলার-সংকটের কারণে ইস্পাতের কাঁচামাল আমদানির জন্য ব্যাংকগুলো প্রয়োজন অনুযায়ী ঋণপত্র খুলতে পারছে না। সে কারণে ইস্পাতের কাঁচামালের সরবরাহব্যবস্থা ব্যাহত হচ্ছে। আবার ডলারের দাম বেড়ে যাওয়ার কারণে ব্যাংক থেকে কোম্পানিগুলোর ঋণপত্রের সীমা দেশীয় মুদ্রায় ৪৭ শতাংশ পর্যন্ত হ্রাস পেয়েছে।
ডলার-সংকট, মূল্যবৃদ্ধিসহ ১০টি সমস্যায় ইস্পাত খাত ধুঁকছে বলে দাবি করেছেন বাংলাদেশ স্টিল ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএসএমএ) নেতারা। তারা বলেছেন, ইস্পাত খাতকে রক্ষা করতে হলে অবিলম্বে সুরক্ষা দেওয়া প্রয়োজন। সুরক্ষার অংশ হিসেবে স্বল্পমেয়াদি ঋণের মেয়াদ ১২ বছর পর্যন্ত বৃদ্ধি করে দীর্ঘমেয়াদি ঋণের রূপান্তর করার পাশাপাশি বিদ্যুতের নতুন দাম ফেব্রুয়ারির পরিবর্তে মার্চ থেকে কার্যকর, ইস্পাত খাতের উৎসে কর কর্তন ২ শতাংশের পরিবর্তে দশমিক ৫০ শতাংশ নির্ধারণ এবং শিল্প মন্ত্রণালয়ের সিএম সনদের ফি কোম্পানির বার্ষিক লেনদেনের ভিত্তিতে নির্দিষ্ট করে দেওয়ার দাবি করেছেন নেতারা।
রাজধানীর পুরানা পল্টনে গতকাল মঙ্গলবার ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরামের (ইআরএফ) মিলনায়তনে আয়োজিত ‘ডলার, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধিতে স্টিলশিল্পের চরম সংকট’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন বিএসএমএর নেতারা। এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনের সভাপতি মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম।
মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘ব্যাংকে স্থানীয় মুদ্রায় আমাদের মোট ঋণসীমা একই অবস্থানে থাকলেও সেই ঋণের ক্রয়ক্ষমতা ৫০ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। ডলারের মূল্য যখন ৮৫ টাকা ছিল, তখন আমরা ১ কোটি ২০ লাখ ডলার মূল্যের ঋণপত্র পেতাম। এখন ডলারের দাম বাড়ার কারণে ঋণপত্রের সীমা কমে ৮০ লাখ ডলার হয়েছে।’
সভাপতি আরও বলেন, ইস্পাত খাতের কাঁচামাল, রাসায়নিক ও যন্ত্রাংশের ৮৫ শতাংশই আমদানিনির্ভর। বর্তমানে ডলারের দাম বেড়ে যাওয়ায় চলতি মূলধনে ঘাটতি সৃষ্টি হয়েছে। অতিরিক্ত পরিমাণে চলতি মূলধনের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।
বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, গত বছর তিন দফায় বিদ্যুতের দাম ১৫ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। গত ২৯ ফেব্রুয়ারি পুনরায় দাম বাড়ানো হয়েছে। বিদ্যুতের মূল্য ভূতাপেক্ষভাবে কার্যকর করা মৌলিক আইনের পরিপন্থী বলেও মন্তব্য করেন তিনি।