নেতারাই আমার কাছে নিয়ে আসেন : হাফিজ

দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের আগে “কিংস পার্টি” নামে পরিচিতি পাওয়া বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের (বিএনএম) সঙ্গে তার নিজের এবং ক্রিকেটার সাকিব আল হাসানের সম্পৃক্ততার যে খবর পত্রিকায় এসেছে, তা সঠিক নয় বলে দাবি করেছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, ‘সামরিক বাহিনীর কয়েকজন অবসরপ্রাপ্ত সদস্য সাকিব আল হাসানকে আমার কাছে নিয়ে আসেন।’

গতকাল মঙ্গলবার বনানীর নিজ বাসভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে হাফিজ উদ্দিন এসব দাবি করেন।

তিনি বলেন, ‘বিএনএমে যোগ দেওয়ার জন্য আমাকে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল, আমি গ্রহণ করিনি। আমি বিএনপির শীর্ষ নেতাদের নির্বাচনের আগেই বলেছি। যারা অফার নিয়ে এসেছিল, তাদের বলেছি, এই বয়সে রাজনৈতিক দল পরিবর্তন করতে পারব না। আমার রাজনৈতিক কোনো বিলাস নেই। আমি নির্বাচন কমিশনে কাউকে পাঠাইনি। বিএনপির অনেক সংসদ সদস্য যোগযোগ করেছিল, আমি তাদের নিরস্ত করেছি। বিএনএমের অনেকে অভিযোগ করে বলেছেন, আমি নাকি টালবাহনা করেছি।’

হাফিজ বলেন, ‘আমার কাছে সামরিক বাহিনীর কয়েকজন বারবার অফার নিয়ে আসেন সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের নির্দেশে। এটা তো গোপন করার কিছু নয়। সরকারের পক্ষে যারা যোগাযোগ করেছেন তাদের বলেছি, ৩২ বছরের রাজনৈতিক জীবনে দল পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। আমি রাজনীতি থেকে অবসর নিতে চাই।’

তিনি বলেন, আমি নির্বাচন কমিশনে কাউকে পাঠাইনি, মনোনয়নপত্র সংগ্রহ কিংবা তদবির করার জন্য কাউকে কখনো পাঠাইনি। এই বিএনএম সৃষ্টি করেছেন কয়েকজন অবসরপ্রাপ্ত সামরিক কর্মকর্তা, যারা যোগ দেওয়ার অনুরোধ করেছেন এবং আমার বাসায় এসেছেন কয়েকবার। আমার বাসায় ওই দলটির কোনো সভাও হয়নি। সব মিথ্যাচার।’

উল্লেখ্য, কয়েকজন অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা ও বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত নেতা বিএনএম গঠন করেন। এর পেছনে সরকারের ভূমিকা ছিল বলে তখন এ নিয়ে বেশ আলোচনা ছিল।

সাকিব সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘সাকিব আল হাসান দেশের গৌরব, বিশে^র সেরা অল রাউন্ডার। কোনো দিন রাজনীতি করে নাই। তিনি রাজনীতি করতেই পারেন। সাবেক ক্রীড়াবিদ হিসেবে আমার কাছে এসেছিলেন, আমি তাকে কোনো উৎসাহ দিইনি। আমি যোগদান না করায় তিনিও তার পথ বেছে নিয়েছেন। যেখান থেকে সহজে জেতা যাবে, সেই নির্বাচনে কোনো প্রতিপক্ষ থাকবে না, সম্পূর্ণ পাতানো এই নির্বাচনে তিনি এমপি হয়েছেন, এটি তার বিষয়। এ নিয়ে যে কাল্পনিক সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে, এটা সঠিক নয়।’

বিএনপি নেতা হাফিজ বলছেন, ‘সাকিবের সঙ্গে সেই সাক্ষাতের এত দিন পরে দুটি পত্রিকা মিথ্যা প্রচার করেছে এবং এতে আমি মর্মাহত। আমার ধারণা জন্মেছে, সরকারের বিভিন্ন অপকর্ম লুকিয়ে রেখে জনগণের দৃষ্টি অন্যত্র নিবদ্ধ করার জন্যই আমার বিরুদ্ধে এই বিএনএম সৃষ্টির কাল্পনিক কাহিনির অবতারণা তারা করেছে।’

তিনি বলেন, ‘দেশে গণতন্ত্র নেই, দেশে নোংরা রাজনীতি বিরাজমান। যে দলই ক্ষমতায় থাকে নির্বাচনী বৈতরণী পার হতে অনেক নোংরা খেলা খেলে থাকে।’

তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘আমার মনে হয় সরকার নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকার জন্যই আমার বিরুদ্ধে এটা করেছে। আমি সরকারের শেষ সময়ে বাণিজ্যমন্ত্রী ছিলাম। আমি খেজুরের বদলে বরই খেতে বলিনি। সিন্ডিকেট করতে দিইনি। আমি বাবার দেওয়া বাড়িতে থাকি। আমার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) কোনো অভিযোগও নাই।’

আমি কি বিএনএমে যোগ দিয়েছি এমন প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, ‘কী দোষ আমার। আমার বিরুদ্ধে এমন কিছু না করার অনুরোধ করছি।’ দল ও দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া নিয়ে কখনো অসংগতিপূর্ণ কথা বলেননি বলেও সংবাদ সম্মেলনে জানান হাফিজ উদ্দিন আহমেদ।